চলচ্চিত্রে পুলিশের অবদানও দেখানো উচিত: সাবেক আইজিপি শহীদুল হক

দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন, মানুষের বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিতে পুলিশের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় চলচ্চিত্রে এই বাহিনীর ইতিবাচক অবদানও তুলে ধরা উচিত বলে মনে করেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক।

নিজস্ব প্রতিবেদকমেহেরুন নাহার মেঘলা, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Dec 2020, 12:31 PM
Updated : 29 Dec 2020, 06:48 PM

‘নবাব এলএলবি’ চলচ্চিত্রেপুলিশের ভূমিকাকে ‘হেয় করে উপস্থাপনের জন্য’ পর্নোগ্রাফি মামলায় পরিচালক ও এক অভিনেতাগ্রেপ্তার হওয়ার পর এই অভিমত দিয়েছেন তিনি।

শহীদুল হক মঙ্গলবারবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চলচ্চিত্রে শুধুমাত্র পুলিশের নেতিবাচক দিক উপস্থাপননা করে দেশের ক্রান্তিকালে পুলিশের অবদানের সাথেও দর্শকের পরিচয় ঘটানো উচিত। তা নাহলে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর প্রতি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মধ্যে একটা বিরূপ ধারণা সৃষ্টিহবে। এর ফলে পুলিশ সদস্যরাও তাদের মনোবল হারিয়ে ফেলে।”

সাবেক এই পুলিশ প্রধানবলেন, “পুলিশ একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা এবং ফৌজদারি বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণঅংশ। পুলিশের সক্ষমতার উপর ভিত্তি করেই একটি দেশের বিচার ব্যবস্থার সফলতা ও ব্যর্থতানির্ভর করে। এত বড় একটি ফোর্সের মধ্যে দুই-চারজনের নৈতিকতার স্খলন ঘটতে পারে এবং সেক্ষেত্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।

“কিন্তু সার্বিকভাবেদেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মানুষের নিরাপত্তা প্রদান, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণঘটনাগুলোর পর্যবেক্ষণ- এই সব ক্ষেত্রে পুলিশ সক্ষমতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে।তাই ঢালাওভাবে নাটক-সিনেমার মাধ্যমে পুলিশকে নেতিবাচকরূপে দেখানো একেবারেই সমীচীন নয়।”

পুলিশ ও জনগণের মধ্যেমেলবন্ধন সৃষ্টির জন্য সবার মিলিত প্রচেষ্টা এবং সমাজের দর্পণ হিসেবে চলচ্চিত্রের মতোশিল্প মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর সম্মান অক্ষুণ্ণ রেখে নির্মাতাদের কাজ করার আহ্বান জানানতিনি।

এ বিষয়ে আগে থেকেইসচেতনতা সৃষ্টি এবং এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি ছিল বলেমনে করেন গোয়েন্দা পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের পরিদর্শক আবুলকালাম আজাদ, যিনি পরিচালক ও অভিনেতার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফির মামলাটি তদন্ত করছেন।

সম্প্রতি আই থিয়েটারনামের একটি অ্যাপে মুক্তি পাওয়া ‘নবাব এলএলবি’ চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্যে পুলিশকে হেয়করার অভিযোগে পর্নোগ্রাফি আইনে মামলায় চলচ্চিত্রটির পরিচালক অনন্য মামুন ও অভিনেতাশাহীন মৃধাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আবুল কালাম আজাদ বিডিনিউজটোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের বেশিরভাগ সিনেমাতেই অনেক আগে থেকেই পুলিশ সদস্যদেরনেতিবাচক চরিত্রে উপস্থাপন করে দর্শকের মনে পুলিশের প্রতি বিরূপ ধারণা সৃষ্টি করা হয়।এ ব্যাপারে চলচ্চিত্র নির্মাতা এবং বাংলাদেশ পুলিশের আগে থেকেই   সচেতনতা অবলম্বন জরুরি ছিল।”

তিনি বলেন, “দেশেরক্রান্তিকালে পুলিশ বাহিনীর নিরলস পরিশ্রম এবং তাদের ত্যাগ সম্পর্কে জনগণকে জানানোএবং পুলিশ সম্পর্কে দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এখন খুব দরকার।”

পর্নোগ্রাফি আইনে মামলায়গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পরিচালক অনন্য মামুন ও অভিনেতা শাহীনকে ঢাকায় তাদের বাসাথেকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে।

মামলার বাদী ছিলেনগোয়েন্দা পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিমের আরেকজন পুলিশ পরিদর্শককাজী মো. নাসিরুল আমীন।

শুক্রবার মামুন ও শাহীনকেঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে  কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে পুলিশ। আদালত আবেদনমঞ্জুর করে তাদের কারাগারে নেওয়ার আদেশ দেয়।

মামলায় বলা হয়, চলচ্চিত্রেরএকটি দৃশ্যে দেখানো হয় ধর্ষণের শিকার একজন নারী থানায় মামলা করতে গেছেন। তখন সেখানেপুলিশের একজন এসআই তাকে নানা প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করছেন।

এই জিজ্ঞাসাবাদে ‘অশ্লীলভাষা’ ব্যবহার করা হয়েছে এবং সেটাকে একটি অপরাধ হিসাবে দেখছে পুলিশ। সেই যুক্তিতেপর্নোগ্রাফি আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তবে চলচ্চিত্রটি কিংবাসংশ্লিষ্ট দৃশ্যটি বাতিল বা সংশোধনের বিষয়ে এখনও আবেদন করা হয়নি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরসঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা আবুল কালামআজাদ।

চলচ্চিত্রটির অর্ধেকঅংশ গত ১৬ ডিসেম্বর আই থিয়েটার অ্যাপে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বাকি অর্ধেক ১ জানুয়ারিমুক্তি দেওয়ার কথা রয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক