গুলশান হামলা: ৪ ‘অস্ত্র সরবরাহকারী’ গ্রেপ্তার

গুলশান হামলায় ব্যবহৃত গ্রেনেড তৈরির কাঁচামাল ও অস্ত্র সরবরাহ করার অভিযোগে চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদকও আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Nov 2016, 09:18 AM
Updated : 3 Nov 2016, 01:20 PM

এরা হলেন- মো. আবু তাহের (৩৭), মিজানুর রহমান (৩৪), মো. সেলিম মিয়া (৪৫) ও তৌফিকুল ইসলাম ওরফে ডা. তৌফিক (৩২)। সবাই জেএমবির সক্রিয় সদস্য।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট বুধবার রাতে রাজধানীর দারুস সালামে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে বলে ডিএমপির উপ-কমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মাসুদুর রহমান জানান।

গ্রেপ্তার চারজনকে বৃহস্পতিবার ঢাকার আদালতে নিয়ে ১০ দিন হেফাজতের আবেদন জানান দারুস সালাম থানার এসআই দেলোয়ার হোসেন।

শুনানি শেষে মহানগর হাকিম স্নিগ্ধা রাণী চক্রবর্তী তিন দিন হেফাজতের আদেশ দেন বলে আদালত পুলিশের কর্মকর্তা এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান।

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার এই আসামিদের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি।

পুলিশ কর্মকর্তা মাসুদুর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তাদের হেফাজত থেকে হ্যান্ডমেইড গ্রেনেড তৈরির মূল উপকরণ ৭৮৭টি ডেটোনেটর ও একটি নাইন এমএম বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়।”

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র ও বিস্ফোরক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান।

মাসুদুর বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতরা দেশব্যাপী চালানো সাম্প্রতিক নব্য জেএমবির হত্যাকাণ্ডগুলোতে ব্যবহৃত গ্রেনেডের ডেটোনেটর, জেল ও অস্ত্র ভারত থেকে চোরাচালানের মাধ্যমে নিয়ে আসত।”

এদের মধ্যে মিজানুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেএমবির নেতৃত্বে রয়েছে জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, তিনি ‘বড় মিজান, ‘ছোট মিজান’ ও ‘তারা’ নামও ব্যবহার করতেন।

“ধারণা করা হচ্ছে, ঢাকায় নতুন করে কোনো নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে গ্রেপ্তারকৃত জেএমবির বর্তমান নেতৃত্বের নির্দেশ ও পরামর্শ মোতাবেক এই ডেটোনেটর ও অস্ত্র ঢাকায় নিয়ে আসে।”

এসব অস্ত্রশস্ত্র চোরাচালানের পর ছোট মিজান ওরফে তারা গুলশান হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরী ও মারজানের কাছে পৌঁছে দেয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে।

হেফাজতে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও তথ‌্য বেরিয়ে আসবে বলে পুলিশ কর্মকর্তারা আশা করছেন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক