কারাবন্দি ডেসটিনির হারুনের জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ

গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের দায়ে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে থাকা ডেসটিনি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট সাবেক সেনাপ্রধান হারুন-অর-রশীদের চিকিৎসার জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছে হাই কোর্ট।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 June 2022, 10:58 AM
Updated : 30 June 2022, 04:56 AM

আদালতের আদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে এ বোর্ড গঠন করে তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।

এক আবেদনের শুনানির পর বুধবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

আদালতে হারুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রবিউল আলম বুদু ও আইনজীবী মাইনুল ইসলাম। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

হারুনের আইনজীবী মাইনুল ইসলাম বলেন, “সাবেক সেনা প্রধান হারুন অর-রশীদ ৭৫ বছরের একজন বৃদ্ধ মানুষ, তিনি বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন। সেই অবস্থায় তার যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য আমরা এই আবেদন করেছিলাম।”

মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা হারুন সেনা প্রধানর দায়িত্ব পালনের পর ২০০২ সালে অবসরে যান। এর কয়েক বছর পর যোগ দেন বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান ডেসটিনি গ্রুপে।

গত ১২ মে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় হারুন এবং প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আমীনসহ ৪৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং তাদের ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকা জরিমানার রায় দেন ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শেখ নাজমুল আলম।

এর মধ্যে রফিকুল আমিনকে ১২ বছর কারাদণ্ড এবং ২০০ কোটি টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে।

আর হারুন-অর-রশীদকে ৪ বছর কারাদণ্ড এবং সাড়ে ৩ কোটি টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

গত ৯ জুন হারুন-অর-রশীদ দণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করলে শুনানির জন্য গ্রহণ করে হাই কোর্ট। এরপর মঙ্গলবার তার চিকিৎসায় মেডিকেল বোর্ড গঠন করতে হাই কোর্টে আরেকটি আবেদন করা হয়। এ আবেদনের শুনানি শেষে বুধবার আদেশ দিল আদালত।

১০ বছর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এ মামলায় ডেসটিনি মাল্টিপারপাস কো অপারেটিভ সোসাইটির প্রায় ১ হাজার ৮৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছিল এ মামলায়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক