‘হিরোগিরি দেখাতে গিয়ে’ শিক্ষক খুনের আসামি জিতু রিমান্ডে

স্কুলশিক্ষার্থী আশরাফুল আহসান জিতু কী কারণে তারই শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যা করল, তা জানতে তাকে পাঁচ দিন ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করবে পুলিশ।

আদালত প্রতিবেদকও সাভার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 June 2022, 01:35 PM
Updated : 30 June 2022, 01:36 PM

১৯ বছর বয়সী এই তরুণকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব জানিয়েছে, স্কুল ক্যাম্পাসে বান্ধবীকে নিয়ে ঘোরাফেরা করতে ‘নিষেধ করেছিলেন’ শিক্ষক উৎপল সরকার; সেই ক্ষোভ আর ‘হিরোইজম দেখানোর চেষ্টায়’ জিতু তাকে স্টাম্প দিয়ে বেধড়ক পিটিয়েছিলেন।

গ্রেপ্তারের পরদিন হেফাজতে রেখে জিতুকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন নিয়ে বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকার বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ।

শিক্ষক খুনের আলোচিত এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই এমদাদুল হক ‘মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য’ জিতুকে ১০ দিন হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন।

জিতুর পক্ষে কোনো আইনজীবী আদালতে দাঁড়াননি। কাঠগড়ায় দাঁড়ানো এই তরুণ বিচারকের জিজ্ঞাসায় বলেন, এর আগে একটি ‘মেয়েলি বিষয়ে’ তার বাবার কাছে নালিশ করেছিলেন শিক্ষক উৎপল। সে কারণে তিনি ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পিটিয়েছিলেন।

শুনানি শেষে ঢাকার বিচার বিভাগীয় জ্যেষ্ঠ হাকিম রাজিব হাসান আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

জিতুর বাবা উজ্জ্বল হোসেনও এখন রয়েছেন পুলিশ রিমান্ডে। গাজীপুর থেকে জিতু গ্রেপ্তার হওয়ার আগের দিন মঙ্গলবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে তার বাবাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

জিতু ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার হাজী ইউনুছ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র। ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই শিক্ষক উৎপল সরকার। তিনি কলেজের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।

উৎপল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা করেছেন তার ভাই অসীম কুমার সরকার।

মামলার বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, গত ২৫ জুন দুপুরে কলেজের মাঠে উৎপল সরকারের উপর অতর্কিত হামলা চালায় জিতু। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুদিন পর উৎপল মারা যান।

ঘটনার বর্ণনায় ওই কলেজের অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বলেছিলেন, “আমাদের স্কুলে মেয়েদের ক্রিকেট খেলা চলছিল। দুপুরে মাঠের একপাশে দাঁড়িয়ে থাকা উৎপলকে হঠাৎ করে এসে ক্রিকেট খেলার স্টাম্প দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করতে থাকে ওই ছাত্র।”

ভাই অসীম সরকার বলছেন, মেয়েদের উত্ত্যক্ত করার ওই ছাত্রকে শাসন করেছিলেন উৎপল। সেই কারণেই হামলা হয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

অধ্যক্ষ সাইফুল হাসান বলেন, “তিনি (উৎপল) ছাত্রদের বিভিন্ন সময় চুল কাটতে বলাসহ বিভিন্ন আচরণগত সমস্যা নিয়ে কাউন্সেলিং করতেন। বিভিন্ন অপরাধের বিচারও করতেন তিনি। হয়ত কোনো কারণে সেই শিক্ষকের ওপর ক্ষোভ থেকে ছাত্রটি এই ঘটনা ঘটিয়েছে।”

শিক্ষক হত্যাকাণ্ডের এমন প্রতিবাদ চলছে দেশজুড়ে।

জিতুকে গ্রেপ্তারের পর র‌্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল মঈন বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “জিতুর বিরুদ্ধে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খলতার অভিযোগ রয়েছে। ইভটিজিং, স্কুলের ভেতরে ধূমপান, স্কুল কম্পাউন্ডে বেপরোয়া বাইক চালানোর মতো অনেক অভিযোগ রয়েছে।

“স্থানীয় প্রভাবশালী পরিবারের এই ছেলে ‘জিতু দাদা’ নামে একটি কিশোর গ্যাং তৈরি করেছিল। বিভিন্ন সময় মাইক্রোবাস ভাড়া করে ঘুরত, মানুষকে হেনস্থা করত। তার বিরুদ্ধে বিচার দেওয়া হলে আরও ভয়-ভীতি দেখাত, মোটরসাইকেল নিয়ে শোডাউন করত।”

র‌্যাবের ভাষ্য, জিতুর এসব কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি হিসেবে উৎপল সরকার চেষ্টা করেছেন জিতুকে ‘কাউন্সেলিং’ করতে, এ ধরনের কাজ থেকে বিরত রাখতে। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হয়ে এই তরুণ শিক্ষকের উপর হামলা চালায়।

শিক্ষক উৎপল মামলার এজাহারে জিতুর বয়স ১৬ থাকায় তা নিয়েও প্রশ্ন উঠে। আইন অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সীদের অপরাধের বিচার হয় কিশোর আইনে।

তবে জিতুর বয়স ১৯ বছর বলে জানিয়েছে র‌্যাব। তা হলে তাকে প্রাপ্তবয়স্ক ধরেই বিচার হবে।

আরও খবর

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক