রামপুরায় শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে বৃষ্টির বিরতি

বৃষ্টির মধ্যে ভিজে কিংবা ছাতা মাথায় সোমবারও ঢাকার রামপুরার সড়কে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেমেছিল শিক্ষার্থীরা। তবে বৃষ্টি চললে আগামী কয়েকদিনে কোনো কর্মসূচি পালন করবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Dec 2021, 09:25 AM
Updated : 6 Dec 2021, 09:25 AM

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনকারী এই শিক্ষার্থীরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে সড়কে প্রাণ হারানো শিক্ষার্থী মাঈনউদ্দিন ও নাঈম হাসানসহ নিহত অন্যদের স্মরণে শোক জানিয়েছে।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় পূর্ব ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে মুখে কালো কাপড় বেঁধে দাঁড়ান তারা। তবে আধা ঘণ্টার মধ্যেই কর্মসূচির ইতি টানেন।

ঘূর্ণিঝড় জোয়াদের প্রভাবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কর্মসূচি সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে বলে জানান এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া খিলগাঁও মডেল কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী সামিয়া।

পাশপাশি পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে সড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রতিবাদে নিহত মাঈনউদ্দিনের স্কুল রামপুরা একরামুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে নাঈম হাসানের কলেজ নটর ডেম পর্যন্ত সাইকেল শোভাযাত্রার ঘোষণা দেন সামিয়া। তবে এই কর্মসূচি পালনের দিনক্ষণ পরে জানানো হবে।

সামিয়া বলেন, “বৈরী আবহাওয়ারর কারণে আমরা আগামীকাল (মঙ্গলবার) কোনো কর্মসূচি রাখছি না। আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি আরও কয়েকদিন এরকম বৈরী আবহাওয়া থাকবে। যতদিন পর্যন্ত এই বৈরী আবহাওয়া থাকবে ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন স্থগিত থাকবে।”

তবে বৈরী আবহাওয়া কেটে আবারও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “সে ক্ষেত্রে আমাদের কিছু সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি আছে। একটি হচ্ছে মাঈনউদ্দিনের স্কুল থেকে নাঈম হাসানের কলেজ পর্যন্ত সাইকেল র‌্যালি করব। পরে নাঈমের কলেজে আমরা মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করব।”

এছাড়া নিরাপদ সড়কসহ অন্যান্য দাবিতে একটি ছাত্র-শিক্ষক সমাবেশ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, “সেই সমাবেশের দিনক্ষণও পরবর্তীতে আপনাদের মাধ্যমে (গণমাধ্যম) সবাইকে জানানো হবে।”

মুখে কালো কাপড় বেঁধে আন্দোলন করার ব্যাখ্যা করে খিলগাঁও মডেল কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী সামিয়া বলেন, “সড়কে নিহত শিক্ষার্থীসহ অন্যান্যদের স্মরণে শোক জানাতে আমরা মুখে কালো কাপড় বেঁধেছি। এই যে এতগুলো সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, কিন্তু প্রশাসন বরাবরই নীরব ভূমিকা পালন করছে। প্রশাসনের এই নীরবতার প্রতিবাদও এর মাধ্যমে করছি।”

তিনি বলেন, “আমাদের দাবি আদায় না হওয়ার পর্যন্ত আন্দোলন করে যাব। প্রয়োজন হলে আমরা আরও ২১ বছর আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

সরকার বাসের ভাড়া বাড়ানোর পর থেকে শিক্ষার্থীরা আগের মতো অর্ধেক ভাড়া দেওয়ার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। প্রথম দিকে তারা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সড়ক আটকে বিক্ষোভ দেখায়।

এর মধ্যে ২৪ নভেম্বর সিটি করপোরেশনের গাড়ির ধাক্কায় নটর ডেম কলেজের এক শিক্ষার্থী এবং ২৯ নভেম্বর রাতে রামপুরায় বাসের চাপায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থী নিহত হওয়ায় আন্দোলন নতুন মাত্রা পায়।

ঢাকা পরিবহন মালিক সমিতি ৩০ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষার্থীদের ‘হাফ’ ভাড়ার দাবি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু বিকালে তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন নয় দফা দাবিতে আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের একটি দল।

তাদের দাবি, কেবল ঢাকা মহানগরে নয়, ‘হাফ’ ভাড়া চালু করতে হবে সারা দেশে এবং সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টার বদলে তা হতে হবে ২৪ ঘণ্টার জন্য।

এর মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার থেকে রামপুরা ব্রিজে সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে প্রতিদিনই নিরাপদ সড়কের দাবিসহ অন্যান্য দাবিতে ভিন্ন ধরণের কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীদের একটি দল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক