আবরার হত্যা: মামলা চালাতে ‘প্রসিকিউশন টিম’ হচ্ছে

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্র হওয়ার পর মামলা পরিচালনার জন্য ‘প্রসিকিউশন টিম’ গঠন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Oct 2019, 01:11 PM
Updated : 16 Oct 2019, 01:11 PM

বুধবার সচিবালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সংযুক্ত প্রতিনিধি দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে মানবাধিকার ও লেবার রাইটস নিয়ে কথা হয়েছে। মানবাধিকার নিয়ে আমি তাদের বলেছি, আমরা মানবাধিকার সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন এবং আমরা মনে করি, সেই দায়িত্ব সরকার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালন করছে।”

উদাহারণ হিসেবে নুসরাত হত্যা মামলার তদন্তের বিষয়টি ইইউ প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “জনগণের দাবি ছিল, সরকারের অঙ্গীকার ও সদিচ্ছা ছিল, তড়িৎ আইনি প্রক্রিয়ায় কাজ শেষ করে এসেছি এবং আগামী ২৪ অক্টোবর রায় হবে। রিশা হত্যা মামলার কথাও তাদের বলা হয়েছে।“

আবরার হত্যা মামলার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে জানিয়ে আনিসুল হক বলেন, “আবরার হত্যা মামলায় যেটা প্রধানমন্ত্রী আমাকে নির্দেশ দিয়েছেন সেই নির্দেশ অনুযায়ী… যে মুহূর্তে মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

“এ ব্যাপারে ইতোমধ্যে আমার নিয়ন্ত্রণে যা আছে, অর্থাৎ প্রসিকিউশন সার্ভিস… প্রসিকিউশন সার্ভিস কে এ মামলা পরিচালনা করতে তৈরি হওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।”

বিষয়টি ব্যাখা করে আইনমন্ত্রী বলেন, “একটি ফৌজদারি মামলায় প্রথম কাজ হচ্ছে এজাহার দিয়ে শুরু হয়, এরপর তদন্ত হয়। আবরার হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হয়েছে, আসামিরা অনেকেই ধৃত এবং স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পেশ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তদন্ত কিছু দিনের মধ্যে শেষ হলেই অভিযোগপত্র দেওয়া হবে।”

অভিযোগপত্র পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব আদালত ও প্রসিকিউশন সার্ভিসের ওপর বর্তাবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “এককভাবে যদি মামলা পরিচালনা না করতে পারে, তাহলে একটি টিম করে দেওয়ার জন্য আমরা কাজ শুরু করেছি। প্রসিকিউশন টিমকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।”

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদল মামলার বিষয়ে জানতে চেয়েছিল কিনা প্রশ্ন করলে আইনমন্ত্রী বলেন, “তারা বলেছে, সিভিল সোসাইটির পার্টিসিপেশন এবং মামলাগুলোর প্রেক্ষিতে আলোচনা… এসব কথা হয়েছে।”

একটি ফেইসবুক পোস্টের জের ধরে গত ৬ অক্টোবর বুয়েটের শেরে বাংলা হলে তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে শেরে বাংলা হলের একটি কক্ষে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী।

এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনটির ২০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতায় ১২ জনকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ।

ওই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা এবং সুষ্ঠু তদন্ত জানিয়ে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে বিবৃতি দেওয়া হলে তা নিয়ে আপত্তি করে বাংলাদেশ সরকার।

বাংলাদেশে ‘বাক স্বাধীনতার সীমিত’ হওয়ার কারণেই ওই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ইঙ্গিত করায় জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি মিয়া সেপ্পো এবং ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট ডিকসনকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলবও করা হয়।

কূটনীতিবিদদের ওই ভূমিকার সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন মঙ্লবার সাংবাদিকদের বলেন, “তারা সীমা ছাড়িয়েছেন।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক