পি কে হালদারসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে আরও ১৩ মামলা

এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে ৫২৩ কোটি টাকা ১৩টি 'ভুয়া-কাগুজে' প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেখিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে বিদেশে পালিয়ে থাকা পি কে হালদারসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Feb 2022, 02:36 PM
Updated : 16 Feb 2022, 02:36 PM

কমিশনের তিন কর্মকর্তা বাদী হয়ে মঙ্গলবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ একটি এবং বুধবার ১২টি মামলা দায়ের করেন বলে সংস্থাটির সচিব মো. মাহবুব হোসেন জানান।

দুদকের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান, সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত ও উপ-সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াত বাদী হয়ে মামলা তিনটি দাবি করেছেন।

পি কে হালদার ছাড়া এ মামলায় এফএএস ফাইন্যান্সের সাবেক চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, ভাইস-চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাসেল শাহরিয়ার এবং প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য পরিচালক ও ঋণ সংশ্লিষ্টদের আসামি করা হয়েছে।

'ভুয়া ও কাগুজে' প্রতিষ্ঠান অ্যাণ্ড বি ট্রেডিংয়ের নামে জাল নথিপত্র প্রস্তুত করে কোম্পানির মালিক শুভ্রা রানী ঘোষের নামে ৪৪ কোটি টাকা ঋণ অনুমোদন দেখিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে মঙ্গলবার একটি মামলা হয়।

মামলা হওয়ার পর বিকেলেই রাসেল শাহরিয়ারকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এছাড়া আগেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগরে রয়েছেন অ্যান্ড বি ট্রেডিংয়ের মালিক শুভ্রা রানী ঘোষ।

দুদক সচিব বলেন, এফএএস ফাইনান্স থেকে এক হাজার ৩০০ কোটি আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে ৫২৩ কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ায় এই ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এর মধ্যে নেচার এন্টারপ্রাইজের নামে ৪৫ কোটি টাকা, নিউট্রিক্যালের নামে ৩০ কোটি টাকা, এস এ এন্টারপ্রাইজের নামে ৪২ কোটি টাকা, সুখাদা কোম্পানির নামে ৪০ কোটি টাকা, এমটিবি মেরিনের নামে ৪০ কোটি টাকা, হাল ইন্টারন্যাশনালের নামে ৪৫ কোটি টাকা, স্বন্দ্বীপ কর্পোরেশনের নামে ৪০ কোটি টাকা, দিয়া শিপিংয়ের নামে ৪৪ কোটি টাকা, মুন এন্টারপ্রাইজের নামে ৩৫ কোটি টাকা, বর্ণ কোম্পানির নামে ৩৮ কোটি টাকা, আরবি কোম্পানির নামে ৪০ কোটি টাকা এবং মেরিন ট্রাস্টের নামে ৪০ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে এসব মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নানা কৌশলে নামে-বেনামে অসংখ্য কোম্পানি খুলে শেয়ারবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ শেয়ার কেনেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনের আগে ও পরে নিজের আত্মীয়, বন্ধু ও সাবেক সহকর্মীসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে পর্ষদে বসিয়ে অন্তত চারটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেন।

এই চার কোম্পানি হল- ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (আইএলএফএসএল), পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)।

এসব কোম্পানি থেকে তিনি ঋণের নামে বিপুল অংকের টাকা সরিয়ে বিদেশে পাচার করেছেন বলে তদন্তকারীদের ভাষ্য। এর মধ্যে আইএলএফএসএল গ্রাহকদের অভিযোগের মুখে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে পি কে হালদারের বিদেশ পালিয়ে যান।

দুদক কর্মকর্তারা বলছেন, পি কে হালদার তার নিজের, আত্মীয়, বন্ধু ও কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন কোম্পানিতে বিপুল অংকের টাকা বিনিয়োগ করেছেন, যার ‘বৈধ কোনো উৎস’ অনুসন্ধানে মেলেনি।

এসব অভিযোগে আলাদা অনুসন্ধান ও তদন্ত করছেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে একটি অনুসন্ধান দল।

এফএএস ফাইন্যান্স, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং এবং পিপলস লিজিং থেকে প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা বিভিন্ন অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেখিয়ে আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে এর আগে ২২টি মামলা করেছে দুদক।

আরও পড়ুন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক