‘স্যরি স্যার’

নারায়ণগঞ্জে স্কুল শিক্ষককে কান ধরিয়ে উঠ-বস করানোর নিন্দা জানিয়ে ফেইসবুকে চলছে অভিনব প্রতিবাদ- ‘স্যরি স্যার’।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 May 2016, 12:08 PM
Updated : 17 May 2016, 04:00 PM

নিজেদের কান ধরা ছবি তুলে ‘স্যরি স্যার’ লিখে অনেকেই নিজের ফেইসবুক ওয়ালে পোস্ট করছেন ছবি, পরিবর্তন করছেন প্রোফাইল পিকচার।

সোমবার এ উপলক্ষে একটি ইভেন্টও খোলা হয়েছে ফেইসবুকে। ‘স্যারের জন্য প্রতিবাদ ও একটি ছবি’- ইভেন্টে অনেকেই নিজের কান ধরা ছবি শেয়ার দিচ্ছেন।

শুক্রবার ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে’ আঘাত দেওয়ার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে জখম করে স্থানীয় জনতা। এক পর্যায়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান তাকে কান ধরে উঠ-বস করতে বাধ্য করেন।

এ ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার পাশাপাশি শিক্ষক লাঞ্ছনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি উঠেছে।

ওই ঘটনায় কোনো ফৌজদারি অপরাধ ঘটেনি দাবি করে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেছেন, পুলিশের করার কিছু নেই।

অবশ্য মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, যারা এ অপরাধে জড়িত তাদের শাস্তি পেতে হবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে সোমবার তার ফেইসবুক ওয়ালে একটি পোস্ট দেন।

“নারায়ণগঞ্জে শিক্ষককে অপমান করার তীব্র নিন্দা জানাই। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। আশাকরি তা দ্রুত করা হবে।”

শুধু ইভেন্ট খুলে প্রতিবাদ নয়, হ্যাশট্যাগ দিয়েও ‘স্যরি স্যার’, ‘উই আর স্যরি স্যার’ লিখে প্রতিবাদ করছেন অনেকেই।

অভিনেতা ইরেশ যাকের তার ফেইসবুক প্রোফাইল পিকচারে দিয়েছেন নিজের কানে ধরা ছবি।

শিক্ষক শ্যামল কান্তির বরখাস্ত হওয়ার পর প্রবাসী সাংবাদিক ফজলুল বারী ফেইসবুকে লিখেছেন, “আইনমন্ত্রীকে কী ফাউল বানালো শয়তান এমপি সেলিম ওসমান? মন্ত্রী বললেন শিক্ষক নিগ্রহকারী সেলিম ওসমানের বিচার করবেন, আর সেলিম ওসমান আইনমন্ত্রীর মুখে থাপ্পর মেরে উল্টো বরখাস্ত করেছে সেই শিক্ষককে!”

অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট অনন্য আজাদ লিখেছেন, “যে ভূখণ্ডে শিক্ষকের সম্মান দেওয়া হয় না, সেখানে সন্ত্রাসীরাই শিক্ষকের ভূমিকা পালন করে।”

ইব্রাহিম খলিল সবাক নামে একজন লিখেছেন, “শ্যামল কান্তি সাময়িক বরখাস্ত। এবার একটা ভিসার ব্যবস্থা করে দেশছাড়া করে দেন। ইস্যুটা ক্লোজ করে দেন। আমরা ক্লান্ত।”

প্রদীপ ঘোষ নামে একজন তার ফেইসবুকের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “আসুন আমরা সবাই নিজের কানে ধরে শিক্ষকের কাছে ক্ষমা চাই। হোক প্রতিবাদ।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃ-বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক রাহমান নাসির উদ্দিন লিখেছেন, “একজন শিক্ষককে কান ধরে উঠ-বস করানোর ঘটনায় সমাজের সর্বস্তরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। রাজনীতিবিদ থেকে মন্ত্রী, সাংবাদিক থেকে সাধারণ মানুষ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

“সোশাল মিডিয়ায় তুমুল ঘৃণা (যিনি করিয়েছেন তার প্রতি) এবং গভীর সমবেদনা (যিনি করেছেন তার প্রতি) বর্ষিত হচ্ছে। সমাজের সর্বস্তরে যে-পরিমাণ এবং যে-মাত্রায় প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তাতে প্রতিভাত হয়, মানুষ এখনও 'শিক্ষক'কে একটা বিশেষ সম্মান, শ্রদ্ধা এবং মর্যাদার জায়গা থেকে দেখে থাকে। একজন শিক্ষক হিসাবে আমিও বেশ সম্মান বোধ করছি।

“পাশাপাশি, আমরা শিক্ষকরাও যেন সর্বদা সচেষ্ট থাকি যাতে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের গভীর শ্রদ্ধা এবং সম্মানের সত্যিকার যোগ্য যেন আমরা হয়ে উঠতে পারি।”

অমিয় দত্ত ভৌমিক নামে একজন নিজের কান ধরা ছবি পোস্ট দিয়ে লিখেছেন, “স্যার, এভাবেই আমরা আপনার অপমানের কিছুটা ভাগ নিতে চাই।”

সংগীত শিল্পী কফিল আহমেদ লিখেছেন, “আমরা কি ভুলে গেছি শ্যামল কান্তি একজন মানুষ! শিক্ষক হবার চাইতে বড়ো কথা শ্যামল কান্তি অবশ্যই একজন মানুষ। এবং যে কোনো মানুষের উপর এই বর্বরতা সহ্য করবার কোনো কারণ নাই।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক