পাপিয়ার অস্ত্র মামলার রায় ১২ অক্টোবর

অস্ত্র আইনের মামলায় নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামী মফিজুর রহমান সুমনের সাজা হবে কি না, তা জানা যাবে আগামী ১২ অক্টোবর।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 Sept 2020, 08:26 AM
Updated : 27 Sept 2020, 09:15 AM

রাষ্ট্রপক্ষও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রোববার ঢাকার ১ নম্বর বিশেষট্রাইব্যুনালের বিচারক কেএম ইমরুল কায়েশ রায়ের এ তারিখ ধার্যকরেন।

আলোচিত এইদম্পতির বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত যে চারটি মামলা হয়েছে, তার মধ্যে অস্ত্র আইনের এই মামলাইসবার আগে রায়ের পর্যায়ে এল।

গত২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপনে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দাবি করেন এ ট্রাইবুনালে রাষ্ট্রপক্ষেপ্রধান কৌঁসুলি আবদুল্লাহআবু, অতিরিক্ত পিপি সাজ্জাদুল হক শিহাব ও সালাহউদ্দিনহাওলাদার।

রাষ্ট্রপক্ষেরযুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। ওইদিন সুমনের পক্ষে আইনজীবী আবু ফতেহ মোহাম্মদ গোলাম ফাত্তাহ যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। এরপর পাপিয়ার পক্ষে সাখাওয়াত উল্লাহ ভূঁইয়া যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।

আসামিপক্ষেরআইনজীবীরা আদালতকে বলছেন, রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে ‘অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি’। আসামিরা খালাস পাবেন বলে তারা আশা করছেন।

স্বামীর সঙ্গে শামীমা নূর পাপিয়া। ছবি: ফেইসবুক থেকে

নরসিংদী জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমা নূর পাপিয়া ও তার স্বামীমফিজুর রহমানকে গত ২২ ফেব্রুয়ারিঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সে সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০টাকা, ২৫ হাজার ৬০০টাকার জাল নোট, ১১ হাজার ৪৮১ডলার, শ্রীলঙ্কা ও ভারতের কিছুমুদ্রা এবং দুটি ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়।

পরে পাপিয়ার ফার্মগেইটের ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, ২০টি গুলি, পাঁচ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ডউদ্ধারের কথা জানায় র‌্যাব। অভিযান চালানো হয় পাপিয়ার নরসিংদীরবাড়িতেও ।

র‌্যাবের পক্ষ থেকে সে সময় বলাহয়, পাপিয়া গুলশানের ওয়েস্টিন হোটেল ভাড়া নিয়ে ‘অসামাজিক কার্যকলাপ’ চালিয়ে যে আয় করতেন,তা দিয়ে হোটেলে বিল দিতেন কোটির টাকার উপরে।

গ্রেপ্তারের পর পাপিয়া ওতার স্বামীর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনেদুটি মামলা করে র‌্যাব। বিমানবন্দর থানায়ও তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪ এর অধীনে একটিমামলা দায়ের করা হয়। আর মুদ্রা পাচারপ্রতিরোধ আইনে সিআইডি আরেকটি মামলা করে। এরপর দুদকও পাপিয়ার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধানে নামে।

এর মধ্যে শেরে বাংলা নগর থানার অস্ত্র ও মাদক আইনেরমামলায় গত ২৯ জুনআদালতে অভিযোগপত্র দেন র‌্যাবের দায়িত্বরত উপ-পরিদর্শক আরিফুজ্জামান।২৩ অগাস্ট অস্ত্র মামলায় অভিযোগ গঠন করে ঢাকা মহানগরের একনম্বর বিশেষ ট্রাইবুনালের বিচারক কে এম ইমরুলকায়েশ পাপিয়া ও সুমনের বিচার শুরুর আদেশদেন।

পুরনো খবর

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক