বাস বন্ধ, রিকশা-অটোরিকশায় কয়েক গুণ বেশি ভাড়া

গণপরিবহন বন্ধ থাকার সুযোগ নিচ্ছে অটোরিকশা ও রিকশাগুলো। নিরুপায় হয়ে বেশি অর্থ খরচ করেই যাতায়াত করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Nov 2021, 12:16 PM
Updated : 6 Nov 2021, 12:37 PM

ডিজেলের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে ধর্মঘট করছে বাস-ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো। এতে শুক্রবারের পর শনিবারও জনভোগান্তি দেখা গেল রাজধানীর সড়কে।

শনিবার সকালে মেরুল বাড্ডা থেকে হাজিপাড়ায় বেটার লাইফ হাসপাতালে অসুস্থ বাবাকে নিয়ে এসেছিলেন শরিফুল গাজী। রিকশা ভাড়া দিয়েছেন দেড়শ টাকা।

শরিফুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সিএনজি পাচ্ছিলাম না। যাও দু-একটা পাইছি, ভাড়া চাইল আড়াইশ টাকা। পরে রিকশায় আসলাম।”

তিনি বলেন, “রাস্তায় প্রচুর রিকসা। কিন্তু ভাড়া নিচ্ছে দ্বিগুণেরও বেশি। মেরুল বাড্ডা থেকে এইখানে (বেটার লাইফ হাসপাতাল) ভাড়া বড় জোর ৮০ টাকা।”

শনিবার সরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকার কারণে স্বাভাবিক দিনের চেয়ে মানুষের চলাচল অনেকটাই কম ছিল। আর গণপরিবহন বন্ধ থাকার কারণে রাস্তায় যানজট নেই বললেই চলে। তারপরও স্বাভাবিক দিনের চাইতে বেশি ভাড়া হাঁকছেন সিএনজি অটোরিকশার চালকরা।  

মালিবাগ চৌধুরীপাড়া থেকে মহাখালী যেতে অটোরিকশা চালক নূর ইসলাম ভাড়া চাইলেন ৩৮০ টাক। সাড়ে তিনশর নিচে যাবেন না।

রাস্তায় যানজট নেই, তারপরও ভাড়া বেশি চাইছেন কেন- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সবদিন কি আর বেশি চাই? আইজকা একটু বেশি লাগবোই।”

কেন ‘বেশি লাগবোই’ তার সদুত্তর দিতে না পারলেও উদাহরণ দিলেন, “এই মাত্র চাইরশ টাকা দিয়া বনানী গেছে।”

রাস্তায় গণরিবহন না থাকায় প্রাইভেটকার, বাইক, অটোরিকশার চেয়ে দাপট বেড়েছে ব্যাটারিচালিত রিকশার। অনেকে দূরের গন্তব্যেও চলাচল করছিল রিকশায়। তবে বাড়তি ভাড়া দিয়ে।

১৮০ টাকা ভাড়া দিয়ে রামপুরা থেকে সদরঘাট যেতে দেখা গেছে লাবিব আর রাকিব নমের দুই ভাইকে। চারশ টাকার নিচে অটোরিকশা না পেয়ে রিকশায় সওয়ার হন তারা।

রিকসার চালক সুরুজ মিয়ার ভাষ্য, “মেইন রোড দিয়া এই রিকশা রিকস (রিস্ক) নিয়া চালাইতে হয়। পুলিশে ধরলে জরিমানা করে। বাড়তি টাকা দেওয়া লাগতে পারে। এই কারণে ভাড়া কয়েক টাকা বেশি। খুব তো বেশি না!”

রাইড শেয়ারিং অ্যাপ উবার বা পাঠাওয়ের কয়েকজন চালকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও এসব পরিবহনের ভাড়ার কোনো হেরফের হয়নি। 

উবারের বাইকচালক আসিফ কায়সার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উবারের নীতিমালা অনুযায়ী ভাড়া একই আছে। তবে যানজট না থাকায় দুদিন ধরে উল্টো ওয়েটিং চার্জ পাচ্ছি না।”

তবে অ্যাপে না চালিয়ে যারা চুক্তিতে বাইকে যাত্রী পরিবহন করছেন, তারা বেশি ভাড়া চাইছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবির মুখে ভাড়া বাড়ানোর বিষয়ে রোববার বিআরটিএ বৈঠক ডেকেছে। তার আগে সঙ্কট অবসানের কোনো ইঙ্গিত মিলছে না।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক