বিজয় শোভাযাত্রায় 'সংস্কৃতির শক্তিতে' অশুভ নাশের ডাক

বিজয়ের ৪৪ বছর উদযাপনে 'সংস্কৃতির শক্তিতে' জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদসহ সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করার প্রত্যয়ে বিজয় শোভাযাত্রা করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Dec 2015, 11:15 AM
Updated : 16 Dec 2015, 01:04 PM

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে এই বিজয় শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার।

বিজয়ের ৪৫তম দিবসে 'যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পথে, জঙ্গিবাদকে দাঁড়াও রুখে' প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই শোভাযাত্রা শহীদ মিনার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দোয়েল চত্বর-মৎস্য ভবন গিয়ে শাহবাগে হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এসে শেষ হয়।

দেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর হওয়ায় এবারের বিজয় দিবসে ‘নতুন করে বিজয় লাভ করেছি’ বলে শোভাযাত্রার উদ্বোধনীতে মন্তব্য করেন রামেন্দু মজুমদার।

স্বাধীন সার্বভৌম দেশ অর্জনের পথে জীবন উৎসর্গ করা ৩০ লাখ শহীদ ও সম্ভ্রম হারানো মা-বোনসহ স্বাধীনতা যুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “এবারে বিজয় দিবস আমার কাছে মনে হচ্ছে-আমরা নতুন করে বিজয় লাভ করেছি।

"এই জন্যেই মনে হচ্ছে, আমাদের দীর্ঘ দিনের যে দাবি যুদ্ধাপরাধী এবং বুদ্ধিজীবী হত্যাকারীদের বিচার যেন এই বাংলার মাটিতে করা হয়-সেটা করা হয়েছে; সেই বিচারের কার্যক্রম চালু আছে।"

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া ও দণ্ড কার্যকরে সরকার 'শক্ত ও দৃঢ়' অবস্থান নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান এই প্রবীণ এই নাট্য ব্যক্তিত্ব।

ইতোমধ্যে কয়েকজন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর দণ্ড কার্যকরের প্রসঙ্গ তুলে রামেন্দু মজুমদার বলেন, "কেউ কি কোনো দিন ভাবতে পেরেছিল' এই বাংলার মাটিতে এই ধরনের ঘৃণ্য মানুষদের সত্যিকার অর্থে বিচার হবে?

“আজকের এই বিচার কার্য সম্ভব হয়েছে, আমরা সাধারণ মানুষ সরকারের পাশে ছিলাম বলে। এই সরকার জনমত সংগ্রহ করে এই বিচারে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।”

রাজধানীতে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের বিজয় শোভাযাত্রা

'জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে এগিয়ে চলা' এই দেশের বর্তমান অবস্থান থেকে পিছু হটার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, “কিছু অন্ধকার শক্তি- জঙ্গিবাদী, মৌলবাদী, সাম্প্রদায়িক শক্তি আমাদের পেছনে পাঠাতে চায়; কিন্তু আমাদের সাংস্কৃতিক শক্তি দিয়ে, শুভবুদ্ধি ও কল্যাণের শক্তি দিয়ে তাদের আমরা প্রতিহত করব।"

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে একাত্তরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অন্ধকার শক্তি জাতিকে পেছনে ঠেলে দিতে পারবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

শোভাযাত্রায় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল আকতারুজ্জামান, সহ-সভাপতি ঝুনা চৌধুরীসহ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা অংশ নেন।

দেশের বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের পোশাকসহ বাংলার লোক আঙ্গিকের পোশাক পরে উল্লাসে মেতে শোভাযাত্রায় অংশ নেন বেশ কয়েকজন নাট্যকর্মী।

শোভাযাত্রায় আবহমান বাংলা সংস্কৃতির ঢাক-ঢোল সানাই বাজানোর পাশাপাশি হাতে পোস্টার-ব্যানারসহ বিভিন্ন পোশাকে অনেক মুখাভিনয় শিল্পীকে বিজয়ের 'ভি চিহ্ন' দেখাতে দেখা যায়।

এতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে বিভিন্ন সময়ে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার অগ্রদূত এবং বাঙালি চেতনা ও সংস্কৃতিতে উদ্বুদ্ধকারী দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের প্রতিকৃতি বহন করেন সংস্কৃতি কর্মীরা।

এর মধ্যে ব্রিটিশ বিরোধী মাস্টারদা সূর্যসেন, তিতুমীর, কাঙাল হরিনাথ, স্বভাব কবি মুকুন্দ দাস, স্বামী বিবেকানন্দ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চারনেতাসহ প্রায় শতাধিক বাঙালি প্রাণপুরুষের প্রতিকৃতি স্থান পায়।

শোভাযাত্রায় নতুন প্রজন্মকে এই সব বাঙালি বীর সন্তানদের আদর্শ ও চেতনা বুকে ধারণ করা আহ্বান জানান জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।