জাহাঙ্গীরেই নৌকা ভিড়ল নগরভবনে

মেয়র হতে চেয়েছিলেন জাহাঙ্গীর আলম, সে কারণে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন; কিন্তু দলের সমর্থন না পেয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিতে হয়েছিল তাকে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 27 June 2018, 06:52 AM
Updated : 27 June 2018, 07:48 AM

২০১৩ সালের ওই নির্বাচনে জাহাঙ্গীরকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ যাকে প্রার্থী করেছিল, সেই আজমত উল্লাহ খান হেরেছিলেন বিএনপি নেতা এম এ মান্নানের কাছে।

পাঁচ বছর পর এবার প্রবীণ আজমত উল্লাহকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী করে নবীন জাহাঙ্গীরকে; বিএনপিও জয়ী প্রার্থীকে বদলে ধানের শীষ তুলে দেয় প্রবীণ নেতা হাসান উদ্দিন সরকারের হাতে।

কিন্তু গতবারের ফল পাল্টে গেল এবার। গতবার কান্না সঙ্গী করে ভোটের মাঠ থেকে বিদায় নেওয়া জাহাঙ্গীর এবার হাসলেন গাজীর হাসি; দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নিয়ন্ত্রণ পেল আওয়ামী লীগ।

মঙ্গলবার ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে বুধবার সকালে যে ফল ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে দেখা যায়, ৪২৫ কেন্দ্রের মধ্যে ৪১৬টিতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জাহাঙ্গীর ৪ লাখ ১০ ভোট পেয়ে হারিয়ে দিয়েছেন ধানের শীষের হাসান সরকারকে। বিএনপি প্রার্থী পেয়েছেন ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬১১ ভোট।

হাসান সরকার অভিযোগ তুলেছেন নির্বাচনে কারচুপির। তিনি দাবি করেছেন, তার এজেন্টদের কেন্দ্রে থাকতে দেওয়া হয়নি। স্থানীয় প্রশাসনও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে।

তবে নির্বাচন কমিশন সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, নয়টি কেন্দ্রে অনিয়মের কারণে ভোট স্থগিত হলেও বাকি ৪১৬টি কেন্দ্রে ‘কোনো ধরনের অনিয়ম ছাড়াই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ’ নির্বাচন হয়েছে।

আর বিজয়ী জাহাঙ্গীর মনে করছেন, দলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন হাসান সরকার।

“আমি জানি না এগুলো তাদের নিজের কথা কি না, কিন্তু মনে হয়েছে এগুলো বিএনপির কথা, পার্টির কথা। আমি অনুরোধ করেছি, কোনো কিছু না জেনেশুনে তারা যেন কোনো মিথ্যা ও অনিয়মের কথা না বলে।”

মা-বাবার তিন সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় জাহাঙ্গীরের রাজনীতিতে হাতেখড়ি ছাত্রলীগের মাধ্যমে। গাজীপুরের কানাইয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চৌকাঠ পেরোনোর পর চান্দনা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৪ সালে মানবিক শাখায় এসএসসি পাস করেন তিনি। এরপর ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের পর স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। এর মধ্যে ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন, দায়িত্ব পান কেন্দ্রীয় কমিটিতে। 

এলএলবি পাস করলেও ব্যবসায়ী হিসেবেই নিজেকে তৈরি করেন জাহাঙ্গীর, সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। গাজীপুর উপজেলা পরিষদে ভাইস চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন।

এরপর মেয়র হওয়ার সাধ জাগে তার। দলীয় সিদ্ধান্তে গতবার শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর নবগঠিত গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নবীন জাহাঙ্গীরের উপর দেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা।

৩৫ বছর বয়সে ওই দায়িত্ব পেয়ে জাহাঙ্গীরের ছুটে বেড়ানোর কথা বলছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কর্মীরা। তার বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের কথাও নানা সময়ে আলোচনায় এসেছে। জাহাঙ্গীর আলম শিক্ষা ফাউন্ডেশন নিয়েও কাজ করেন তিনি।

এর মধ্যেই মেয়র হওয়ার প্রস্তুতি পর্ব চলে জাহাঙ্গীরের; শেষমেশ মনোনয়নও পেয়ে যান। শিল্প নগরী হিসেবে গাজীপুরের অনেক সমস্যা রয়েছে; সেই সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মেয়র নির্বাচনে লড়েন।

মধ্যরাতে প্রাথমিক ফলাফল আসার মধ্যেই জয়ের সুবাস পাওয়া জাহাঙ্গীর গাজীপুরের বঙ্গতাজ মিলনায়তনে রিটার্নিং কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে উপস্থিত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সবাইকে নিয়েই কাজ করতে চান তিনি।

মেয়র হিসেবে নিজের কাজের অগ্রাধিকারও ঠিক করেছেন ৩৯ বছর বয়সী জাহাঙ্গীর। তিনি বলেছেন, সবার সঙ্গে সমন্বয় করে সরু সড়ক প্রশস্ত, তাতে ফুটপাত তৈরি এবং ড্রেনেজ সমস্যার সমাধানে আগে নামবেন তিনি।

আর এসব কাজে দল-মত নির্বিশেষে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন জাহাঙ্গীর।

“আমি সবাইকে ডাকব, সবার সাথে আমি পরামর্শ করব। আমি চেষ্টা করব আমাদের নেতাদের সাথে আলোচনা করে সবার সাথেই বসতে চাই।”