নদীর দখল উচ্ছেদ ‘ত্রুটিপূর্ণ’, আদালতের নির্দেশনা মানার দাবি

সরকারের নদীর দখল উচ্ছেদ কাজ ‘ক্রটিপূর্ণ’ বলে অভিযোগ করে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুসারে নদী দখলদারদের উচ্ছেদ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বুড়িগঙ্গা রিভার কিপার নামে দুটি সংগঠন।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 July 2019, 08:55 PM
Updated : 26 July 2019, 08:55 PM

শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘সাম্প্রতিক নদী-উদ্ধার তৎপরতা, মহাপরিকল্পনা ও নদীর ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলন এ দাবি জানানো হয়।

বাপার সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল মতিন বলেন, “মহাপরিকল্পনার বিষয়ে দেশের মানুষ অজানা। কী সেই মহাপরিকল্পনা, তা দেশের মানুষের কাছে উন্মুক্ত করতে হবে। মহাপরিকল্পনা কী দেশের বৃহৎ স্বার্থে হচ্ছে না কি দখলদারদের স্বার্থে হচ্ছে, তা নিয়ে আমরা সংশয়ে আছি।

“বাস্তবে সরকারের নদীর দখলদার উচ্ছেদ কর্মকাণ্ড ক্রটিপূর্ণ। হাই কোর্টের বেঁধে দেওয়া নদীর তিনটি অংশের (তলা, তট ও পাড়) ভেতরের সকল স্থাপনা নির্মোহভাবে উচ্ছেদ না করলে এই অভিযান সঠিক ও গ্রহণযোগ্য নয়।”

হাই কোর্টের নির্দেশনার পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “তা বাস্তবায়ন না হলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জনগণের আকাঙ্ক্ষা ‘মুক্ত নদী প্রবাহ’- অধরাই থেকে যাবে।”

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল বলেন, “চলমান প্রক্রিয়ার ড্রেজিং ও পাড় বাঁধাইয়ের মাধ্যমে যদি বাংলাদেশের নদীগুলোকে ড্রেন কিংবা পানি যাবার রাস্তায় পরিণত করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে তা বাস্তবসম্মত হবে না। তা নদীমাতৃক দেশের সার্বিক নদী ব্যবস্থাকে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এবং বর্ষায় দেশের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে নতুন নতুন এলাকায় বন্যা ও জলাবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করবে।”

নদী রক্ষা নিয়ে সরকারের চলমান পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহণকে ‘অদূরদর্শী ও অসম্পূর্ণ’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, “তা বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের নদীসমূহের অকাল মৃত্যু ঘটাবে। সম্প্রতি উচ্চ আদালতের রায়ে তুরাগ ও দেশের অন্যান্য নদীসমূহকে জীবন্তসত্তা হিসেবে দেখতে বলা হয়েছে। সরকারকে এই রায়ের মর্মার্থ উপলব্ধির আবেদন জানাই।”

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বাপার নির্বাহী সদস্য শারমীন মুরশিদ, বুড়িগঙ্গা বাঁচাও আন্দোলনের সমন্বয়কারী মিহির বিশ্বাস, ব্রহ্মপুত্র রিভার কিপারের ইবনুল সাঈদ রানা ‍উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক