গুলশান: জঙ্গিদের লাশ থেকে আরও নমুনা সংগ্রহ

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর অভিযানে নিহতদের মৃতদেহ থেকে দ্বিতীয় দফায় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 July 2016, 07:38 AM
Updated : 22 July 2016, 07:15 AM

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনিসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ বুধবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “প্রতিটি বডি থেকে ২০ মিলিলিটার রক্ত এবং অন্তত ৩০টি করে চুল সংগ্রহ করা হয়েছে। এগুলো প্রিজার্ভ করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।”

গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি নামের ওই ক্যাফেতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৭ বিদেশিসহ ২০ জনকে হত্যা করে হামলাকারীরা। তাদের ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। 

প্রায় ১২ ঘণ্টা পর সশস্ত্র বাহিনী অভিযান চালিয়ে ওই ক্যাফের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সে সময় নিহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজনকে জেএমবি সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।

ওই ছয়জনের মধ্যে সাইফুল চৌকিদার নামে একজন ছিলেন ওই বেকারির পাচক। তিনিও ‘হামলাকারীদের সঙ্গে থেকে তাদের সহায়তা করেন’ বলে পুলিশের ভাষ্য।

গুলশান হামলার ঘটনায় পুলিশ যে মামলা করেছে, তার আসামির তালিকায় ওই ছয়জনেরই নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

হামলায় নিহত ১৭ বিদেশির মৃতদেহ তাদের দেশে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদশি পাঁচজনের মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে পরিবারের কাছে।

আর হামলাকারী ও সহযোগীতারকারী হিসেবে চিহ্নিত ছয়জনের লাশ এখনো ঢাকা সিএমএইচের মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছে।

কমান্ডো অভিযানের পর নিহতদের লাশ রাখা হয় হলি আর্টিজান বেকারির সামনে।

হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের জঙ্গিদল আইএস গুলশান হামলার দায় স্বীকার করেছে বলে খবর এলেও বাংলাদেশ সরকার বলে আসছে হামলাকারীরা দেশীয় জঙ্গি।

অবশ্য আইএস জঙ্গিদের মত গুলশানের হামলাকারীরাও বিশেষ ধরনের মাদকে আসক্ত ছিলেন কি না, সে পরীক্ষার জন্য ময়নাতদন্তের সময়ই ছয়জনের রক্ত, দাঁত ও উরুর মাংস সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ জানিয়েছেন।

তাহলে আবার কেন নমুনা নেওয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা মৃতদেহ থেকে পাঁচ মিলিলিটার রক্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু তদন্তকারী সংস্থা আরো ২০ মিলিলিটার রক্ত ও নমুনা চাওয়ায় এই নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।”

নৃশংস কায়দায় মানুষ হত্যার মাধ্যমে সারা বিশ্বে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া আইএস যোদ্ধারা ‘ক্যাপ্টাগন’ নামের এক মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে দিনের পর দিন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে গোয়েন্দা ও সমর বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

ষাটের দশক থেকেই পশ্চিমা দেশগুলোতে ক্যাপ্টাগন পাওয়া যায়। শুরুতে বিষন্নতা কাটানোর চিকিৎসায় এটি ব্যাবহার করা হলেও পরে এটি নেশার বড়ি হিসেবে ব্যাবহৃত হতে শুরু করে। বিশ্বের অনেক দেশেই এখন ক্যাপ্টাগন নিষিদ্ধ।

শুধু আইএস যোদ্ধাদের মধ্যেই নয়, সৌদি আরব সহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে রয়েছে ক্যাপ্টাগণের ব্যাপক ব্যাবহার। ধারণা করা হয়, সৌদি আরবে প্রতি বছর ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষ এই নেশার জন্য চিকিৎসা নিয়ে থাকে।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাপ্টাগনের বড় উৎস হয়ে উঠেছে সিরিয়া। সেখান থেকে ইউরোপ সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাচার হচ্ছে এই মাদক।

মেডস্টার ওয়াশিংটন হসপিটাল সেন্টারের চিকিৎসক রবার্ট কিসলিং ক্যাপ্টাগনের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন,“ আপনি দিনের পর দিন জেগে থাকতে পারবেন। ঘুম আসবে না। এ নেশা আপনাকে ভালোলাগার অনুভূতি আর চরম আনন্দে রাখবে। আপনি নিজেকে অপরাজেয় মনে করবেন, ভাববেন কেউ আপনার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাপ্টাগনের এই জাদুকরী প্রভাবই যুদ্ধের ময়দানে জঙ্গিদের জাগিয়ে রাখার পাশাপাশি উগ্র মতবাদ লালনের শক্তি যোগাচ্ছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক