র‌্যাবের জালে ‘নতুন জঙ্গি দল’

গুলশান ও  শোলাকিয়ায় হামলার পর চলমান অভিযানে ঢাকার হাজারীবাগ থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের পর নতুন একটি জঙ্গি দলের খোঁজ পাওয়ার দাবি করেছে র‌্যাব।

লিটন হায়দারবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 August 2016, 11:09 AM
Updated : 3 August 2016, 05:49 PM

মঙ্গলবার রাতভর অভিযানে গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে ‘আল আনসার’ নামে নতুন দলটির প্রধান সমন্বয়কারী হাফেজ মোহা. রাশিদুল আলমও রয়েছেন বলে বুধবার র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

র‌্যাব-২ এর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান বলেন, হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজি) থেকে বেরিয়ে ‘আল আনসার’ নামের একটি নতুন দল গঠনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছিলেন রাশিদুল।

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টার কয়েকটি মামলায় প্রধান সন্দেহভাজন হুজি নিষিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দলটির আমির মুফতি আব্দুল হান্নান বেশ কয়েক বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন।

“গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযানের কারণে হরকাতুল জিহাদ বর্তমানে নিষ্ক্রিয় বলে অনুমিত হয়েছিল। .... আটককৃত জঙ্গিরা সবাই পূর্ববর্তী হুজির সক্রিয় সদস্য। ক্রমাগত অভিযানের ফলে তারা নতুন জঙ্গি সংগঠন আল আনসার নামে দুই বছর আগে কার্যক্রম শুরু করে,” বলেন মুফতি মাহমুদ।

গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলায় আরেক নিষিদ্ধ সংগঠন জেএমবি জড়িত বলে  পুলিশের ভাষ্য। নিষ্ক্রিয়  হয়ে পড়া এই দলটিকে ‘নিউ জেএমবি’ হিসেবে তানিম আহমেদ চৌধুরী নামে কানাডা প্রবাসী গোছাচ্ছিলেন বলে পুলিশ প্রধান এ কে এম শহীদুল হক একদিন আগে জানিয়েছিলেন।

বাংলাদেশে গত দেড় বছরে বিভিন্ন জঙ্গি হামলায় জেএমবির পাশাপাশি আনসারুল্লাহ বাংলাটিম জড়িত বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। এই দলটির নেতা মুফতি জসীমউদ্দীন রাহমানী কয়েক বছর ধরে কারাবন্দি।

সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে আলোচনার মধ্যে নতুন জঙ্গি দল আল আনসারের খবর দিল র‌্যাব।

রায়েরবাজারে শিকদার মেডিকেল কলেজের পেছনে ‘আল জমিয়াতুল উলুম মাদ্রাসা’র দক্ষিণ পাশের একটি বাড়ি থেকে রাশিদুল (২৫) ওরফে রাশেদ ওরফে বাবুকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে র‌্যাব জানায়।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন- আবু বক্কর মনির (২৩), আবদুল্লাহ আল মামুন মিয়া (২৬), রাইসুল ইসলাম ওরফে রাসেল (২৫) ও আব্দুল মালেক (৩৫)।

মুফতি মাহমুদ বলেন, রাশিদুলের সঙ্গে মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যে রায়ের বাজারের বারৈখালির জসীম উদ্দিন নামে একজনের বাড়ি থেকে অন্য তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তাদের কাছ থেকে আল কায়দার শীর্ষ নেতা আইমান আল জাওয়াহিরির লেখা থেকে ভাষান্তরিত পুস্তিকা, বিভিন্ন জিহাদি বই, ল্যাপটপ ও ডেক্সটপ কম্পিউটার, প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত কর্মসূচি, ইলেকট্রনিক ডিভাইসসহ বিভিন্ন ধরনের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম পাওয়া গেছে বলে র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক মো. মহিউদ্দিন জানান।

মুফতি মাহমুদ বলেন, রাশিদুল উর্দু-আরবি ভাষা পারদর্শী। তিনি জিহাদি বই অনুবাদ করে থাকেন। কর্মী সংগ্রহসহ নানা ধরনের প্রশিক্ষণও দিয়ে আসছিলেন তিনি।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক জঙ্গি হামলার পর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে র‌্যাব। তাতে জানা যায় যে রাজধানীতে নাশকতা চালাতে বেশ কিছু জঙ্গি সদস্য হাজারীবাগের একটি বাসা ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছে। এরপর র‌্যাব সেখানে অভিযান চালায়।

র‌্যাবের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন পেশার ছদ্মাবরণে জঙ্গি সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলেন, গ্রেপ্তার রাসেল গাড়ি চালাতেন এবং সংগঠনের বিভিন্ন সরঞ্জাম বহন করতেন, মনির ও মালেক রিকশাচালক হিসেবে মালামাল বহন করতেন এবং নিম্নবিত্তের মানুষের কাছে সংগঠনের দাওয়াত পৌঁছাতেন, মামুন জিহাদি বই কম্পিউটারে টাইপ করতেন।    

হুজির জঙ্গিদের সারাদেশে একযোগে নাশকতা সৃষ্টির সক্ষমতা না থাকলেও তাদের কার্যক্রম যে একদম বন্ধ হয়নি এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার তাই প্রমাণ করে, বলেন মুফতি মাহমুদ।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক