স্মৃতি ও সত্তায় আলী আনোয়ার

ফয়জুল ইসলাম
Published : 29 June 2022, 07:30 AM
Updated : 29 June 2022, 07:30 AM


দেশবিভাগ-পরবর্তী সময়ে তৎকালীন পূর্বপাকিস্তানে যুক্তিবাদী, মুক্তমন এবং বাঙালির নিজস্ব ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে যেসব বুদ্ধিজীবী জ্ঞানচর্চা এবং পাকিস্তান-বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন তাঁদের ভেতরে প্রয়াত অধ্যাপক আলী আনোয়ার অন্যতম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংলিশ-বিভাগের নাম করা ছাত্র আলী আনোয়ার ১৯৫৮ সালে মাস্টার্স পাশ করার পর ১৯৬২ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দিয়েছিলেন প্রভাষক হিসাবে। তিনি ২০০১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি থেকে অবসর নিয়েছিলেন। নতুন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন একটি বিভাগকে সক্ষম করে তোলবার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন তিনি। দেখা গেল, সাহিত্য বাদেও তাঁর জ্ঞানচর্চা বিকশিত হচ্ছে নাটক লেখা, নাটকের ভাষান্তর ও নাট্য-নির্দেশনার ক্ষেত্রেও। তাঁর প্রতিভার স্ফূরণ লক্ষ করা গেল বাঙালির ঐতিহ্য, ইতিহাস, রাজনীতি ও সমাজ-সংস্কৃতিতেও। তবে তিনি যেসব প্রবন্ধ লিখলেন, সেগুলো লিখলেন বাংলা ভাষাতেই- ইংরেজি ভাষাতে নয়। এ বাদে শিক্ষাদর্শন বিষয়েও প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি এবং শিক্ষকদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনও সংগঠিত করেছেন তিনি। তবে একথা মানতেই হবে যে তাঁর নিরলস জ্ঞানচর্চার তুলনায় তাঁর লেখালেখির পরিমাণ খুবই কম, যেসব প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন তিনি সেসবের অনেকগুলোরই আবার হদিস পাওয়া যায়নি। তাঁর যেসব বড় মৌলিক কাজ প্রকাশিত হয়েছে; সাড়া জাগিয়েছে বিদ্যোৎসাহীদের মাঝে, তার ভেতরে রয়েছে: ধর্মনিরপেক্ষতা, ইবসেনের নাটক এবং পাবলো নেরুদার কবিতার পর্যালোচনা। 'বাংলা একাডেমি' ১৯৭৩ সালে অধ্যাপক আলী আনোয়ারের সম্পাদনায় ধর্মনিরপেক্ষতা শীর্ষক বইটি প্রকাশ করে। নাট্যকার ইবসেনের জীবনী ও অবদান নিয়ে তাঁর গ্রন্থনা ইবসেন ২০০১ সালে প্রকাশ করে 'সেন্টার ফর এশিয়ান থিয়েটার' । 'সাহিত্যপ্রকাশ' ২০০৭ সালে তাঁর পাবলো নেরুদা: প্রেমে ও সংগ্রামে বের করে। আরো উল্লেখ্য যে বোরহান উদ্দিন খান জাহাঙ্গীর, জ্যোতিপ্রকাশ দত্ত এবং পূরবী দত্তের গল্প তিনি বাংলা থেকে ইংলিশে ভাষান্তর করেছেন। অধ্যাপক আলী আনোয়ার দীর্ঘদিন লিভার সেরোসিসে ভোগার পর মৃত্যুবরণ করেন ২০১৪ সালে। তাঁর মৃত্যুর ঠিক আগ দিয়ে, ২০১৩ সালে, 'বেঙ্গল পাবলিকেশন্স' প্রকাশ করে তাঁর প্রথম প্রবন্ধ সংকলন সাহিত্য-সংস্কৃতি: নানা ভাবনা। তাঁর মৃত্যুর পরে 'বেঙ্গল পাবলিকেশন্স' থেকে সাহিত্যের বিরল আঙিনায় নামে তাঁর দ্বিতীয় প্রবন্ধ সংকলন প্রকাশিত হয়।

প্রয়াত অধ্যাপক আলী আনোয়ারকে কেন্দ্র করে অতিসম্প্রতি 'যুক্ত' একটি স্মারক গ্রন্থ প্রকাশ করেছে। বইটির নাম স্মৃতি ও সত্তায় আলী আনোয়ার। বইটিতে রয়েছে তিনটি পর্ব- স্মৃতিতর্পণ, তাঁর কাজের ওপরে আলোচনা এবং তাঁকে উৎসর্গ করে তাঁর পছন্দের বিষয়ের ওপরে ক'টা প্রবন্ধ। প্রথম পর্বে রয়েছে মোট ৫৭টি স্মৃতিতর্পণ, দ্বিতীয় পর্বে ৯টি প্রবন্ধ এবং তৃতীয় পর্বে ৪টি প্রবন্ধ। বইটিতে দু'টো উপক্রমণিকা রয়েছে। একটি লিখেছেন প্রয়াত অধ্যাপক আলী আনোয়ারের সহকর্মী ও বন্ধু অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা এবং অন্যটি লিখেছেন কবি ও আবৃত্তিকার নিশাত জাহান রানা যিনি প্রয়াত অধ্যাপক আলী আনোয়ারের প্রিয় ছাত্রদের অন্যতম। নিশাত জাহান রানাই এই স্মারকগ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন।

স্মৃতি ও সত্তায় আলী আনোয়ার শীর্ষক বইটির স্মৃতিতর্পণ অংশটি খুবই মূল্যবান। এখানে অধ্যাপক আলী আনোয়ারের পরিবারের মানুষজন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সতীর্থরা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকর্মীবৃন্দ ও ছাত্ররা স্মৃতিচারণ করেছেন। এই স্মৃতিচারণগুলো রাজনীতি সচেতন, পরিশ্রমী, আপসহীন অথচ নিভৃতচারী এই বুদ্ধিজীবীকে ঠিকঠাকভাবে চিনে নিতে সাহায্য করে। এই পর্বে লিখেছেন অরুণ কুমার বসাক, অসিত রায় চৌধুরী, আতোয়ার রহমান, আব্দুল খালেক, আলী রিয়াজ (অধ্যাপক আলী আনোয়ারের ছোট ভাই), এ এন রাশেদা, গোলাম মুরশিদ, গুলশান আরা (অধ্যাপক আলী আনোয়ারের ছোট বোন), আনন্দময়ী মজুমদার, কল্যাণী রমা, রীআ মাহমুদ, দেবী শর্মা, দ্বিজেন শর্মা, নাজিম মাহমুদ, মফিদুল হক, সনৎকুমার সাহা, সরকার মাসুদ, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, হাসান ফেরদৌস, হায়াৎ মামুদ, বেগম হোসনে আরা (অধ্যাপক আলী আনোয়ারের স্ত্রী) প্রমুখ। কর্ম-পর্যালোচনা পর্বে প্রয়াত অধ্যাপক আলী আনোয়ারের কাজের ওপরে লিখেছেন সনৎকুমার সাহা, হায়াৎ মামুদ, হাসান ফেরদৌস, আলী রিয়াজ, ইমতিয়ার শামীম, এবং কামালউদ্দিন নীলু। শ্রদ্ধাঞ্জলি-পর্বে অধ্যাপক আলী আনোয়ারকে উৎসর্গ করে তাঁর প্রিয় ক'টি বিষয়ের ওপরে প্রবন্ধ লিখেছেন কানাইলাল রায়, দিলীপকুমার নাথ, শহিদুল ইসলাম, এবং শিশির কুমার ভট্টাচার্য। শ্রদ্ধাঞ্জলি-পর্বের লেখাগুলো এই বইটিকে পৃথক একটি মাত্রা দিয়েছে বলে মনে করি। সাধারণত দেখা যায়, স্মৃতিতর্পণে স্মৃতিকথা থাকে, কর্ম নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা থাকে। তবে এই বইটিতে অধ্যাপক আলী আনোয়ারের প্রিয় বিষয়, যেমন, শিক্ষাভাবনা, মিথ, উদারনৈতিকতা এবং বাস্তববাদ নিয়ে প্রবন্ধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আলোচ্য প্রবন্ধগুলো স্মৃতিতর্পণ ও আলোচনা-সমালোচনা বিষয়ক প্রবন্ধের পাশাপাশি অধ্যাপক আলী আনোয়ার রুচি ও সুকৃতিকে অনুসরণ করতে আমাদের সাহায্য করে।

এ কথা মানতেই হবে যে, কর্ম-পর্যালোচনা পর্বে অন্তর্ভুক্ত লেখাগুলোর সংখ্যা আনুপাতিকভাবে স্মৃতিতর্পণ-পর্বের লেখাগুলোর সংখ্যার চাইতে অনেক কম। নিশ্চয় এখানে অধ্যাপক আলী আনোয়ারের সাহিত্য, সংস্কৃতি, নাটক ও শিক্ষাভাবনার ওপরে আরও লেখা ছাপানো যেত। এই পর্বেও প্রবন্ধগুলো থেকে আমরা জানতে পাই, সুসংবদ্ধ গদ্য লিখবার অসাধারণ প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তিনি। অধ্যাপক সনৎকুমার সাহার ভাষায় বলতে হয় '… মননশীল গদ্যের সৎ অনুশীলন তাঁকে আলাদা করে চেনায়। 'সৎ' শব্দটিতে জোর বা গুরুত্ব দিতে চাই। ব্যক্তি, সমাজ ও শ্রেয়বোধ, কী জীবনে, কী সাহিত্যে এক সমন্বিত ভারসাম্যে পৌঁছাতে, কোথায় কেমন করে পৌঁছায়, এটা দেখা, এবং দেখানো, অনুমান, তাঁকে তাড়িত করেছে সবসময়।' আলোচ্য বইটির উপক্রমণিকাতে এই মন্তব্যটি করেছেন সনৎকুমার সাহা। স্মারকগ্রন্থের কর্ম-পর্যালোচনা পর্বে ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে লিখেছেন অধ্যাপক আলী রিয়াজ; সাহিত্য -সংস্কৃতি; নানা ভাবনা-র রিভিউ করেছেন ইমতিয়ার শামীম; পাবলো নেরুদা; প্রেমে ও সংগ্রামে'-র ওপরে লিখেছেন হায়াৎ মামুদ এবং ইবসেন-এর ওপরে আলোচনা করেছেন হাসান ফেরদৌস ও কামালউদ্দিন নীলু। এ বাদে বইটিতে অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা লিখিত আলী আনোয়ার: সাহিত্যের বিরল আঙিনায় বইটির ভূমিকাও ছাপা হয়েছে। নিঃসন্দেহে এই পাঁচটি প্রবন্ধ প্রয়াত লেখকের সাহিত্য সংস্কৃতিতে অবদানকে বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরেছে। তবু মনে হয় ধর্মনিরপেক্ষতার ওপরে তাঁর ভাবনা নিয়ে আরো কিছু লেখা থাকলে ভালো হতো। বিদ্যাসাগরের সীমাবদ্ধতাকে তিনি যেমন নির্মোহভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন তা নিয়ে ইমতিয়ার শামীম তাঁর প্রবন্ধে লিখেছেন বটে, তবে বিদ্যাসগরের পারা-না-পারার ব্যাপারে অধ্যাপক আলী আনোয়ারের দৃষ্টিভঙ্গির ওপরে আরো কিছু লেখা বইটিতে অন্তর্ভুক্ত হতে পারত। উল্লেখ্য, অধ্যাপক আলী আনোয়ারের শিক্ষাভাবনার ওপরে বিস্তারিতভাবে স্মৃতিতর্পণ-পর্বে লিখেছেন এ এন রাশেদা। দেশের শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রয়াত অধ্যাপক আলী আনোয়ারের ভাবনা নিয়ে আরো কিছু প্রবন্ধ থাকলে মন্দ হতো না। আমরা জানি, অধ্যাপক আলী আনোয়ার নাটক লিখেছেন, ভাষান্তর করেছেন, নির্দেশনাও দিয়েছেন এমনকি অভিনয়ও করেছেন নিজে। উপক্রমণিকাতে অধ্যাপক সনৎকুমার সাহা উল্লেখ করেছেন যে- অধ্যাপক আলী আনোয়ারের প্রথম প্রেম ছিল নাটক। কিন্তু আলোচ্য স্মারকগ্রন্থে তাঁর নাট্যচর্চা নিয়ে আলাদা কোনো প্রবন্ধ স্থান পায়নি। এ বাদে বলতে হয়, জ্ঞানের বহু শাখায় অগাধ পাণ্ডিত্য ছিল তাঁর। এই বইয়ের সম্পাদক নিশাত জাহান রানা তাই বলছেন, 'অধ্যাপক আলী আনোয়ারের বিপুল অধ্যয়ন স্বভাব এবং অগাধ পাণ্ডিত্যের ব্যাপারে অনেকেই চমৎকৃত এবং অভিভূত… একই সঙ্গে এ অনুযোগও রয়েছে যে, তাঁর সামর্থর তুলনায় তিনি লেখালেখি করেছেন অতি অল্প পরিমাণে। আরো অনেক গভীর ও বিশ্লেষণধর্মী ভাবনার লিখিত রূপ তিনি হয়তো রেখে যেতে পারতেন!' অধ্যাপক আলী আনোয়ার তা করেননি বলেই কথাটি বলা- বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর প্রকাশিত প্রবন্ধগুলো (যার মূল্য অগাধ) নিয়ে আরো কিছু লেখা লেখকের মনোজগতকে আরো উন্মোচন করতে পারত এই স্মারকগ্রন্থে! তবে এ-ও ভাবি, লেখা সংগ্রহ করা দুরূহ একটি কাজ এবং সম্পাদক তা'তে কোনও কসুর করেননি নিশ্চয়!

এখানে উল্লেখ করতেই হবে, অধ্যাপক আলী আনোয়ারের পরিবারের সদস্যবৃন্দ এবং সম্পাদক নিশাত জাহান রানা স্বয়ং অনেক সময় এবং শক্তি ব্যয় করে স্মারকগ্রন্থে অন্তর্ভুক্ত এই লেখাগুলো সংগ্রহ করেছেন। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতে ৩৬৮ পাতার এই মূল্যবান স্মারকগ্রন্থটি প্রকাশ করা সম্ভব হয়েছে। নিঃসন্দেহে এই সম্মান প্রদর্শণের কাজটি একটি বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে রইবে। ভালবাসা থাকলেই কেবল এমন কঠিন একটি কাজ করা যায়! এ কারণে তাঁদের সকলের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আর্কাইভমূল্য বিবেচনা করলে এই স্মারক গ্রন্থটির গুরুত্ব অসাধারণ! ভবিষ্যতের পাঠকেরা এই বইটি পড়ে বাংলাদেশের সেরা একজন বুদ্ধিজীবীর জীবন ও কর্মের নানাদিক সম্পর্কে অবহিত হতে পারবেন। এই দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা বলব যে বহু দিকে অধ্যাপক আলী আনোয়ারের যে পাণ্ডিত্য বিকশিত হয়েছে এই বইটিতে তা বহুলাংশেই উন্মোচিত হয়েছে। তবু আমাদের অতৃপ্তি যায় না; আমাদের মনে হয়, ধর্মনিরপেক্ষতা, বিদ্যাসাগর, ইবসেন, নেরুদা, শিক্ষাভাবনা, নাট্যভাবনা ইত্যাদি বিষয়ের ওপরে এই স্মারকগ্রন্থে আরো কিছু লেখা অন্তর্ভুক্ত হলে মন্দ হতো না বৈকি! এই ভাবনা এই স্মারকগ্রন্থের সীমাবদ্ধতা নয়- বরং আলী আনোয়ারকে আরো জানার আগ্রহ উস্কে দেয়ার শক্তি।

স্মৃতিতর্পণ-পর্বে অধ্যাপক আলী আনোয়ারের স্ত্রী বেগম হোসনে আরার মূল্যবান রচনা পেলেও তাঁদের সন্তানদের কোনো তর্পণ আমরা দেখতে পাইনি। এটা কোনো অনীহা নয় নিশ্চয়! মৃত পিতা সম্পর্কে দু'কথা লেখাটা সন্তানদের পক্ষে অসম্ভব একটি কাজ ছাড়া আর কী? প্রিয়জনকে ঘিরে গড়ে ওঠা অজস্র স্মৃতি 'ছোট ও বড়' থেকে বেছে নিয়ে কোন্ স্মৃতিগুলোকে গ্রন্থিত করা যাবে তা নিয়ে ভাবতে ভাবতেই আসলে আমাদের সময় চলে যায়! আমরা কেবল বলতে চাই, লেখকের সন্তানদের স্মৃতিচারণ থাকলে এই স্মারকগ্রন্থটি নিশ্চয় আরো সমৃদ্ধ হতো।

সুদর্শণ অধ্যাপক আলী আনোয়ারের সুন্দর একটি ছবি দিয়ে বইটির প্রচ্ছদ তৈরি করা হয়েছে। দেখে মনে হয়, তিনি সত্যিই তাকিয়ে আছেন- এতই জীবন্ত! এছাড়া বইয়ের ভেতরে জুড়ে দেয়া হয়েছে তাঁর অনেকগুলো ছবি। এই ছবিগুলোকে অমূল্য বলেই মনে হয়, কেননা নিভৃতচারী এই মণিষীর খুব একটা ছবি পরিবারবৃত্তের বাইরে থাকবার কথা নয়! ছবিগুলো এই বইটিকে ভিন্ন একটি মাত্রা দিয়েছে। মূদ্রিত অক্ষরের মতো করেই ছবিগুলোও কথা বলছে! এজন্য সম্পাদককে অজস্র সাধুবাদ। বইটির রুচিসম্পন্ন মুদ্রণ ও বাঁধাই দেখবার মতো! বোঝাই যায়, এর পেছনে সর্বোত্তম মেধা এবং মনোযোগ ব্যয় করা হয়েছে। এত চমৎকার মানের মুদ্রণ ও বাঁধাই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রকাশনাতে দেখতে পাই।

পরিশেষে বলব, স্মৃতি ও সত্তায় আলী আনোয়ার শীর্ষক স্মারকগ্রন্থ পাঠ করে অপ্রাপ্তির চাইতে প্রাপ্তিই যোগ হয়েছে বেশি। প্রয়াত অধ্যাপক আলী আনোয়ারের পাণ্ডিত্যের পরিসীমা সম্পর্কে স্পষ্ট একটি ধারণা ভবিষ্যতের মানুষদের জন্য এই বইটিতে তোলা রইল। বাংলাদেশের জন্মের অনেক আগে থেকেই যে ক'জন বুদ্ধিজীবী গণতন্ত্র, সাম্য এবং ধর্মনিরপেক্ষ একটি দেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, মেধা ও শ্রম নিয়োজিত করে নিরলস সংগ্রাম করেছেন, সেসব সৈনিকদের ভেতরে অন্যতম প্রয়াত অধ্যাপক আলী আনোয়ার। এমন একজন লড়াকু মণীষীকে নিয়ে স্মারকগ্রন্থ প্রকাশের জন্য 'যুক্ত'এবং অধ্যাপক আলী আনোয়ারের পরিবারবর্গকে অজস্র সাধুবাদ জ্ঞাপন করছি।

গ্রন্থ শিরোনাম: স্মৃতি ও সত্তায় আলী আনোয়ার
সম্পাদক: নিশাত জাহান রানা
প্রকাশক: যুক্ত
প্রকাশকাল: নভেম্বর ২০২১
পৃষ্ঠা: ৩৬৮
মূল্য: ৮০০ টাকা

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক