গণহত্যার সেই দিনে দিনব্যাপী কর্মসূচি

২৫ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’ ঘোষণার দাবি জানিয়ে একাত্তরে ওইদিন নিহতদের স্মরণে দিনব্যাপী কর্মসূচি দিয়েছে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বাধীন একটি সংগঠন।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 March 2016, 06:32 AM
Updated : 22 March 2016, 06:40 AM

মঙ্গলবার সকালে রাজধানীতে ‘আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলন’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের আহ্বায়ক শাজাহান খান।

তাদের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকাল ১০টা থেকে একাত্তরে গণহত্যার আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বিকাল ৪টা থেকে মুক্তিযুদ্ধের গান ও গণহত্যা নিয়ে চিত্রাঙ্কন এবং ‘গণহত্যার জীবনচিত্র’ প্রদর্শন।

সন্ধ্যায় বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণহত্যায় নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সহস্র মোমবাতি প্রজ্জ্বলন।

সব কর্মসূচিই মানিক মিয়া এভিনিউয়ে পালন করা হবে বলে শাজাহান খান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “শুধু বাংলাদেশের জন্যই নয়, আজকের সুসভ্য বিশ্ব সমাজ ও বিশ্বমানবতার অগ্রযাত্রার স্বার্থেও অন্তত একটি দিন গণহত্যার মত পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জন্য নির্ধারিত থাকা প্রয়োজন।

“জাতিসংঘের বিধান অনুযায়ী প্রস্তাবটি কোনো দেশের সরকারের তরফ থেকে আসতে হবে বিধায় জনগণের এই যৌক্তিক দাবির আলোকে গণহত্যার নির্মম শিকার বাঙালি ও বিশ্বের সকল হতভাগা মানুষের পক্ষ থেকে আমরা আমাদের সরকারের কাছে এই প্রস্তাব পেশ করছি।”

ফাইল ছবি

১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ সমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ ভোটে জিতলেও ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি ছিল না পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী। এর মধ্যেই ৭ মার্চ বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।

মার্চ মাসজুড়ে ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণের পর ২৫ মার্চ মধ্যরাতে বাঙালি নিধনে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি সৈন্যরা। ঢাকায় ‘অপারেশন সার্চলাইট’ অভিযান নামে গণহত্যা শুরু করে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক সাংবাদিক আবেদ খান বলেন, “বাহান্ন’র ভাষা আন্দোলনের পর আন্তর্জাতিক মাতৃতভাষা দিবস হিসাবে ঘোষণা পেতে আমাদের অনেক সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এর পেছনে অনেকের আন্দোলন ও সংগ্রাম লেগেছিল।

“সেভাবে আমরা আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস পালনের দাবি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। প্রয়োজনে জাতিসংঘ পর্যন্ত এ দাবি নিয়ে যাওয়া হবে।”

এ সময় অন্যদের মধ্যে যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের সদস্য ইসমাত কাদির গামা, মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দিন আহমেদ (এসপি মাহবুব) উপস্থিতে ছিলেন।