রোজিনাকে বাঁচানো গেল না

রাজধানীর বনানীতে নয় দিন আগে বাসের চাপায় পা হারানো রোজিনা আক্তার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 April 2018, 02:50 AM
Updated : 29 April 2018, 10:56 AM

মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, রোববার সকাল ৭টা ২০ মিনিটে চিকিৎসকরা রোজিনাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহের মেয়ে রোজিনা গত ১০ বছর ধরে ঢাকায় সাংবাদিক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজার বাসায় কাজ করে আসছিলেন। ইশতিয়াক রেজার ভাষায়, রোজিনা তার পরিবারেরই একজন হয়ে উঠেছিলেন।

২১ বছর বয়সী ওই তরুণী গত ২০ এপ্রিল রাতে বনানীতে রাস্তা পার হওয়ার সময় বিআরটিসির একটি বাসের চাপায় তার ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

দুই দফা অস্ত্রোপচার করে তার ডান পা উরুর গোড়া থেকে ফেলে দিতে বাধ্য হন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসকরা।

অবস্থার অবনতি হতে থাকায় গত ২৫ এপ্রিল রোজিনাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে ভর্তি করে হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) রাখা হয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় সড়কের বিশৃঙ্খলার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

ঢাকার কারওয়ানবাজারে গত ৩ এপ্রিল দুই বাসের রেষারেষিতে পড়ে হাত হারান তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হোসেন। ওই ঘটনায় তিনি মাথায়ও আঘাত পান। ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৬ এপ্রিল রাতে মৃত্যু হয় ওই তরুণের।

রাজীবের ওই দুর্ঘটনা পুরো বাংলাদেশকে কাঁপিয়ে দেয়। এ নিয়ে আলোচনার মধ্যেই ১৭ এপ্রিল গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় হৃদয় মিনার নামের ৩০ বছর বয়সী এক বাসযাত্রীর হাত বাহু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় গা ঘেঁষে যাওয়া এক ট্রাকের চাপায়।  

এরপর সপ্তাহ না ঘুরতেই রাজধানীর রাজপথে দুর্ঘটনায় পড়েন রোজিনা। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি জানিয়েছিলেন, রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি গাড়ির ধাক্কায় তিনি পড়ে যাওয়ার পর বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাস তার উপর দিয়ে চলে যায়। সে সময় বাসটি থামানো হলে তার এই পরিণতি হত না।

সে সময় আশপাশে পুলিশসহ অনেকে ছিল জানিয়ে রোজিনা বলেন, “দুইবার আমার উপর দিয়ে চাকা চলে গেছে। আমি শুধু বলছিলাম, আমাকে একটু হসপিটালে নিয়ে যান। এরপর আর কিছু জানি না। অনেক মানুষকে বলছি আমাকে একটু হসপিটালে নিয়ে যেতে। অনেক মানুষকে বলছি। সার্জেন্টও ছিল। কিন্তু ধরে নাই।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক