‘হত্যা-হুমকিতে’ সঙ্কুচিত হচ্ছে মত প্রকাশ: আর্টিকেল নাইনটিন

বাংলাদেশে গণমাধ্যম, অধিকারকর্মী ও মত প্রকাশের চর্চাকারীদের ‘হত্যা, হুমকি ও পেশাগত কাজে বাধা’ দেওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ার বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন আর্টিকেল নাইনটিন।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 May 2019, 04:31 PM
Updated : 2 May 2019, 05:48 PM

তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে মতপ্রকাশের অধিকার খর্বের ৪৬৩টি ঘটনা সংঘটিত হয়েছে যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বৃহস্পতিবার সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মতপ্রকাশজনিত কারণে মোট ৩১টি ফৌজদারি মানহানি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৭১টি মামলা হয়েছে।

ভয়ভীতি প্রদর্শন বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার ক্ষেত্রকে ‘অবদমিত’ করছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আর্টিকেল নাইনটিন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক ফারুখ ফয়সল।

তিনি বলেন, “এসব অনভিপ্রেত ঘটনা মানবাধিকারকর্মী, যোগাযোগকর্মী, লেখক, সাংবাদিক ও শিল্পী- সাহিত্যিকদের কণ্ঠরোধে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে।”

বার্ষিক প্রতিবেদনে গত বছরের অনলাইন ও অফলাইনে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও প্রচারণার ৩৭টি ঘটনা তুলে ধরেছে আর্টিকেল নাইনটিন। এসব ঘটনার বেশিরভাগই ধর্মীয় বিষয় সংশ্লিষ্ট বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

২০১৮ সালে অনলাইন মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ ও সাময়িকভাবে বন্ধ করার কয়েকটি ঘটনাও উঠে এসেছে আর্টিকেল নাইটিনের বার্ষিক প্রতিবেদনে, যার মধ্যে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাটিও রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছর দুজন সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, ১৯ জন মারাত্মক শারীরিক আঘাতের শিকার, ১৫৬ জন বিভিন্ন রকমের শারীরিক আঘাত এবং ২২ জন অপহরণের শিকার হয়েছেন।

গত পাঁচ বছরের  মূল্যায়ন হিসেবে বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, “পরিস্থিতি বিবেচনায় দেখা যাচ্ছে গণমাধ্যমকর্মীদের নির্যাতন-হয়রানির প্রবণতা ও ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে।

“২০১৮ সালে মতপ্রকাশের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে হুমকি ও নানা ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দমনের চিত্রই বেশি লক্ষণীয়।”

৩ মে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসকে সামনে রেখে মতপ্রকারে চর্চা রোধে সংগঠিত অপরাধের দ্রুত বিচার করার আহ্বান জানিয়েছে আর্টিকেল ১৯।