শুরু হচ্ছে প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি, নেওয়া হবে ৩৫ তথ্য

দেশে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল পদ্ধতিতে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা’ মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে, শুরুতেই গণনা করা হবে ভাসমান মানুষদের।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 June 2022, 02:25 PM
Updated : 14 June 2022, 02:52 PM

সারাদেশে একযোগে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬৯৭ জন গণনাকারী ট্যাবের (কম্পিউটার) সাহায্যে সাত দিন ধরে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এ শুমারি পরিচালনা করবেন। এতে প্রতিটি ব্যক্তিকে ৩৫টি তথ্য দিতে হবে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকল্প পরিচালক মো. দিলদার হোসেন বলেন, “মঙ্গলবার রাত শুন্য সময় থেকে দেশের প্রায় ২০ হাজার স্পট থেকে ভাসমান ও ছিন্নমুল মানুষ গণনার মাধ্যমে শুরু হচ্ছে ষষ্ঠ জনশুমারি। বুধবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ভাসমান মানুষ গণনা করা হবে।”

এরপর বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুমারির মূল কাজ শুরু হয়ে আগামী ২১ জুন এ শুমারি শেষ হবে।

ডিজিটাল এ শুমারিতে প্রায় ৪ লাখ ট্যাব ব্যবহার করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের শুমারিতে ৬৩ হাজার ৫৪৮জন সুপারভাইজার, ৩ হাজার ৭৭৯ জন আইটি সুপারভাইজার, তিন হাজার ৭৭৯ জন জোনাল অফিসার, ১৬৩ জন জেলা শুমারি সমন্বয়কারী এবং ১২ জন বিভাগীয় শুমারি সমন্বয়কারীর মাধ্যমে শুমারিটি সম্পন্ন করা হবে।

জনশুমারি আগে আদমশুমারি নামে পরিচিত ছিল। সর্বশেষ পঞ্চম শুমারি হয়েছিল ২০১১ সালে। প্রতি ১০ বছর অন্তর এ শুমারি হওয়ার কথা থাকলেও মহামারীর কারণে গত বছর তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।

এবারের শুমারিতে ব্যবহৃত ট্যাবগুলোতে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক দিলদার বলেন, একজন গণনাকারী প্রতিটি খানার তথ্য নিয়ে তার ট্যাবে থাকা প্রশ্নপত্র পূরণ করবেন। প্রতিটি প্রশ্নপত্র পূরণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেডের ডাটা সেন্টারে জমা হবে। সেখান থেকে পরিসংখ্যান ব্যুরোর ডাটা সেন্টারে জমা হবে।

এবারের শুমারিতে একজন মানুষের কাছ থেকে মোট ৩৫ ধরনের তথ্য নেওয়া হচ্ছে। কোনও পরিবারের সদস্য বিদেশে থাকলে তাকেও গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আবার যেসব বিদেশি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন, তাকেও গণনা করা হবে।

এর মাধ্যমে প্রবাসীদের সঠিক সংখ্যা এবং বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশিদের সংখ্যা জানা যাবে বলে সরকারের তরফে জানানো হয়েছে।

দিলদার হোসেন বলেন, এবারের শুমারিতে দেশের প্রতিটি খানা ও খানার সদস্যদের গণনা করে মোট জনসংখ্যা ও দেশের সব বসতঘর বা বাসগৃহের সংখ্যা নিরূপণ করা হবে।

জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ প্রকল্পের আওতায় গৃহের সংখ্যা ও ধরন, বাসস্থানের মালিকানা, খাবার পানির প্রধান উৎস, টয়লেটের সুবিধা, বিদ্যুৎ সুবিধা, রান্নার জ্বালানির প্রধান উৎস এসব তথ্যও সংগ্রহ করা হবে।

জনমিতির পাশাপাশি আর্থ-সামাজিক তথ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, বৈদেশিক রেমিট্যান্স, খানা সদস্যদের বয়স, লিঙ্গ, বৈবাহিক অবস্থা, ধর্ম, প্রতিবন্ধিতা, শিক্ষা, কর্ম, প্রশিক্ষণ, মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার, ব্যাংক, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, জাতীয়তা, নিজ জেলা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

দেশের সব নাগরিককে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়ে প্রকল্প পরিচালক দিলদার বলেন, এসব তথ্য গোপন রাখা হবে; কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে তথ্যগুলো যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।

অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক শামসুল আলম বলেন, “দেশের সকল মানুষ ও অঞ্চলভিত্তিক সুষম উন্নয়নের জন্য সঠিক তথ্যের প্রয়োজন। এ শুমারির মাধ্যমে দেশে কোন অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও মানব উন্নয়নের কী অবস্থা তা বের হয়ে আসবে। পরবর্তীতে সরকার সেই রূপরেখা ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।”

প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মহাপরিচালক মো. তাজুল ইসলামসহ  আরও অনেকে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বাণী

জনশুমারি উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার পূরণ ও সমৃদ্ধ সোনার বাংলা গঠনে প্রথম ডিজিটাল ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

শুমারির গুণগতমান রক্ষা করে দ্রুততম সময়ে শুমারির প্রতিবেদন প্রকাশ করার তাগিদ দেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ সর্বক্ষেত্রে সুষম ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রমাণক নির্ভর পরিকল্পনা প্রণয়ন ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য নির্ভুল তথ্য-উপাত্ত থাকা আবশ্যক।

“রূপকল্প ২০৪১, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি)-সহ অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণে ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ এর তথ্য-উপাত্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভাণ্ডার হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা রাখি।”

জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে জনশুমারি ও গৃহগণনায় অন্তর্ভুক্ত হতে সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সব গৃহ ও ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ দ্রুততম সময়ে শুমারির প্রতিবেদন প্রকাশে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।

পরিসংখ্যানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, টেকসই উন্নয়ন-পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সঠিক, নির্ভরযোগ্য এবং সময়োপযোগী পরিসংখ্যান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। আওয়ামী লীগ সরকার সকলক্ষেত্রে তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য গ্রহণযোগ্য ও মানসম্পন্ন পরিসংখ্যান সংগ্রহ এবং প্রকাশ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

“আমি আশা করি, ‘জনশুমারি ও গৃহগণনা-২০২২’ হতে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত জাতীয় সম্পদের সুষম বণ্টন, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, মানসম্মত শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়নসহ অন্যান্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পরিবীক্ষণে যথাযথ ভূমিকা পালন করবে।”

শুমারিকর্মীদের সঠিক সংগ্রহ করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে তাদেরন সহযোগিতা করতে সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আরও পড়ুন