মুরাদের পদত্যাগপত্রেও ভুল

অডিও কেলেঙ্কারির জেরে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান ইমেইল করে যে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন, সেখানেও বেরিয়েছে ভুল।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 7 Dec 2021, 09:13 AM
Updated : 7 Dec 2021, 01:14 PM

পদত্যাগপত্রে মুরাদ লিখেছিলেন, তাকে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ২০২১ সালের ১৯ মে, যদিও ওই দায়িত্বে তিনি এসেছিলেন ২০১৯ সালের ১৯ মে।

ওই ভুলের কারণে এবং ইমেইলে পাঠানোয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তা ফেরত পাঠায়। পরে ভুল সংশোধন করে ‘হার্ড কপি’ আকারে দেওয়া হলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তা গ্রহণ করে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মাহমুদ ইবনে কাসেম মঙ্গলবার বিকালে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগপত্রের একটি হার্ডকপি হাতে পেয়েছি। এখন নিয়ম অনুযায়ী তা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নাতনিকে নিয়ে ‘বর্ণ ও নারীবিদ্বেষী’ বক্তব্যেরর কারণে মুরাদকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমালোচনা চলছিল কয়েক দিন ধরে।

এর মধ্যে এক চিত্রনায়িকাকে টেলিফোনে অশালীন মন্তব্য ও হুমকি দেওয়ার একটি অডিও ছড়িয়ে পড়লে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন।

নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পদত্যাগপত্র দেওয়ার কথা থাকলেও মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১২টার পর ইমেইলে মুরাদের পাঠানো পদত্যাগপত্র তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়। সেখানে তিনি লেখেন, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে ‘ব্যক্তিগত কারণে স্বেচ্ছায়’ তিনি পদত্যাগ করতে চান। 

মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন তখন বলেছিলেন, ওই পদত্যাগপত্র তারা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর ব্যবস্থা করছেন।   

কিন্তু ঘণ্টা দুই পর জানা যায়, ভুল থাকায় তা সংশোধন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ‘হার্ড কপি’ আকারে তা আবার জমা দিতে বলেছে। প্রতিমন্ত্রীর পার্সোনাল অফিসার (পিও) বিকালে সেই সংশোধিত পদত্যাগপত্র পৌঁছে দেন।

জামালপুরের আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান তালুকদারের ছেলে মুরাদ ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের টিকেটে জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী, মেস্টা ও তিতপল্যা) সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০১৮ সালে তিনি দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য হন।

২০১৯ সালে শেখ হাসিনা টানা তৃতীয়বার সরকার গঠন করলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মুরাদ। ওই বছর মে মাসে তাকে স্বাস্থ্য থেকে সরিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়।

চিকিৎসাশাস্ত্রের ডিগ্রিধারী মুরাদ হাসান জামালপুর-৪ (সরিষাবাড়ী, মেস্টা ও তিতপল্যা) আসনের এমপি। নিজের এলাকা জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের ‘স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক’ তিনি।

প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে মুরাদ হাসানের প্রতিক্রিয়া জানা যাচ্ছিল না। মঙ্গলবার পদত্যাগপত্র পাঠানোর পর এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি যদি কোন ভুল করে থাকি অথবা আমার কথায় মা-বোনদের মনে কষ্ট দিয়ে থাকি তাহলে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।”

আরও পড়ুন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক