সিন্দুকে জুয়ার টাকা: তিন থানায় ৭ মামলা

পুরান ঢাকায় আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু তার ভাই রুপন ভূইয়াসহ চারজনের বাসা থেকে টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় সাতটি মামলা হয়েছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 Sept 2019, 05:29 PM
Updated : 13 Jan 2020, 08:21 AM

এর মধ্যে ওয়ারী থানায় দুটি, গেণ্ডারিয়া থানায় একটি এবং সূত্রাপুর থানায় চারটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সফিউল্লাহ বুলবুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ওয়ারী থানায় দায়ের করা মামলার মধ্যে একটি অস্ত্র আইনের, অন্যটি করা হয়েছে মুদ্রাপাচার আইনে।

মুদ্রাপাচার আইনের মামলাটি করা হয়েছে আওয়ামীলীগ নেতা এনামুল হক এনুর কর্মচারী আবুল কালাম আজাদের লালমোহন সাহা স্ট্রিটের বাসায় দুই কোটি টাকা পাওয়ার ঘটনায়।

সেখানে এনামুল ও কালামকে আসামি করা হয়েছে বলে ওয়ারী থানার পরিদর্শক (অপারেশনস) সুজিত কুমার সাহা জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ওই বাসা থেকে পিস্তল উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনের মামলটি করা হয়েছে। সেখানে শুধু কালামই আসামি।

ঢাকার মহানগর হাকিম বাকী বিল্লাহ এই দুই মামলার এজাহার গ্রহণ করে ২৭ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

এনামুলের বন্ধু হারুন-উর-রশিদের শরৎগুপ্ত রোডের বাসা থেকে এক কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা উদ্ধারের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে গেণ্ডারিয়া থানায়।

র‌্যাব কর্মকর্তা বুলবুল জানান, মুদ্রাপাচার আইনের এ মামলায় এনামুল ও তার বন্ধু হারুনকে আসামি করা হয়েছে।

“প্রথমে ওই বাসায় ২কোটি টাকা থাকার কথা জানা গেলেও পরে গুণে ১০ হাজার টাকা কম পাওয়া যায়।” 

এদিকে যে অভিযানের সূত্র ধরে কালাম ও হারুনের বাসায় গিয়েছিল র‌্যাব, নারিন্দায়  এনামুল ও রুপনের ওই বাসায় অভিযানে টাকা ও গয়না উদ্ধারের ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় চারটি মামলা হয়েছে।

সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ছয়তলা ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে এক কোটি পাঁচ লাখ টাকা এবং ৭৩০ ভরি স্বর্ণালংকার জব্দ করার কথা জানায়ে র‌্যাব।

সূত্রাপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নেহাশীষ রায় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এসব মামলার মধ্যে দুটি মুদ্রাপাচার আইনে এবং দুটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে দায়ের করেছে র‌্যাব।

মানিলন্ডারিং আইনের এক মামলায় এনামুলের বিরুদ্ধে ৮৮ লাখ এবং অন্য মামলায় রুপনের বিরুদ্ধে ১৭ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। 

আর গয়না উদ্ধারের ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা দুটি আলাদাভাবে দুই ভাইকে আসামি করা হয়েছে।

দুই ভাইয়ের মধ্যে গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি এনামুল হক এনু ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের একজন শেয়ারহোল্ডার। আর তার ভাই রুপন ভূঁইয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তাদের কাউকে ধরতে পারেনি র‌্যাব।

গত সপ্তাহে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে যুবলীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর ঢাকায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তত্ত্বাবধানে ‘৬০টি ক্যাসিনো চালানোর’ খবর আসে সংবাদমাধ্যমে।

এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার ওয়ান্ডারার্স ক্লাবসহ চারটি ক্লাবে অভিযান চালিয়ে জুয়ার সরঞ্জাম, কয়েক লাখ টাকা ও মদ উদ্ধার করে র‌্যাব। পরে অভিযান চালানো হয় আরও কয়েকটি ক্লাবে।

র‌্যাব বলছে, ক্যাসিনো থেকে আয়ের টাকা এনামুল বাসায় সিন্দুক ভরে রাখতেন। রাখার জায়গা হত না বলে টাকার একটি অংশ তিনি সোনায় রূপান্তর করে নেন।

এনামুলের ভাই রুপন ইংলিশ রোড থেকে পাঁচটি সিন্দুক কিনেছেন খবর পেয়ে দুই ভাইয়ের বিষয়ে খোঁজ শুরু করে। সোমবার মধ্যরাত থেকে অভিযান চালিয়ে গেণ্ডারিয়ার বানিয়ানগর মুরগিটোলায় এনামুল ও রুপনের বাড়িতে পাওয়া যায় তিনটি সিন্দুক। তার ভেতরে পাওয়া যায় টাকা আর গয়না। পরে এনামুল ও হারুনের বাসায় পাওয়া যায় আরও দুটি সিন্দুক।

এনামুলদের বাড়িতে সেদিন দুটি পিস্তল, দুইটি এয়ারগান ও একটি শটগান পাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল র‌্যাবের পক্ষ থেকে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় কোনো মামলা না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে র‌্যাব কর্মকর্তা বুলবুল বলেন, “অস্ত্রগুলোর লাইসেন্স পাওয়া গেছে বলে কোনো মামলা হয়নি।”