তালিকা ‘প্রায় চূড়ান্ত’, গুলশানে অভিযান ‘শিগগির’

রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকার বিভিন্ন আবাসিক ভবনে গড়ে তোলা অননুমোদিত হোটেল-রেস্তোরাঁ ও অন্যান্য বাণিজিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রায় চূড়ান্ত হয়েছে বলে রাজউকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ওবায়দুর মাসুমবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 July 2016, 02:49 PM
Updated : 31 July 2016, 07:31 PM

গত ১ জুলাই গুলশান-২ এর হলি আর্টিজান বেকারিতে নজিরবিহীন জঙ্গি হামলার পর ঢাকার অভিজাত এই এলাকার অননুমোদিত স্কুল, কলেজ ও হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সব প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

রাজউকের অথোরাইজড অফিসার মোহাম্মদ আদিলউজ্জামান মঙ্গলবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, ঈদের পরই গুলশান, বনানী ও বারিধারা এলাকায় অবস্থিত অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়।

রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) আবদুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এসব প্রতিষ্ঠানের লিস্ট প্রায় ফাইনাল। এ সপ্তাহেই তা চূড়ান্ত করতে পারব।

“আগামী রোববার রাজউক তালিকাটি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে জমা দেবে।”

ওই বৈঠকেই অভিযান শুরুর দিনক্ষণ ঠিক করা হতে পারে বলে মনে করছেন রাজউকের এই সদস্য।

প্রথমে হোটেল-রেস্তোরাঁ দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে বলে জানান রহমান।

“সব প্রতিষ্ঠানই এর আওতায় আছে। তবে আমরা হোটেল-রেস্তোরাঁকে প্রায়োরিটি দিচ্ছি। এগুলো দিয়েই শুরু করব।”

হলি আর্টিজানে হামলায় ১৭ বিদেশিসহ অন্তত ২২ নাগরিক নিহত হন; এ ঘটনা বিশ্বব্যাপী আলোচনায় এসেছে।

এ হামলার পর ঈদের ছুটি শেষে রোববারই প্রথম সরকারি অফিসে কাজ শুরু হয়। ওই দিন সচিবালয়ে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে গুলশানের ও এর আশপাশের এলাকায় অননুমোদিত সব প্রতিষ্ঠান বন্ধের সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠকের পর শিল্পমন্ত্রী আমির হোসনে আমু সাংবাদিকদের বলেন, গুলশানের ‘রেসিডেনসিয়াল এরিয়ায়’ যত্র তত্র গড়ে ওঠা রেস্তোরাঁ, হসপিটাল, বিভিন্ন রকম স্কুল-কলেজলোকে তদারকির আওতায় আনা হবে। বিচ্ছিন্ন-বিক্ষিপ্তভাবে এধরনের স্থাপনা যাতে গড়ে উঠতে না পারে সেজন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

“এবং উইদাউট পারমিশনে যেগুলো হয়েছে, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।”

এর আগে গত ৪ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের এলাকায় আবাসিক প্লট ও ভবন থেকে সব ধরনের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সরাতে ছয় মাস সময় বেঁধে দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলো না সরালে সেগুলো উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল মন্ত্রিসভা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক