পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন

পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে সারাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে নারীদের বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Dec 2019, 09:12 AM
Updated : 5 Dec 2019, 09:12 AM

বৃহস্পতিবার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন।

এই অনুষ্ঠান থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সারাদেশের ১৫০টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

টাকার অভাবে অনেক নারী-কিশোরী স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে পারে না জানিয়ে তিনি বলেন, “নারীরা স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ কারণে অনেকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। এমনকি অনেকে ক্যান্সারেও আক্রান্ত হচ্ছেন।

“এ কারণে আমরা বাংলাদেশের সবগুলো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছি। এখন থেকে দেশের সবগুলো স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে এই স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া হবে।”

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৬২৮টি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। জনবলের অভাবে সবগুলো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা যাচ্ছে না। এ কারণে সরকার নতুন জনবল নিয়োগের কথা ভাবছে। 

মন্ত্রী বলেন, “জনবলের অভাব রয়েছে। জনবল সঙ্কট কেটে যাবে বলে আশা করছি। এটা হলে আমরা সবগুলো স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা করব।”

‘পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণ করি, কৈশোরকালীন মাতৃত্ব রোধ করি’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে ৭ থেকে ১২ ডিসেম্বর সারাদেশে পরিবার কল্যাণ সেবা সপ্তাহ পালিত হবে।

এক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জাহিদ মালেক বলেন, ১৮ বছরের আগেই ৫৯ শতাংশ নারীর বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সে প্রতি হাজারে ১১৩ জন কিশোরী গর্ভধারণ করে। কিশোরী মায়েদের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার ২০ বছরের বেশি মায়েদের তুলনায় দ্বিগুণ। আবার ১৪ বছর বা তার কম বয়সী কিশোরী মায়েদের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি পাঁচগুণ বেশি। তাদের সন্তানদেরও মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি।

“বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এর মূল কারণ নারী শিক্ষা, সফল টিকাদান কর্মসূচি এবং পরিবার পরিকল্পনা। এসব অর্জন ম্লান হয়ে যায় যখন একজন মেয়ে কিশোরী বয়সে মা হতে গিয়ে অকালে প্রাণ হারায়।”

পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে সক্ষম দম্পতিদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি বিবাহিত কিশোরীদের সঠিকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করার ওপর জোর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহে উঠান বৈঠক, মা সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি ।

অন্যদের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আ খ ম মহিউল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক