মেলায় ‘উসকানিমূলক বই’ ঠেকাতে সহযোগিতা করবে পুলিশ

বইমেলায় আসা বইয়ের মধ্যে ‘উসকানিমূলক’ কোনো উপাদান থাকছে কী না- সে দিকে নজর রাখার কথা বলেছেন ঢাকার পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Jan 2018, 01:34 PM
Updated : 30 Jan 2018, 01:34 PM

একুশে গ্রন্থমেলা সামনে রেখে মঙ্গলবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মেলা প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা প্রস্তুতি ঘুরে দেখার পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, যে কোনো নতুন বই মেলায় এলে বাংলা একাডেমি তা যাচাই বাছাই করে দেখবে, যাতে কোনো বই ‘ধর্মীয়, সামাজিক ও জাতীয় মূল্যবোধে’ আঘাত না করতে পারে।

আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ কাজে বাংলা একাডেমিকে ‘সব রকম সহযোগিতা’ করতে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেন ঢাকার পুলিশ প্রধান।

২০১৫ সালে বই মেলা চলাকালে মেলা প্রাঙ্গণের বাইরে জঙ্গি হামলায় নিহত হন লেখক অভিজিৎ রায়। এর পর থেকে মেলায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি বাড়ার পাশাপাশি বইয়ের বিষয়বস্তুর দিকেও নজরদারি শুরু হয়।

পরের বছর বইমেলায় আসা ‘ইসলাম বিতর্ক’ নামের একটি বইয়ে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত’ হানার উপাদান রয়েছে দাবি করে বাংলা একাডেমির সায় নিয়ে বইটির প্রকাশনা সংস্থা ব-দ্বীপের স্টল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। পাশাপাশি ব-দ্বীপের মালিক ও বইটির সম্পাদক শামসুজ্জোহা মানিক, এক বিপণনকর্মী এবং বইটির ছাপাখানার মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়।

মানিকের মুক্তি আন্দোলনে সামনের কাতারে থাকা রবিন আহসানের প্রকাশনা সংস্থা শ্রাবণ প্রকাশনীকে গতবারের বইমেলায় নিষিদ্ধ করে বাংলা একাডেমি। পরে সমালোচনা-প্রতিবাদের মুখে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে তারা।

নিরাপত্তা

আছাদুজ্জামান মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, পুরো ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এ বইমেলাকে নিরাপদ করতে সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি তারা নিয়েছেন।

এবারও ভ্যানিটি ব্যাগ বা ব্যাগপ্যাক নিয়ে মেলায় প্রবেশ করা যাবে না। সঙ্গে দাহ্য বস্তু বা ধারালো কিছু রাখা চলবে না। সবাইকে মেলায় ঢুকতে হবে আর্চওয়ে পেরিয়ে। পাশাপাশি মেটাল ডিটেকটর দিয়ে তল্লাশি করা হবে।

মেলা প্রাঙ্গণ ছাড়াও নীলক্ষেত, বকশিবাজার ও শাহবাগ এলাকা ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে পুলিশ। নজরদারি করা হবে ওয়াচ টাওয়ার ও ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায়।

মেলার বাংলা একাডেমি অংশে দুটো প্রবেশ ও একটি বের হওয়ার পথ থাকবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিনটা পথে প্রবেশ করে ‍দুটো পথে বের হওয়া যাবে।

পুলিশ কমিশনার বলেন, “বই মেলা শেষ দিন পর্যন্ত নিরাপদ রাখতে যা যা প্রয়োজন সব করা হবে। যদি কোনো লেখক ও প্রকাশকের বিশেষ নিরাপত্তা প্রয়োজন হয়, তাহলে মেলায় স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোল রুমে যোগাযোগ করলে তাদের নিরাপত্তা প্রদান করা হবে।”

৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণা করবে আদালত। সেদিন গ্রন্থমেলা প্রাঙ্গণে কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সেদিকেও পুলিশের নজরদারি থাকবে বলে পুলিশ কমিশনার জানান।

গাড়ি রাখার জায়গা

বইমেলা উপলক্ষে ১ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ও সংলগ্ন এলাকা, দোয়েল চত্বর, বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি এলাকায় যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে পুলিশ। 

>> বইমেলা চলাকালে দোয়েল চত্বর ক্রসিং থেকে টিএসসি পর্যন্ত বাংলা একাডেমির স্টিকারযুক্ত গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারবে না।

>> মেলায় আসা যানবাহন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেশিয়াম মাঠ, মোকাররম ভবন মাঠ, দোয়েল চত্বর ক্রসিং থেকে শহীদুল্লাহ হল পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে এক লেইনে রাখা যাবে। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মলচত্বর ও ফুলার রোডের দুই পাশে এক লেইনে রাখা যাবে গাড়ি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক