কুকুর স্থানান্তর বন্ধসহ ৭ দাবি বাপার

রাজধানী থেকে বেওয়ারিশ কুকুর সরানো বন্ধের পাশাপাশি কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধে কুকুরের বন্ধ্যাত্মকরণ ও টিকাদান কর্মসূচি চালুসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Sept 2020, 05:16 PM
Updated : 25 Sept 2020, 05:16 PM

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাম্প্রতিক কুকুর স্থানান্তরের প্রতিবাদে শুক্রবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

তাদের দাবিগুলো হল-

১. অপরিকল্পিতভাবে কুকুর স্থানান্তর কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং ইতোমধ্যে স্থানান্তরিত কুকুর তাদের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে।

২. জলাতঙ্ক প্রতিরোধ এবং কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা মোতাবেক পদক্ষেপ নিতে হবে।

৩. কুকুরের কামড় প্রতিরোধ এবং কুকুর ও মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।

৪. অবিলম্বে কুকুরের বন্ধ্যাত্মকরণ এবং টিকাদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে।

৫. পরিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষার জন্য যে সব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে, তাদেরকে সম্পৃক্ত করে প্রাণি কল্যাণ আইন-২০১৯ এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।

৬. নগরে জীবন-প্রাণ ও প্রকৃতি কীভাবে সহঅবস্থান করতে পারে, তার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রণয়ন করতে হবে এবং সেই রূপরেখা অনুসারে নগরকেন্দ্রিক সব আইন ও পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে যাতে বাংলাদেশে নগরায়ন প্রক্রিয়া আরও বিচ্ছুরিত, আঞ্চলিকভাবে সুষমবণ্টিত ও স্থায়িত্বশীল হতে পারে।

৭. দেশের তরুণ সমাজকে জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করতে হবে। এজন্য জাতীয়ভাবে আলাদাভাবে একটি কর্মসূচিও গ্রহণ করা যেতে পারে।

ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক শারমীন মুরশিদ।

তিনি বলেন, “জনসংখ্যার ভারে রাজধানীতে যানজট, বায়ুদূষণসহ নানা রকমের দুর্ভোগের ফলে এমনিতেই নগরবাসী উদ্বিগ্ন ও অতিষ্ঠ। এর মাঝে যুক্ত হয়েছে করোনাভাইরাস। এসব কিছুর মাঝে অন্য কোনো দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা না করে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কর্তৃপক্ষ এবং নগরবাসীর একটি অংশ মানুষের আদি বন্ধু কুকুরকে হঠাৎ আরেকটি সমস্যা হিসেবে ঠাহর করেছেন। কিন্তু এটা যে আদতে কোনো সমস্যা নয়, বরং পরিবেশ সুরক্ষার নতুন একটা সম্ভাবনা, সেটা তাদের বোধগম্য হচ্ছে না।”

শারমীন মুরশিদ বলেন, “করোনা পরিস্থিতি থেকেও আমরা হয়ত উপলব্ধি করতে পারিনি যে, জীবন-প্রাণ ও প্রকৃতির সহঅবস্থান কতটা প্রয়োজনীয়। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের কুকুর স্থানান্তরের উদ্যোগ এরই এক নিষ্ঠুর নিদর্শন এবং আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

বাপার নির্বাহী সহ-সভাপতি মো. আব্দুল মতিন বলেন, “বন্যপ্রাণি আইন সম্পূর্ণ উপক্ষো করে সিটি করপোরেশনের এ সকল কুকুর হত্যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যেখানে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে প্রাণিদের চিকিৎসার জন্য একটি আধুনিক হাসপাতাল তৈরির কাজ চলছে সেখানে কুকুরের প্রতি এ নির্মম আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে বাপার সহ-সভাপতি অধ্যাপক খন্দকার বজলুল বলেন, “কুকুর তথা প্রাণি ও জীববৈচিত্র্যের সহাবস্থানে মানুষের বসবাস। প্রাণি নিধন করে পরিবেশ ঠিক থাকতে পারে না। সিটি করপোরেশনের মেয়রদের আমরা নগর পিতা বলে থাকি, পিতার আচরণ যদি সন্তানের প্রতি এমন হয় সেটা অত্যন্ত দুঃখজনক।”

এ সময় তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের প্রতি কুকুরের ওপর এ আচরণ পরিহারের আহ্বান জানান এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

বাপার পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক কমিটির সদস্য সচিব বিধান চন্দ্র পালের সঞ্চালনায় সংবাদ সম্মেলনে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল। এছাড়া ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির বন, জীববৈচিত্র্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ও জালানি বিষয়ক কমিটির যুগ্মিআহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন, বাপার যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর কবির, নির্বাহী সদস্য আতাউর রহমান মিটন ও একেএম মিজানুর রহমান, অরণ্য ফাউন্ডেশনের চেয়ারমেন রুবাইয়া আহমেদ, পিপল ফর এনিমেল ওয়েলফেয়ার (পিএডব্লিউ) ফাউন্ডেশনের সভাপতি রাকিবুল হক এমিল প্রমুখ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক