আবরার ফাহাদ হত্যা: অভিযোগ গঠনের আদেশ ১৫ সেপ্টেম্বর

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় ২৫ আসামির বিচার শুরু হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত হবে ১৫ সেপ্টেম্বর।

আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 Sept 2020, 12:40 PM
Updated : 9 Sept 2020, 12:40 PM

এমামলার আসামিদের অব্যাহতির আবেদন এবং তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষে বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারকআবু জাফর মো. কামরুজ্জামান আদেশের এই দিন ঠিককরে দেন।

এরআগে গত ২ সেপ্টেম্বর২৫ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল, এহেসানুল হক সমাজী ওঅ্যাডভোকেট মো. আবু আব্দুল্লাহ ভূঁইয়া।

ওইদিনকারাগারে থাকা ২২ আসামির মধ্যে১৫ আসামির পক্ষে তাদের আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদনের ওপর শুনানি করেন।

অপরতিন আসামি পলাতক থাকায় তাদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবীর দায়িত্ব পালন করছেন মো. সাহাবুদ্দিন, আব্দুর রশিদ মোল্লা এবং বদিউল আলম ভূইয়া।

বুধবারঅভিযোগ গঠনের পক্ষে বিপক্ষে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে শুনানি চলে। উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ১৫ সেপ্টেম্বর দিনরাখেন।

এদিকেমামলায় কয়েকজন আসামির পক্ষে এদিন জামিনের আবেদন করেন তাদের আইনজীবীরা। বিচারক জানান, ১৫ সেপ্টেম্বরই এবিষয়ে শুনানি হবে।

আলোচিতএ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হওয়ার কথা ছিল গত ৬ এপ্রিল।কিন্তু করোনাভাইরাসের মহামারীর কারণে আদালত ছুটিতে থাকায় তা আর হয়নি।

বুয়েটেরশেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশলবিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে গতবছর ৬ অক্টোবর রাতেছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষেনিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়।

পরদিনআবরারের বাবা ১৯ শিক্ষার্থীকে আসামিকরে চকবাজার থানায় মামলা করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ এজাহারের ১৬ জনসহ মোট২১ জনকে গ্রেপ্তার করে।

পাঁচসপ্তাহ তদন্ত করে তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পরিদর্শক ওয়াহিদুজ্জামান গত ১৩ নভেম্বরঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে যে অভিযোগপত্র জমাদেন, সেখানে আসামি করা হয় মোট ২৫জনকে।

অভিযোগপত্রগ্রহণ করে গত ১৮ নভেম্বরপলাতক চার আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। তাদের মধ্যে একজন পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।

এ মামলায় কারাগারে থাকা ২২ আসামি হলেন- বুয়েট ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেল, বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি মুহতাসিম ফুয়াদ, বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান রবিন, বহিষ্কৃত তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অনিক সরকার, বহিষ্কৃত ক্রীড়া সম্পাদক মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন, বহিষ্কৃত উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ইফতি মোশাররফ সকাল, বহিষ্কৃত সদস্য মুনতাসির আল জেমি, মোজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাখখারুল ইসলাম তানভির, ইসতিয়াক হাসান মুন্না, মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, মনিরুজ্জামান মনির ও আকাশ হোসেন, বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত উপ-আইন সম্পাদক অমিত সাহা, হোসেন মোহাম্মদ তোহা, মাজেদুর রহমান, শামীম বিল্লাহ ও মোয়াজ আবু হোরায়রা, এ এস এম নাজমুস সাদাত, এস এম মাহমুদ সেতু, এজাহারের বাইরের ছয় আসামি হলেন-বুয়েট ছাত্রলীগের গ্রন্থণা ও প্রকাশনা সম্পাদক ইসতিয়াক আহমেদ মুন্না, আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক অমিত সাহা, মিজানুর রহমান, শামসুল আরেফিন রাফাত, উপ-দপ্তর সম্পাদক মুজতবা রাফিদ, মাহামুদ সেতু ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম।

পলাতকবাকি তিন আসামি হলেন- ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স বিভাগের ১৬তম ব্যাচের ছাত্র মাহমুদুল জিসান, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৭তম ব্যাচের এহতেশামুল রাব্বি ওরফে তানিম ও কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারংবিভাগের ১৬তম ব্যাচের মুজতবা রাফিদ।

গ্রেপ্তারদেরমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন আটজন।

গত১৫ মার্চ   স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এ স্থানান্তরকরে আদেশ জারি হয়।

দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে যে কোনো মামলা৯০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ওই সময়ের মধ্যেনিষ্পত্তি করা না গেলে আরও৪৫ দিন সময় নিতে পারে আদালত।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক