ঢাকেশ্বরীর অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন: পূজা উদযাপন পরিষদ

প্রায় ছয় দশক ধরে মন্দিরের দেবোত্তর ভূমি বেদখলের কারণে ঢাকেশ্বরীর অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 March 2018, 01:49 PM
Updated : 16 March 2018, 01:49 PM

শুক্রবার সকালে ঢাকেশ্বরীমন্দিরে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি থেকে ক্ষোভ জানিয়ে নেতারা বলেছেন, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের২০ বিঘা দেবোত্তর ভূমির মধ্যে প্রায় ১৪ বিঘা ‘বেদখল’ হয়ে গেছে।

প্রতিবাদী প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতেঅংশ নেন সাংসদ পঙ্কজ দেবনাথ, ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটিরসভাপতি ডি এন চ্যাটার্জি, সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার রায়, প্রাক্তণ সভাপতি স্বপনকুমার সাহাসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

ডি এন চ্যাটার্জি বলেন, “১৯৬৪সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ১৯৬৫ এর পাক ভারত যুদ্ধ ও স্বাধীনতাউত্তর কালে ঢাকেশ্বরীমন্দিরের বৃহদাংশ দেবোত্তর ভূমির দিকে স্বার্থান্বেষী ভূমিদস্যুদের চোখ পড়েছে। অসাধুসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে জালিয়াতির মাধ্যমে ভূমির ভূয়া কাগজপত্র তৈরিকরে রেকর্ডভুক্ত করে।”

মন্দিরের সরু প্রবেশ পথেরপশ্চিম পাশে দেবোত্তর ভূমি ‘জবরদখল’ করে বস্তি ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ চলছেবলে এসময় তিনি অভিযোগ করেন।

ভূমি পুনরুদ্ধারে কয়েক দশকধরে মোকাদ্দমা চালানো হলেও আজ পর্যন্ত কোনো ‘সুরাহা হয়নি’ বলেও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

“প্রায় ২০ বিঘা দেবোত্তরভূমির মধ্যে বেদখলকৃত প্রায় ১৪ বিঘা পরিমাণ ভূমি বর্তমানে আজম, মমিন মোটরস লি., বাংলাদেশপ্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, নাভানা রিয়েল এস্টেট, গফুর গং, অ্যাডভোকেট কামাল, জিন্নাহ্ও আজিম গং অন্যান্যদের দখলে বিদ্যমান। ১৪ বিঘা ভূমি পুনরুদ্ধারে কয়েক দশক ধরে মামলা-মোকাদ্দমাচালানো হলেও আজ পর্যন্ত তার কোনো সুরাহা হয়নি।”

এসময় আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনিবলেন, “এতে শুধু মন্দিরের পবিত্রতাই নষ্ট করা হয়নি, একইসঙ্গে মন্দিরে আগত ভক্ত-পর্যটক,সরকার ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাও ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”

সংগঠনের এক প্রচারপত্রে বলাহয়েছে, প্রায় ৮০০ বছর আগে ঢাকেশ্বরী মন্দির স্থাপিত হয়। মহারাজা মানসিংয়ের সময় প্রায়৫০০ বছর আগে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সংস্কার হয়। সে সময় মূল মন্দিরের পাশে ৪টি শিবমন্দিরস্থাপন।

ভাওয়ালের রাজা রাজেন্দ্রনারায়ণ রায় বাহাদুরের আমলে ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের জন্য ২০ বিঘাভূমি সরকারের ২১৬৮ নং খাতভুক্ত মহালে দেবোত্তর ভূমি হিসেবে রেকর্ডভুক্ত হয়। পরে ১৯০৮সালে তার ছেলেরা এক দলিল নিবন্ধনের সময় সিদ্ধান্ত নেন, উত্তরাধিকার হিসেবে তারা বাসেবায়েত বা উত্তরাধিকার শুধুমাত্র ভোগ দখলের অধিকার ব্যতীত সম্পত্তি বিক্রয় বা হস্তান্তরকরতে পারবে না।

পূর্ববঙ্গে সরকারের আনুষ্ঠানিকভূমি জরিপ শুরু হলে বাংলাদেশ সরকারের আমলে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সমুদয় দেবোত্তর ভূমিহিসেবে ঢাকা মৌজার সিএস ৩০ থেকে ৪৩ নং দাগে রেকর্ডভুক্ত হয়। নকশায় স্পষ্ট করে পাকাপিলারসহ চৌহদ্দিকৃত হয়। পরে পাকিস্তান আমলে এস এ জরিপে লালবাগ মৌজার ৯৪ থেকে ১১৭ দাগেরেকর্ডভুক্ত হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক