ঢাকার কর্মজীবীদের অর্ধেক সাবওয়েতে যেতে পারবে: কাদের

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে পাতাল রেল নির্মাণ করা গেলে ঢাকার মোট কর্মজীবী মানুষের অর্ধেক সাবওয়ে ব্যবহার করতে পারবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 March 2022, 12:16 PM
Updated : 29 March 2022, 12:39 PM

তিনি বলেছেন,“সাবওয়ে নির্মাণের ফলে ঢাকা শহরের প্রায় ৮০ লাখ কর্মজীবী মানুষের মধ্যে অর্ধেক, অর্থাৎ প্রায় ৪০ লাখ মানুষ মাটির নিচে স্থানান্তর হবে এবং মাটির উপরিভাগ যানজট মুক্ত থাকবে।”

সাবওয়ে নির্মাণ ব্যয়বহুল হলেও ঢাকা শহরকে সচল রাখতে এর বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।

বুধবার ঢাকার বনানীর শেরাটন হোটেলে ঢাকা সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পের প্রতিবেদন উপস্থাপন উপলক্ষে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশের উন্নয়নের সঙ্গে রাজধানীর বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ‘বেমানান’ মন্তব্য করে কাদের বলেন, “পরিকল্পনা ছাড়াই এ শহর গড়ে উঠেছে। এমন অবস্থায় পাতাল রেল নির্মাণ প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।… আড়াই কোটি মানুষের এই নগরীতে সাবওয়ে নির্মাণ একমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বারাই সম্ভব।”

ঢাকার যানজট নিরসনে সরকার চারটি রুটে ২০৩০ সালের মধ্যে পাতাল রেল চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, “প্রথম পর্যায়ে নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ হাজার ৩০৬ মিলিয়ন ডলার। আর ২০৪০ সালের মধ্যে আরও চারটি এবং ২০৫০ সালের মধ্যে আরও পাঁচটি রুটে সাবওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সাবওয়ের জন্য নির্মিত টানেল ভূপৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ২৫ হতে ৭০ মিটার নিচ দিয়ে যাওয়ার কারণে জমি অধিগ্রহণ বা নির্মাণজনিত কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে না বলে সেমিনারে জানান সেতুমন্ত্রী।

প্রস্তাবিত সাবওয়ের চারটি রুট

রুট-১: কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল থেকে টঙ্গী জংশন (ঝিলমিল, তেঘরিয়া বাজার, মুসলিম নগর, সদরঘাট, গুলিস্থান, কাকরাইল, হাতিরঝিল, বিজিপ্রেস, রজনীগন্ধা মার্কেট, ভাষানটেক সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, কালশী, উত্তরা সেক্টর-১৭, নর্থ বাউনিয়া। উত্তরা সেক্টর-১৪, উত্তরা সেক্টর-১০, মাছিমপুর, টঙ্গী জংশন)।

রুট-২: গাবতলী থেকে ভেলাব ইউনিয়ন (গাবতলী, গোলারটেক, তুরাগ সিটি, জাতীয় চিড়িয়াখানা, পূর্বাচল। গাবতলী-ভোলাব ইউনিয়ন সেক্টর-১১, পূর্বাচল সেক্টর-২১, পূর্বাচল সেক্টর ইস্ট, পূর্বাচল মালুম সিটি, ভেলাব ইউনিয়ন)।

রুট-৩: কেরানীগঞ্জ থেকে সোনাপুর (কেরানীগঞ্জ, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, চক বাজার, নয়া বাজার। কেরানীগঞ্জ-সূত্রাপুর, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, ধনিয়া, রায়েরবাগ, মাতুইল, সাইনবোর্ড, সানারপাড়, মৌচাক, চিটাগাং রোড, কাঁচপুর, সোনাপুর)।

রুট-৪: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, আশুলিয়া মডেল টাউন ইস্ট, উত্তরা সেক্টর-১৬, উত্তরা নর্থ, আজমপুর কাঁচা বাজার, শাহ কবীর মাজার নর্থ, আফতাব নগর নর্থ, ওয়েস্ট নন্দীপাড়া, গ্রীন মডেল টাউন, মাতুয়াইল রোড, নন্দিপাড়া দক্ষিণ, বরুয়া সাউথ, বসুন্ধরা সাউথ, সানভ্যালি উত্তরপাড়া, শনির আখড়া, রায়েরবাগ, ইস্ট মোহাম্মদবাগ, ফতুল্লাহ স্টেশন, ডিসি অফিস নিউ কোর্ট, নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া)।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক