ভারত ব্যবসা করে দূষণ চাপিয়ে দিয়ে গেলে মানব না: সুলতানা কামাল

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সুলতানা কামাল বলেছেন, রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশে ব্যবসা করে সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে দূষণ ও দুর্ভোগগুলো চাপিয়ে দিয়ে গেলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Oct 2019, 04:49 PM
Updated : 5 Oct 2019, 04:56 PM

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির উদ্যোগে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এনটিপিসি কোম্পানি ভারতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ সেই ধ্বংসাত্মক প্রকল্প এদেশে করে সুন্দরবন ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে।

“ভারত বাংলাদেশে এসে ব্যবসা করে সব সুযোগ সুবিধা নেবে, আর বাংলাদেশের উপর দূষণ ও দুর্ভোগগুলো চাপিয়ে দিয়ে যাবে- এটা মেনে নেওয়া যায় না।”

ইউনেস্কোর ৪৩তম সভার সব সুপারিশ বাস্তবায়ন, সুন্দরবনের পাশে রামপালসহ সব ভারী শিল্প নির্মাণ বন্ধ এবং পুরো দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা শেষ করার দাবিতে শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এই সংবাদ সম্মেলন হয়।

সুলতানা কামাল বলেন, “সুন্দরবনকে রক্ষা না করতে পারাটা হবে আমাদের জন্য বড় ব্যর্থতা।এই বনকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক, সাংবিধানিক ও নাগরিক দায়িত্ব।”

সুলতানা কামাল তার লিখিত বক্তব্যে সুন্দরবন বিষয়ে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির ৪৩ম সভার পর্যবেক্ষণ, সিদ্ধান্ত ও এসব বিষয়ে দায়িত্ব হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের জন্য করণীয় কাজের একটি তালিকা প্রকাশ করেন।

সুন্দরবনের মধ্যে কোনো রকম নদী খনন করার সময় যেন ‘অনন্য বৈশ্বিক গুরুত্ব’ অক্ষুন্ন থাকে, তা কঠোরভাবে খেয়াল রাখার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল মতিন, সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স ও শরীফ জামিল উপস্থিত ছিলেন।

আব্দুল মতিন বলেন, “জাতি হিসেবে আমরা সুন্দরবনকে কোনোভাবেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারি না।”

তিনি বলেন, “আরও এক যুগ পরে এর পরিস্থিতি হবে ভয়ংকর ও পরিবর্তনের অযোগ্য। রামপালের মতো কয়লা প্রকল্পসমূহই এর জন্য দায়ী হবে। অতএব রামপালসহ সব কয়লা প্রকল্প অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, এটি আমাদের দায়িত্ব।”

শরীফ জামিল বলেন, “সুন্দরবন যদি ধ্বংস হয় এর দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। সরকারের অদূরদর্শিতার জন্যই সুন্দরবনের করুন পরিণতি দেশবাসীকে দেখতে হতে পারে।”

সিপিবি নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, “সুন্দরবন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ঢাল। সুন্দরবন না থাকলে এদেশের অস্তিত্বই সংকটে পড়ে যাবে। আমরা ১০ বছর আগের বয়ে যাওয়া আইলার কথা এখনও ভুলিনি।

“সুন্দরবন না থাকলে দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কী হত, তা আমরা সবাই উপলব্ধি করি। জলবায়ুর উদ্বাস্তুতে পরিণত হব আমরা। তাই সুন্দরবন নিয়ে খেলা করবেন না। দেশের অস্তিত্বের স্বার্থে সুন্দরবনকে রক্ষা করুন।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক