গৌতম বুদ্ধের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রতিবেদন ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’

বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ক্ষেপিয়ে তোলার উদ্দেশ্যে গৌতম বুদ্ধকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যায়িত করে দৈনিক জনকণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে বলে মনে করছে ‘বৌদ্ধ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পুরাকীর্তি সংরক্ষণ পরিষদ’।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 May 2017, 06:08 PM
Updated : 21 May 2017, 06:08 PM

রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু বলেন, “আমরা মনে করি, সার্বিকভাবে ভিত্তিহীন ও মিথ্যাচারপূর্ণ এসব প্রতিবেদন বৌদ্ধদের বিরুদ্ধে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠীকে ক্ষেপিয়ে তোলার হীন উদ্দেশ্যে প্রণীত।”

এই প্রতিবেদন বিশেষত পাহাড়ি এলাকায় সাম্প্রদায়িকতাকে উস্কে দিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে বরে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

গত ২৪ এপ্রিল জনকণ্ঠে একটি প্রতিবেদনে গৌতম বুদ্ধকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া হয়।

উইকিপিডিয়ার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদক গৌতম বুদ্ধকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিলেও উইকিপিডিয়ার কোথাও এই রকম কোনো বিশেষণ না থাকার বিষয়টি তুলে ধরেন প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু।

তিনি বলেন, “প্রতিবেদনে বলা হয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সঙ্গে মিয়ানমারের সন্ত্রাসী দলগুলোর যোগাযোগ আছে। বৌদ্ধ ভিক্ষু এবং বৌদ্ধ যুবকরা মিয়ানমারে গিয়েও সেখানকার চরমপন্থি মুসলামান বিদ্বেষী ‘৯৬৯’ সংগঠনে অস্ত্র প্রশিক্ষণ নেয়।

“আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, মিয়ানমারের তথাকথিত ‘৯৬৯’ আন্দোলনের সাথে বাংলাদেশের বৌদ্ধ ভিক্ষুদের কোনো সম্পর্ক নেই।”

এই প্রসঙ্গে মিয়ানমারে মুসলিম রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের নিন্দাও জানান প্রজ্ঞানন্দ।

উস্কানিমূলক প্রতিবেদন প্রকাশকারী সংবাদপত্রটিতে সমান গুরুত্ব দিয়ে ভুল স্বীকার এবং ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান তিনি। প্রতিবেদক, সম্পাদক ও প্রকাশকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতেও সরকারের প্রতি তিনি দাবি জানান।

আগামীতে যাতে কোনো গণমাধ্যমে এ ধরনের সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক প্রতিবেদন প্রকাশিত না হতে পারে সেজন্য বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনাও প্রত্যাশা করেন প্রজ্ঞানন্দ ভিক্ষু।

সংবাদ সম্মেলনে নৃবিজ্ঞানের সাবেক শিক্ষক রেহনুমা আহমেদ এবং বাসদ নেতা শামসুন্নাহার জোৎস্না উপস্থিত ছিলেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক