বাঘের রাজ্যে মাছ শিকার

জলে কুমির, ডাঙ্গায় বাঘ- সেই রাজ্যে তাদের বিচরণ। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শ্বাসমূলীয় বন সুন্দরবন নানা ধরনের পেশাজীবীদের জীবিকার উৎস। তাদের বড় একটি অংশ মৎস্যজীবী। সুন্দরবনের নদী-খালে মাছ ধরে বংশ পরম্পরায় জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন তারা।
  • সুন্দরবনের প্রায় ৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা পড়েছে বাংলাদেশের অংশে। ছোট বড় মিলিয়ে ৪৫০টির বেশি নদী-খাল রয়েছে ওই অংশে।

    সুন্দরবনের প্রায় ৬ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা পড়েছে বাংলাদেশের অংশে। ছোট বড় মিলিয়ে ৪৫০টির বেশি নদী-খাল রয়েছে ওই অংশে।

  • অভয়ারণ্য ঘোষিত ৩০টি খাল এবং ২৫ ফুটের কম প্রশস্ত যে কোনো খালে সারা বছরই মাছ ধরা নিষিদ্ধ। আর বাকি অংশের নদী-খাল ও জলাভূমিতে বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে জেলেরা মাছ ধরতে পারেন।

    অভয়ারণ্য ঘোষিত ৩০টি খাল এবং ২৫ ফুটের কম প্রশস্ত যে কোনো খালে সারা বছরই মাছ ধরা নিষিদ্ধ। আর বাকি অংশের নদী-খাল ও জলাভূমিতে বন বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে জেলেরা মাছ ধরতে পারেন।

  • ১ জুলাই থেকে ৩১ অগাস্ট- এই দুই মাস সুন্দরবনে মৎস্য প্রজনন মৌসুম। এ সময় সাধারণত সব ধরনের মাছই ডিম ছাড়ে। সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানস এর (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে এই দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকে।

    ১ জুলাই থেকে ৩১ অগাস্ট- এই দুই মাস সুন্দরবনে মৎস্য প্রজনন মৌসুম। এ সময় সাধারণত সব ধরনের মাছই ডিম ছাড়ে। সুন্দরবনের মৎস্য সম্পদ রক্ষায় ইন্টিগ্রেটেড রিসোর্সেস ম্যানেজমেন্ট প্ল্যানস এর (আইআরএমপি) সুপারিশ অনুযায়ী ২০১৯ সাল থেকে এই দুই মাস সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকে।

  • সুন্দরবন লাগোয়া জনপদের প্রায় ৩০ হাজার জেলে পরিবারের জীবন জীবিকা নির্ভর করে এই বনে মাছ ধরে।

    সুন্দরবন লাগোয়া জনপদের প্রায় ৩০ হাজার জেলে পরিবারের জীবন জীবিকা নির্ভর করে এই বনে মাছ ধরে।

  • সাত দিনের জন্য মাছ ধরার অনুমতি পেতে প্রত্যেক জেলেকে দিতে হয় ২০০ টাকা করে। সাত দিনের বেশি সুন্দরবনের ভেতরে থাকতে হলে পরবর্তী প্রতি তিন দিনের জন্য জনপ্রতি আরো ১০০ টাকা করে দিতে হয় বনবিভাগকে।

    সাত দিনের জন্য মাছ ধরার অনুমতি পেতে প্রত্যেক জেলেকে দিতে হয় ২০০ টাকা করে। সাত দিনের বেশি সুন্দরবনের ভেতরে থাকতে হলে পরবর্তী প্রতি তিন দিনের জন্য জনপ্রতি আরো ১০০ টাকা করে দিতে হয় বনবিভাগকে।

  • সাধারণত সাত দিনের জন্য অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে মাছ কিংবা কাঁকড়া ধরতে যান জেলেরা।

    সাধারণত সাত দিনের জন্য অনুমতি নিয়ে সুন্দরবনে মাছ কিংবা কাঁকড়া ধরতে যান জেলেরা।

  • ছোট একেকটি নৌকায় দুই থেকে চারজন জেলে সুন্দরবনে যান মাছ ধরতে।

    ছোট একেকটি নৌকায় দুই থেকে চারজন জেলে সুন্দরবনে যান মাছ ধরতে।

  • জেলেরা নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে চলে যান সুন্দরবনের ভেতরে। দিন-রাত বৈঠা বেয়ে লোকালয় থেকে তারা পৌঁছান বনের গহীনে।

    জেলেরা নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে চলে যান সুন্দরবনের ভেতরে। দিন-রাত বৈঠা বেয়ে লোকালয় থেকে তারা পৌঁছান বনের গহীনে।

  • সাধারণত ভাটার সময় মাছ ধরতে ব্যস্ত থাকেন জেলেরা, জোয়ারের সময় তারা রান্না-বান্না করেন, বিশ্রাম নেন।

    সাধারণত ভাটার সময় মাছ ধরতে ব্যস্ত থাকেন জেলেরা, জোয়ারের সময় তারা রান্না-বান্না করেন, বিশ্রাম নেন।

  • গহীন জঙ্গলের মাঝে ছোট ছোট খালে গাছের সঙ্গে নৌকা বেঁধে রাত কাটে জেলেদের।

    গহীন জঙ্গলের মাঝে ছোট ছোট খালে গাছের সঙ্গে নৌকা বেঁধে রাত কাটে জেলেদের।

  • সুন্দরবনের জেলেরা সবচেয়ে বেশি মাছ ধরেন ‘চরগড়া’ বা ‘চরভাটা’ পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে খালের চরে ভাটার সময় জাল পেতে রাখা হয়। জোয়ারে ডুবে গেলে সেখানে যেসব মাছ আটকা পড়ে, সেগুলো পরে ভাটার সময় সংগ্রহ করেন তারা।

    সুন্দরবনের জেলেরা সবচেয়ে বেশি মাছ ধরেন ‘চরগড়া’ বা ‘চরভাটা’ পদ্ধতিতে। এ পদ্ধতিতে খালের চরে ভাটার সময় জাল পেতে রাখা হয়। জোয়ারে ডুবে গেলে সেখানে যেসব মাছ আটকা পড়ে, সেগুলো পরে ভাটার সময় সংগ্রহ করেন তারা।

  • জেলেদের একটি অংশ বড়শি দিয়েও মাছ কিংবা কাঁকড়া ধরেন।

    জেলেদের একটি অংশ বড়শি দিয়েও মাছ কিংবা কাঁকড়া ধরেন।

  • ‘ভাসান জাল’ দিয়েও মাছ ধরেন অনেক জেলে। অপেক্ষাকৃত বড় নদীতে মাছ ধরতে আড়াআড়ি বিশাল আকৃতির জাল পাতেন তারা।

    ‘ভাসান জাল’ দিয়েও মাছ ধরেন অনেক জেলে। অপেক্ষাকৃত বড় নদীতে মাছ ধরতে আড়াআড়ি বিশাল আকৃতির জাল পাতেন তারা।

  • সুন্দরবনের এসব নদী খালে জেলেদের জালে সবচেয়ে বেশি ধরা পরে গলদা চিংড়ি, কোরাল, কাইন, দাইতনা, ঘাগড়া টেংড়া, তপসে, পোয়া মাছ।

    সুন্দরবনের এসব নদী খালে জেলেদের জালে সবচেয়ে বেশি ধরা পরে গলদা চিংড়ি, কোরাল, কাইন, দাইতনা, ঘাগড়া টেংড়া, তপসে, পোয়া মাছ।

  • এই কাইন মাগুর সুন্দরবনের বাইরের নদী-খালে সাধারণত পাওয়া যায় না। সুস্বাদু এই মাছের একেকটির ওজন এক কেজিরও বেশি হয়।

    এই কাইন মাগুর সুন্দরবনের বাইরের নদী-খালে সাধারণত পাওয়া যায় না। সুস্বাদু এই মাছের একেকটির ওজন এক কেজিরও বেশি হয়।

  • অনেক অসাধু জেলে ছোট ছোট খালে বিষ ঢেলেও মাছ মারেন, যা সুন্দরবনের জীববৈচিত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বনবিভাগ তাদের নানা ধরনের শাস্তিও দেয়।

    অনেক অসাধু জেলে ছোট ছোট খালে বিষ ঢেলেও মাছ মারেন, যা সুন্দরবনের জীববৈচিত্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বনবিভাগ তাদের নানা ধরনের শাস্তিও দেয়।

  • মাছ ধরতে বনে গিয়ে জেলেদের অনেকেই বাঘ কিংবা কুমিরের আক্রমণের শিকার হন। প্রতিবছর বেশ কয়েকজন জেলের প্রাণ যায় এভাবে।

    মাছ ধরতে বনে গিয়ে জেলেদের অনেকেই বাঘ কিংবা কুমিরের আক্রমণের শিকার হন। প্রতিবছর বেশ কয়েকজন জেলের প্রাণ যায় এভাবে।

Print Friendly and PDF