জাতীয় কবিতা উৎসবে ‘নতুন বিজয়ের’ বন্দনা

গত জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের বন্দনায় শুরু হয়েছে কবি ও কবিতার মেলবন্ধনের জাতীয় কবিতা উৎসব।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Feb 2019, 12:26 PM
Updated : 1 Feb 2019, 12:26 PM

‘বাঙালির জয়, কবিতার জয়’ স্লোগান নিয়ে শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বরে দুই দিনের এ উৎসবের উদ্বোধন করেন কবি আসাদ চৌধুরী।

দেশি-বিদেশি কয়েকশ কবির উপস্থিতিতে এ উৎসবের বক্তৃতায় গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জয়ে ‘বাঙালির নতুন বিজয়’ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি কবি মুহাম্মদ সামাদ।

তিনি বলেন, “বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বঙ্গবন্ধুকন্যার আহ্বানে দেশের কবি-শিল্পী-কৃষক-শ্রমিক-ছাত্র-শিক্ষক-নারীকর্মী-অভিনয়শিল্পী-সাংবাদিক-বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়। তারা ছিনিয়ে আনে বিজয়।

“জাতির দীর্ঘ পথপরিক্রমায় এ এক নতুন বিজয় বাঙালির, নতুন বিজয় কবি ও কবিতার।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উপ-উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশে আর কোনোদিন যেন মুজিববিরোধী, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অন্ধকারের শক্তি মাথা তুলতে না পারে- এখন আমাদের সেই প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার সময়। তাই তেত্রিশতম জাতীয় কবিতা উৎসবের মর্মবার্তা আমরা ঘোষণা করছি- বাঙালির জয়, কবিতার জয়।”

বাংলা কবিতার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের উন্নয়নের বন্দনা করে উৎসব ঘোষণায় কবি রুবী রহমান বলেন, “কবিতা তাই নিয়তির মতো আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে বাঙালির সত্তাকে। এই সংস্কৃতি, এসব লোকাচার ছাড়া বাঙালিকে কল্পনা করা যায় না।

“এই সংস্কৃতিতে স্থিত হতে পেরেছে বলেই বাঙালি আজ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চলেছে। আজকের সুযোগ্য নেতৃত্ব বাঙালিকে উন্নত অর্থনৈতিক অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। জনমানুষের সেই অগ্রযাত্রা অব্যাহত হোক, অক্ষয় হোক।”

সময়ের ধারাবাহিকতায় লোক মুখের সাহিত্যে ইতিহাসের পরিবর্তনগুলো ধরা পড়ার কথা তুলে ধরে উৎসবের উদ্বোধক কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, “বর্গী এলো দেশে বলে দুষ্টু ছেলেদের ঘুম পাড়ায় না, সৈনিক নামের অযোগ্য পাক হানাদার বাহিনীর কথাও না। বরং বলে, ইলিশ মাছের তিরিশ কাঁটা, বোয়াল মাছের দাঁড়ি/টিক্কা খান ভিক্ষা করে শ্যাখ মুজিবের বাড়ি।”

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, স্বৈরাচার বিরোধী কবিতা পরিষদ স্বাভাবিকভাবেই বলতে চায়- “বাঙালির জয়, কবিতার জয়।”

জাতীয় কবিতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তারিক সুজাত অনুষ্ঠানে অভিযোগ করেন, স্বচ্ছতা না আসায় রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পুরস্কার এখন উঠছে ‘অযোগ্য’ ব্যক্তিদের হাতে।

“রাষ্ট্রীয় পুরস্কারগুলোর ক্ষেত্রে সামরিক শাসন আমলে সৃষ্ট নীতিমালা ও পদ্ধতি গণতান্ত্রিক সরকারগুলো অসতর্কতায় অনুসরণ করছে। অনেকক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া যেমন স্বচ্ছ না, তেমনি যারা যোগ্যতা বিচারের কাজে নিয়োজিত তাদের কারও কারও সততা ও যোগ্যতা নিয়েও সংশয় তৈরি হচ্ছে। যা কারো কাম্য নয়।”

তারিক সুজাত বলেন, “সৃজনশীল সংস্কৃতিবান্ধব সুস্থ-সমাজ বিনির্মাণের জন্য রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই পুরস্কার-পদক ও সম্মাননাগুলোর মর্যাদা রক্ষায় কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”

পহেলা ফেব্রুয়ারিকে ‘জাতীয় কবিতা দিবস’ ঘোষণারও দাবি জানান তিনি।

উৎসব উদ্বোধনের আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ চত্বরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন ও পটুয়া কামরুল হাসানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান কবিতা পরিষদের নেতারা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বরে শুক্রবার দুই দিনব্যাপী জাতীয় কবিতা উৎসবের উদ্বোধন করেন কবি আসাদ চৌধুরী।

এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বর্ণিল শোভাযাত্রা শেষে শুরু হয় উৎসবের উদ্বোধনী আয়োজন।

জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া উদ্বোধনী আয়োজনে জাতীয় পতাকা ও কবিতা পরিষদের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর পরিবেশন করা হয় একুশের গান ও উৎসব সংগীত।

অনুষ্ঠানে আহ্বায়কের বক্তব্য দেন কবি রবিউল হুসাইন। কবিতা পরিষদের যুগ্ম-সম্পাদক আমিনুর রহমান সুলতান অনুষ্ঠানে শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন।

এবারের উৎসবে ভারত, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য, চীন, শ্রীলঙ্কা, ইরাক, মালয়েশিয়া, স্পেন, উরুগুয়ে, কঙ্গো ও নেপালের ১৯ জন কবি অংশ নিচ্ছেন বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের উৎসর্গ করা এবারের কবিতা উৎসবে ‘জাতীয় কবিতা পরিষদ পুরস্কার‘ দেওয়া হয় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজীকে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক