টিপু খুন হন স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতার পরিকল্পনায়: র‌্যাব

ঢাকার শাহজাহানপুরে আওয়ামী লীগ নেতা জাহিদুল ইসলাম টিপু খুনের পরিকল্পনাকারী হিসেবে ক্ষমতাসীন দলটিরই স্থানীয় এক নেতাকে চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে র‌্যাব।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 April 2022, 06:14 AM
Updated : 2 April 2022, 12:41 PM

তিনি হলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক (৫২)।

তিনিসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের পর শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মুখপাত্র খন্দকার আল-মঈন বলেছেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে টিপু হত্যাকাণ্ড ঘটে।

গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন- আবু সালেহ শিকদার ওরফে শুটার সালেহ (৩৮), নাছির উদ্দিন ওরফে কিলার নাছির (৩৮) এবং মোরশেদুল আলম ওরফে কাইল্লা পলাশ (৫১)

র‌্যাব জানিয়েছে, মুগদা, শাহজাহানপুর ও মিরপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের সময় নজরদারির কাজে ব্যবহার করা মোটর সাইকেল এবং হত্যার জন্য দেওয়া ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

টিপু এক সময় মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। কিন্তু ২০১৩ সালে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল হক মিল্কী হত্যামামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর দলে পদ হারান তিনি।

পরে অবশ্য ওই মামলা থেকে টিপু অব্যাহতি পান বলে তার সহকর্মীরা জানিয়েছেন। তিনি দলীয় পদ আর ফিরে না পেলেও তার স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ডলি ওই এলাকার নারী ওয়ার্ড কাউন্সিলর।

যে ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ফারুক গ্রেপ্তার হয়েছেন, সেই ১০ নম্বর ওয়ার্ডে টিপুর রেস্তোরাঁ রয়েছে, যেখানে তিনি নিয়মিত বসতেন।

এছাড়া জাতীয় ক্রীড়া পরিষদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদারি করতেন টিপু। পাশাপাশি মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সদস্যও ছিলেন তিনি।

র‌্যাব মুখপাত্র আল মঈন বলেন, গ্রেপ্তার চারজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় সম্পৃক্ততা সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে।

“দীর্ঘদিন যাবৎ মতিঝিল এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, স্কুল-কলেজের ভর্তি বাণিজ্য, বাজার নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে টিপু ও হত্যার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে বিরোধ বিদ্যমান ছিল।”

হত্যাকাণ্ড দেশে হলেও তার নিয়ন্ত্রণ দুবাইয়ে হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “দেশ থেকে কিলার নাছির, কাইল্লা পলাশসহ আরও কয়েকজন জাহিদুল ইসলাম টিপুর অবস্থান সম্পর্কে বেশ কয়েকদিন যাবত মুসার কাছে তথ্য প্রেরণ করত। ঘটনার দিন সন্ধ্যার পর কিলার নাছির আনুমানিক চারবার জাহিদুল ইসলাম টিপুর অবস্থান সম্পর্কে মুসাকে অবহিত করে।”

টিপু হত্যাকাণ্ডের পর ঘুরেফিরে আসছে সুমন শিকদার মুসার নাম, যিনি তালিকাভুক্ত শীর্ষসন্ত্রাসী প্রকাশ-বিকাশের সহযোগী বলে পুলিশের ভাষ্য।

শাহজাহানপুরের আমতলী এলাকার রাস্তায় গত ২৪ মার্চ রাতে অস্ত্রধারীর গুলিতে নিহত হন টিপু (৫৪)। তার মাইক্রোবাসের পাশে দাঁড়িয়ে গুলি ছোড়ে হেলমেটধারী আততায়ী।

ওই সময় গাড়ির কাছেই রিকশায় থাকা বদরুন্নেছা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সামিয়া আফনান প্রীতিও গুলিতে নিহত হন। আহত হন টিপুর গাড়ি চালক মুন্না।

মাত্র মিনিটখানেকের মধ্যে কাজ সেরে হামলাকারী সড়ক বিভাজক টপকে গুলি করতে করতে রাস্তার অন্য পাশে অপেক্ষায় থাকা একটি মোটরসাইকেলে উঠে পালিয়ে যান।

এর আগে ওই হত্যা মামলায় মাসুম মোহাম্মদ আকাশ ও আরফান উল্লাহ দামাল দুজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ; যারা এখন রিমান্ডে রয়েছে। ডিবির ভাষ্য, আকাশই টিপুকে গুলি চালিয়েছিল।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সব মিলিয়ে ছয়জন গ্রেপ্তার হলেন।

টিপুর স্ত্রী ডলি শাহজাহানপুর থানায় যে মামলা করেন, তাতে আসামি হিসেবে কারও নাম উল্লেখ করা হয়নি।

পুরনো খবর

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক