হলি আর্টিজান মামলায় হাসনাত রিমান্ডে

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার মামলায় প্রথম আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজাউল করিমকে আট দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি পেয়েছে পুলিশ।

আদালত প্রতিব্কেবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 August 2016, 11:04 AM
Updated : 28 August 2016, 11:23 AM

তবে হাসনাতের সঙ্গে উদ্ধার কানাডার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসিব খানকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। শনিবার তাকে ৫৪ ধারায় মামলায়ই আরও ছয় দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আদালত।

এদিন ঢাকার মহানগর হাকিম ইমদাদুল হকের আদালতে হাসনাতের পক্ষে রিমান্ড বাতিলের আবেদনও করা বলে তার পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী মাহবুবুল আলম দুলাল জানিয়েছেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “আদালত হাসনাতের রিমান্ড বাতিলের আবেদন বাতিল করে তাকে আট দিন রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।”

গত ১ জুলাই ওই জঙ্গি হামলার দুই দিন পর সন্ত্রাস দমন আইনে নিহতদের পাশাপাশি ‘অনেককে’ আসামি করে মামলাটি করেছিল পুলিশ।

হামলার পরদিন কমান্ডো অভিযানে সেখান থেকে উদ্ধার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাতকে সন্দেহের কথা জানালেও এক মাস পর তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ।

তারপর তাকে হেফাজতে নিয়ে আট দিন জিজ্ঞাসাবাদের পর ওই ক‌্যাফেতে জঙ্গি হামলা চালিয়ে হত‌্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর কথা শনিবারই জানান পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক হুমায়ুন কবির হাসনাতকে ১০ দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিলেন।

হাসনাতের সঙ্গে উদ্ধার আফতাব বহুমুখী ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রহিম খান শাহরিয়ারের ছেলে তাহমিদ হাসিব খানকেও ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন‌্য আট দিনের হেফাজতে নেওয়া হয়।

শনিবার আদালতে তাহমিদ হাসিব খান

তাকে গুলশান হত‌্যাকাণ্ডের মামলায় গ্রেপ্তার না দেখিয়ে ৫৪ ধারায় মামলায়ই আরও সাত দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ।

শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ গোলাম নবী ছয় দিন মঞ্জুর করেন বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছেন আদালতের সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা এসআই রণপ কুমার ভক্ত।

তিনি বলেন, “তাহমিদের পক্ষে তার জামিন আবেদনও করা হয়েছিল। আদালত তা নাকচ করে তাকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।”

যুক্তরাজ‌্যের নাগরিকত্ব পাওয়া বাংলাদেশি হাসনাতকে গত ৪ অগাস্ট ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানোর পর ডিএমপির উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান বলেছিলেন, হামলায় জড়িত থাকার ‘সন্দেহাতীত প্রমাণ’ পাওয়া গেলে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।

সেক্ষেত্রে হাসনাতকে আট দিন জিজ্ঞাসাবাদে গুলশান হামলায় তার জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা মুখ খোলেননি।

গুলশান হামলায় হাসনাতের এক সময়ের কর্মস্থল নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ‌্যালয়ের ছাত্র নিবরাজ ইসলামের জড়িত থাকার প্রমাণ এবং হামলায় সময়ে ধারণ করা কিছু ভিডিওতে তার গতিবিধি গোয়েন্দাদের সন্দেহের উদ্রেক ঘটায়।

হলি আর্টিজানে কমান্ডো অভিযান শুরুর আগের এক ছবিতে ক্যাফের ছাদে দুই ব্যক্তির সঙ্গে হাসনাত রেজাউল করিমকে দেখা যায়

গত ২ অগাস্ট হলি আর্টিজান বেকারিতে অভিযান শেষে উদ্ধার ১৩ জনসহ ৩২ জনকে নেওয়া হয়েছিল গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে। জিজ্ঞাসাবাদ ও যাচাই-বাছাই করে তাদের অনেককে ছেড়ে দেওয়া হলেও হাসনাত ও তাহমিদকে ফিরে না পাওয়ার কথা জানানো হয় পরিবারের পক্ষ থেকে।

তার কয়েকদিন আগে পুলিশ মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছিলেন, গুলশানের ঘটনায় উদ্ধার পাওয়া হাসনাত করিম ‘সন্দেহমুক্ত নন’।

তবে হাসনাতের পরিবারের দাবি, মেয়ের জন্মদিন উদযাপনে ওই দিন সপরিবারে হলি আর্টিজানে গিয়েছিলেন হাসনাত।

প্রায় এক মাস পর গত ৪ অগাস্ট হাসনাত ও তাহমিদকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ। তারপর নেয় রিমান্ডে।

১ জুলাই রাতে গুলশানের ওই ক্যাফেতে জঙ্গি হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২২ জনকে হত‌্যার পরপরই ফেইসবুকে নানাজন হাসনাতের সম্পৃক্ততার সন্দেহের কথা জানায়।

নিষিদ্ধ সংগঠন হিযবুত তাহরীরের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে হাসনাতকে ২০১২ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছিল বলে গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে অনেকে লেখেন ফেইসবুকে।

বাংলাদেশে নজিরবিহীন এই হামলায় আইএস দায় স্বীকার করে পাঁচ হামলাকারীর ছবি প্রকাশ করলেও পুলিশ দেশীয় জঙ্গি দল জেএমবিকে দায়ী করে আসছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক