প্রাণ বাঁচাতে নিজেকে 'সৈনিক' বলেন লে. কর্নেল মুকিম

পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সময় প্রাণ বাঁচাতে নিজেকে 'কর্মকর্তা'র বদলে 'সৈনিক' হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানিয়েছেন এ মামলার সাক্ষী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল মুকিম সরকার।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Nov 2011, 08:24 AM
Updated : 2 Nov 2011, 08:24 AM
ঢাকা, নভেম্বর ০২ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সময় প্রাণ বাঁচাতে নিজেকে 'কর্মকর্তা'র বদলে 'সৈনিক' হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানিয়েছেন এ মামলার সাক্ষী লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আব্দুল মুকিম সরকার।
বুধবার বকশী বাজারে অবস্থিত অস্থায়ী মহানগর দায়রা জজ আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার সময় একথা বলেন তিনি।
মুকিম বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্র"য়ারি বিদ্রোহ শুরু হলে তিনি দরবার হল থেকে বের হয়ে সদর ব্যাটালিয়নের পশ্চিম দিকে একটি পুরাতন দোতলা ভবনের মালামাল সংরক্ষণ কক্ষে আশ্রয় নেন। এ সময় স্টোরকিপারকে তিনি ২৫ রাইফেল ব্যাটালিয়নের সৈনিক বলে নিজের পরিচয় দেন।
তিনি বলেন, "পরে কয়েকজন বিদ্রোহী সেখান থেকে আমাকে ধরে নিয়ে যায় এবং পরিচয় পেয়ে মারধর করে। তদের মধ্যে কয়েকজন বলেন, সব কর্মকর্তাকে হত্যা করা যাবে না, কয়েকজনকে জিম্মি করা প্রয়োজন।"
একজন সুবেদারের সহায়তায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান বলে আদালতকে বলেন মুকিম।
বিডিআর সদস্যদের ওই বিদ্রোহে বিডিআর-এ নিয়োজিত ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ অন্তত ৭৪ জন নিহত হয়। বিডিআরের বর্তমান নাম বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।
জবানবন্দি শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা মুকিমকে জেরা করেন।
আইনজীবীরা তাকে বলেন, আপনি বিদ্রোহীদের পক্ষে ছিলেন, বিদ্রোহীরা আপনার অনুগত ছিলো এবং বিদ্রোহের সময় আপনি বিশেষ সুবিধা নিয়েছেন।
তবে আইনজীবীদের এ বক্তব্য সত্য নয় বলে দাবি করেন এই সেনা কর্মকর্তা।
সকাল সাড়ে ৯টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। দুই দফা বিরতি দিয়ে বেলা সোয়া ৪টা পর্যন্ত শুনানি চলার পর ভারপ্রাপ্ত বিচারক আখতারুজ্জামান ১৪ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক করে শুনানি মুলতবি করেন।
ওইদিনও মুকিমকে জেরা করবেন আইনজীবীরা। তিনি এই মামলার পাঁচ নম্বর সাক্ষী।
গত ২৪ অগাস্ট এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শুরু হয়। প্রথম সাক্ষ্য দেন মামলার বাদী লালবাগ থানার সাবেক ওসি নবজ্যোতি খিসা। দ্বিতীয় সাক্ষ্য দেন নিউমার্কেট থানার সাবেক ওসি কামাল উদ্দিন। তৃতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন সিগন্যাল সেক্টরের সাবেক অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু তাসনিম। চতুর্থ সাক্ষী ছিলেন কর্নেল শামসুল আলম চৌধুরী।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এলএইচ/এএইচ/পিডি/২০২০ ঘ.
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক