বইমেলা ২০২২: প্রকাশকদের কথা

chintaman_tusar
Published : 12 Feb 2022, 12:20 PM
Updated : 12 Feb 2022, 12:20 PM


প্যানডেমিকের কবলে পরে গেলবারের বইমেলা ছিল সবার জন্যই অস্বস্তিকর এক মেলা। এবারের বইমেলাও তার ধারাবাহিকতা থেকে বের হতে পেরেছে বলে মনে করছেন না সংশ্লিষ্টরা। তবু আশা করে এবারেও আয়োজিত হচ্ছে। শুরুতে অবশ্য বইমেলা হওয়া না হওয়া নিয়ে দোলাচলের সৃষ্টি হয়। সব সন্দেহ মিথ্যা প্রমাণ করতেই শেষমেষ আশার বাণী এসেছে কর্তৃপক্ষ থেকে। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সেসব কথা তারা তুলে ধরেছেন আর্টসের কাছে। তাদের সাথে কথা বলেছেন চিন্তামন তুষার। বি. স.

১.গতবার প্যানডেমিকের কারণে আপনারা আশানুরূপ বই বিক্রি করতে পারেননি। এবারের মেলা নিয়ে আপনারা কতটা আশাবাদী?
২. এবারের মেলায় কী কী বা কার কার গুরুত্বপূর্ণ বই নিয়ে আসছেন?
৩. মেলার পরিসর, স্টলের বিন্যাস ও ক্রেতাবান্ধব করার ব্যাপারে আপনাদের কোন প্রস্তাব ছিল কি?
৪. পাণ্ডুলিপির মান ও সম্পাদনার ব্যাপারে আপনারা কী ধরনের পদক্ষেপ নেন? আপনাদের কোনো সম্পাদনা পরিষদ আছে কি?


ওসমান গনি, প্রধান নির্বাহী, আগামী প্রকাশনী

উত্তর:
ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত অমর একুশে বইমেলা প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয়। গত বছর করোনা মহামারীর কারণে আমরা এই মেলা আয়োজন করেছি মার্চ-এপ্রিল মাসে। এই সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। ফলে বিক্রি শুধু কম হয়নি, যে উৎসবমুখর পরিবেশে মেলা হওয়ার কথা ছিল না, তা হয়নি। যে প্রাণের মেলার কথা আমরা বলি, সেই প্রাণই ছিল না।
সৃজনশীল প্রকাশকদের হতাশ হলে চলে না, আমরা আশা করেই যাবো। তবে এবারও কতোটা সফল হবো, তা নিয়ে আমার সংশয় রয়েছে। বইমেলার জন্য যে পরিবেশ দরকার, করোনার উর্দ্ধগতি সেই পরিবেশের জন্য বাধা হয়ে দাড়িয়েছে। করোনার মৃত্যু হার যেভাবে বাড়ছে, শঙ্কিত না হয়ে কোনো উপায় আছে?

উত্তর: 'মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তচেতনা দুয়ের প্রত্যয়ে আমাদের প্রকাশনা' এই অঙ্গিকারে আমাদের প্রকাশনার পথচলা। আমরা প্রকাশ করি বঙ্গবন্ধু-মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সর্বাধিক গ্রন্থ— প্রায় ৭০০। আমাদের প্রকাশিত গ্রন্থ সংখ্যা প্রায় ৩০০০। আগামী প্রকাশনীর সব বইই উল্লেখযোগ্য। সকল বইয়ের নাম তো নেয়া যাবেনা। কয়েকটি বইয়ের কথা বলা যায়। যেমন— হুমায়ুন আজাদ ও মোনায়েম সরকার রচনাবলী প্রকাশ শুরু হবে। আবদুল গাফফার চৌধুরীর দুটো বই- একটি হলো 'বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব: বিশ শতকের একজন শ্রেষ্ঠ মহিলা'। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার জীবনীভিত্তিক প্রথম উপন্যাস 'হে সন্তপ্ত সময়', লিখেছেন আনোয়ারা সৈয়দ হক। আরো প্রকাশিত হচ্ছে, মোজাহিদুল ইসলাম সেলিম, ড. মেজবাহ কামাল, হাসনাত আবদুল হাই, ড. আবদুল খালেক, ড. মোহম্মদ হাননান, হোসেন আবদুল মান্নান, বিভুরঞ্জন সরকার, সিরাজুল ইসলাম মুনির, আসাদুজ্জামান আসাদ, সৈয়দ জাহিদ হাসান, বিধান চন্দ্র পাল, জ.ই. মামুন— এদের বই। এছাড়াও এবারের গুরুত্বপূর্ণ বই হবে— ড. এম আবদুল আলীমের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন: জেলাভিত্তিক উপন্যাস।

উত্তর: মেলার পরিসর আস্তে আস্তে বাড়ানো দরকার ছিল। কিন্তু এই পরিসর গতবার হঠাৎ করেই দ্বিগুন করা হলো। প্যাভেলিয়নগুলো প্রায় সবগুলো এক সাথে থাকার কারণে অনেক সমালোচনা হয়েছে।
শিশুরাই আমাদের আগামীদিনের পাঠক। শিশু কর্ণারকে নান্দনিক করা দরকার। প্যাভেলিয়নগুলো সারা মাঠে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। সকল অংশগ্রহণকারী যেন সমান সুযোগ পায় তার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সবশেষে বলতে চাই, অমর একুশে বইমেলা পরিচালনার দায়িত্ব প্রকাশকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হোক। সরকারের সামগ্রিক সহযোগিতায় সকল শ্রেণী পেশার সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে স্পন্সরের মাধ্যমে একটি নান্দনিক মেলা উপহার দেয়া সম্ভব
উত্তর: আমাদের সম্পাদনা পরিষদ রয়েছে। গুণী সম্পাদকদের সহযোগিতায় আমরা চেষ্টা করি নির্ভুল বই পাঠকদের হাতে পৌঁছে দিতে।


মাজহারুল ইসলাম, প্রধান নির্বাহী, অন্যপ্রকাশ

উত্তর: গতবারের মেলা, করোনা পরিস্থিতির কারণে ভয়াবহ রকমের খারাপ ছিল। প্রকাশকদের বিনিয়োগ উঠে আসেনি। এবারে, করোনা পরিস্থিতির যেহেতু আগের মতো অতোটা ভয়াবহ না, আমরা আশা করছি অমিক্রন নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আসবে। সবমিলিয়ে একটা ভালো মেলা প্রত্যাশা করছি।

উত্তর: এবারে প্রায় ১০০টির মতো নতুন বই বের হচ্ছে। বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সব লেখকদের বই আনছি আমরা।

উত্তর: এবারের বইমেলার বিন্যাস খানিকটা পরিবর্তন হয়েছে। গতবারের থেকে আরও ভালো হবে বলে প্রত্যাশা করছি।

উত্তর: আমাদের সম্পাদনা পরিষদ আছে। একটা পাণ্ডুলিপি আসার পর প্রথমেই যেটা দেখা হয়, সেটা প্রকাশের উপযোগী কীনা। যদি এটা প্রকাশের উপযোগী হয়, তখন সেটা সম্পাদনা পরিষদে যায়। সম্পাদনা হওয়ার পর প্রুফ রিডিং হয়। এরপর সেটা প্রিন্টিংয়ে যায়।


মাহরুখ মহিউদ্দিন, ব্যাবস্থাপনা পরিচালক, ইউপিএল

উত্তর: গতবারের মেলা ছিল হতাশাব্যাঞ্জক। এবারের মেলাও অনিশ্চিত মনে হচ্ছে। না হলে বিপদই বলা যায়। মেলা হলে অবশ্যই অংশগ্রহণ করতে হবে।

উত্তর
: জ্ঞানতাপস খ্যাত প্রয়াত অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক এর গবেষণাগ্রন্থ 'পলিটিকাল পার্টিস ইন ইন্ডিয়া', শাহাদুজ্জানের 'মহামারী মহাকাল', মুক্তিযুদ্ধের সময়কালে বিদেশে অবস্থানরত অবস্থায় যুদ্ধে বাংলাদেশের পক্ষে যারা লবি করেছিলেন তাদের নিয়ে নিউজিল্যান্ডের গবেষকের গবেষণা গ্রন্থ, অধ্যাপক রেহমান সোবহানের স্মৃতিকথা ইত্যাদি।

উত্তর: আমাদের সমিতি দুইটি থেকে ছিল। আমার ব্যাক্তিগত অভিমত, অতিমারির সময়ে দর্শকরা অবশ্যই নিয়ম মেনে মেলায় যাবেন। মেলায় ঢোকা বা বেরুনোকে আরও ভালভাবে ব্যাবস্থাপনা করা যায় কিনা? এসব তো আমাদের হাতে নেই, বাংলা একাডেমি এ উদ্যোগ নিতে পারে।

উত্তর: সম্পাদনার জন্য আমাদের একটা বড় টিম ইন হাউজেই আছে। রিভিউয়ের জন্য বিষেশজ্ঞদের নিয়ে গঠিত পুল আছে। সম্পাদনার মান এবং রিভিউয়ের জন্য আমরা তাদের উপর আস্থা রাখি।


আলমগীর রহমান, প্রকাশক, অবসর প্রকাশনী

উত্তর: গতবারের মেলা আশাব্যঞ্জক ছিল না। এবারের বইমেলা শুরু হলে বোঝা যাবে। আমাদের প্রিপারেশন আছে সেই অনুযায়ী।

উত্তর: গোলাম মুরশিদ রচিত 'বিদ্যাসাগরের দু শো বছর', ননী ভৌমিক অনুদিত ফিওদর দস্তইয়েফস্কির 'আভাজন', সুফাই রুমিন তাজিনের 'ইটের পর ইট', ড. এম. মতিউর রহমানের 'নন্দনতত্ত্ব ও শিল্পদর্শন' ইত্যাদি।

উত্তর: মেলার স্টল ভাড়া নিয়ে একটা প্রস্তাব ছিল ৫০% বা কোন কম করা যায় কিনা।

উত্তর: হ্যাঁ, পাণ্ডুলিপি হাতে পেলে সেটা যাচাই বাছাই করে প্রকাশের উদ্যোগ নিই আমরা।


ওয়াহিদুল হক, হেড অব পাবলিকেশন ,পাঠক সমাবেশ

উত্তর: গতবার বিশ্বব্যাপী প্যানডেমিক পরিস্থিতিতে বই বিক্রয়ের স্বাভাবিক অবস্থা ব্যাহত হলেও আমাদের বিক্রয় সন্তোষজনক ছিল। কারণ, আমরা নির্বাচিত বিষয়ের বই ছাপি, এবং পাঠকগণ অসুবিধা সত্ত্বেও আমাদের বই কিনেন।
উত্তর:বলতে গেলে ২০২০ সালের মার্চ থেকে আজ অবধি প্যানডেমিক পরিস্থিতি মাত্রাভেদে অব্যাহত রয়েছে। বাইরে বেরুনোর বিধিনিষেধে লেখকগণ প্রচুর সময় পেয়েছেন লেখার জন্য। ফলে প্রচুর সংখ্যক প্রবীণ ও নবীন লেখক তাঁদের পাণ্ডুলিপি প্রকাশের জন্য নিয়ে এসেছেন আমাদের কাছে। আবার এই একই সময়ে ছিল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার ৫০ বছর উদযাপন উপলক্ষে নানা কর্মসূচি। এই পরিপ্রেক্ষিতে এবার প্রকাশনার জন্য গৃহীত আমাদের পাণ্ডুলিপির সংখ্যা শতাধিক। এর মধ্যে বোধগম্য অনিবার্য কারণে বহুসংখ্যক পাণ্ডুলিপিই আমরা ছাপতে পারিনি। এজন্য সংশ্লিষ্ট লেখকগণের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

এবারের 'গুরুত্বপূর্ণ' বইয়ের মধ্যে স্বভাবতই জাতির জনককে নিবেদিত জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি গ্রন্থমালাই প্রধান। এই শ্রেণির বইয়ের মধ্যে 'কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর/Voice of Millions', দ্বিভাষিক–বাংলা ও ইংরেজি (জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি); Bangabandhu and Bangladesh: An Epic of a Nation's Emergence and Emancipation (BIISS); 'বঙ্গবন্ধুর চিঠিপত্র' দুই খণ্ডে, ড. সুনীল কান্তি দে; 'শেখ মুজিবের স্মৃতিকথা: নিবিড় পাঠ ও বিশ্লেষণ', মোরশেদ শফিউল হাসান; 'বঙ্গবন্ধুর ভাষা সংস্কৃতি সাহিত্য ভাবনা', ড. নাজমুল হক।

অন্যান্য 'গুরুত্বপূর্ণ' প্রকাশনার মধ্যে ২৫ খণ্ডে সমাপ্য Bangladesh Foreign Policypaedia-র ৪টি খণ্ড (CGS-DU); ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদ্যাপন উপলক্ষে ৭খণ্ডে সমাপ্য বিশেষ প্রকাশনার উদ্বোধনী খণ্ড।

শ্রেণি-নির্বিশেষে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বইয়ের শিরোনামসমূহ হলো: 'IMPLACABLE FOES: Subhas Chandra Bose, Secularism and the Struggle Against World-Imperialism and Gandhism', Dr. Tahseen H. Ali; দুটি খণ্ডে 'হাজার বছরের বাংলা কবিতা' মূল কবিতার ইংরেজি অনুবাদসহ (খণ্ড ১: আদিযুগ ও মধ্যযুগ, খণ্ড ২: আধুনিক যুগ), অনুবাদ, ভূমিকা, সংকলন ও সম্পাদনা: হাসনাত আবদুল হাই; 'সক্রেটিস: জীবন মৃত্যু দর্শন', আমিনুল ইসলাম ভুইয়া; 'জীবনানন্দ পত্রাবলি' সম্পাদনা: ফয়জুল লতিফ চৌধুরী; 'শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন' [প্রতিষ্ঠার গোড়ার কথা], কামাল চৌধুরী; 'বোর্হেস ও মারিও: আলাপে পরস্পর' রাজু আলাউদ্দিন; 'স্লোগানে স্লোগানে রাজনীতি', আবু সাঈদ খান; 'হে অনন্ত প্রেম হে অনন্ত নক্ষত্রবীথি, মাসুদুজ্জামান সম্পাদিত প্রেমের গল্পসংগ্রহ; দুটি খণ্ডে আহমাদ মোস্তফা কামালের গল্পসংগ্রহ, স্বকৃত নোমানের গল্পসংগ্রহ; মোজাফ্ফর হোসেন-এর প্রবন্ধসংগ্রহ 'বিশ্বসাহিত্যের রীতি ও নির্মিতি' ইত্যাদি।

উত্তর: মেলার পরিসর, স্টলের বিন্যাস ইত্যাদি কাজ আয়োজক সংস্থা বাংলা একাডেমির কর্তৃত্বাধীন। আমরা বই মুদ্রণ ও মার্কেটিংয়ের কাজ নিয়ে ব্যস্ত। আমরা মনে করি, এটি যাদের দায়িত্ব তাদেরই দেখার বিষয়।
উত্তর:পাণ্ডুলিপির মান ও সম্পাদনার ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত সচেতন। পি-প্রেস প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা এটি নিশ্চিত করার চেষ্টা করি। তাছাড়া, যথাযোগ্য অভিজ্ঞতা ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের নিয়ে আমাদের সম্পাদনা পরিষদ আছে; প্রয়োজনে তাঁদের পরামর্শ নিয়ে থাকি। প্রকাশনার মান সমুন্নত রাখতে পাঠক সমাবেশ অঙ্গীকারবদ্ধ।


তারিক সুজাত, কার্যনিবার্হী, জার্নিম্যান বুকস

উত্তর: গতবারের বইমেলায় আমরা গতাগনুগতিকভাবে সব প্রকাশকরাই অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু বই বিক্রির দিক থেকে একেবারেই ভালো ছিল না। মাসব্যাপি একটা মেলা করতে যে খরচ, স্টল ভাড়া— এসব কারোরই ওঠেনি বলে তথ্য পেয়েছি। তবু আমরা অংশগ্রহণ করেছি, মেলার ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে এবং এবারেও অংশ গ্রহণ করবো।
এখনকার যে কোভিড-পরিস্থিতি, তাতে এবারের বইমেলা গতবারের মতোই হবে বলে মনে করছি। এবারে যে খুব বেশি আশাবাদী, তা না। কারণ বর্তমানে কোভিড সংক্রমণ একটু বেড়েছে। মেলা শুরু হতেও বেশি বাকি নাই। যদি সংক্রমণ কমে আসে তবে হয়ত মানুষ সাহস করে মেলায় যেতে পারবে। আমাদের মুখেও হাসি ফুটবে।

উত্তর: এ বছর আমাদের জন্য অনেককিছুর সন্ধিক্ষণ, যেমন— আমাদের ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছর, স্বাধীনতার ৫০ বছর এবং অবশ্যই মুজিব শতবর্ষ। তাই মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন নিয়ে বেশ কিছু বই বের করছি। আমাদের 'আমার প্রথম বই' নামে সিরিজ অব পাবলিকেশন্স আছে। যেখানে নতুনদের বই প্রকাশিত হয়, এবারেও তাদের বই থাকছে।

উত্তর: কিছুদিন হলো লক্ষ্য করছি, অনেকে প্রকাশনা সংস্থা ব্যাক্তিগত পর্যায়ে অনলাইন বইমেলা করছে। এখানে বইয়ের দোকান থেকে শুরু করে প্রকাশক নিজেও করছে। বাংলা একাডেমিও চাইলে আইসিটির মিনিষ্ট্রির মাধ্যমে একটা যুগপৎ– ফিজিক্যাল ও ভার্চুয়াল মেলা করতে পারে। বইমেলায় যত স্টল আছে, সবাই বাংলা একডেমির তথ্যকেন্দ্রে বইয়ের তথ্য জমা দেয়। সেখান থেকে বই পরিচিতি অ্যানাউন্স হচ্ছে। কন্টেন্ট কিন্তু তাদের কাছে আছে। প্রতিদিন যদি এই তথ্যগুলোই একটা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপ করা যায়, সেটা বাংলা একাডেমির তত্ত্বাবধানেই হতে পারে। আমাদের কুরিয়ার সার্ভিসও ডেভেলপ করেছে, পাঠাও বা ইকুরিয়ারের মাধ্যমে পাঠকদের বাসায় বই পৌঁছে যাচ্ছে। সারাদেশের পাঠক এই সুবিধাটা নিতে পারবে। তাই বইমেলাকে আরও ডায়নামিক করা যায় কিনা? আমরা দেখেছি ফ্রাঙ্কফুট বইমেলা অনলাইনেও হয়েছে, অফলাইনেও হয়েছে। আলোচনা অনুষ্ঠান, সেমিনারগুলো, ডিসকাশন অনলাইনেও ব্রডকাস্ট হয়েছে। সেখানে বেশি সংখ্যক মানুষ যুক্ত থাকতে পারছে। তাই আমাদের কোভিড রেস্ট্রিকশন মেনে নিয়ে অনুষ্ঠানগুলো একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক উপস্থিত থাকলো, বাকিরা অনলাইনে যুক্ত থাকলো। এই পর্যায়ে এসে এটা এমন দুরূহ না। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান হচ্ছে দুইভাবেই। বইমেলার ক্ষেত্রেও আমরা এটা ভাবতে পারি, এখনও আমাদের সময় আছে। গতবার দেখেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অনলাইনে যুক্ত থেকেছিলেন। এবার যেন শুধু উদ্বোধনী অনুষ্ঠান নয়, বাকি যতো আলোচনা, সেমিনারও অনলাইনে ব্রডকাস্ট হয়। একটা প্রপার পেমেন্ট গেটওয়ে সহ ওয়েবপোর্টাল, যারা মেলায় অংশগ্রহণকারী, তারা যেন ওইখান থেকেও বই সেল করতে পারে। এধরনের ভাবনা আমরা রাখতে পারি। এতে পরিসরটা আরও ওয়াইড হয়। যারা ঢাকার বাইরে আছে বা বইমেলায় যেতে পারছে না, তারাও মেলার সাথে যুক্ত হতে পারবে। এসব বিষয় নিয়ে ভাবতে পারলে, বাস্তবতার সাথে মিল রেখে, করতে পারি। এটা শুধু বাংলা একাডেমি একার না, আমাদের যে দুটি প্রকাশনা কেন্দ্রীক সংগঠন আছে তাদের নিয়েও করা যায়।

উত্তর: হ্যা, গোড়া থেকেই আছে। পান্ডুলিপি পাওয়ার পর আমাদের প্যানেল সেটা ইভ্যালিউট করে যে, এটা প্রকাশ করা যায় কিনা বা কোনও সাজেশন থাকলে সেটাও জানায়। এরপর প্রুফ রিডিং, এডিটিং করে বই প্রকাশের জন্য রেডি করি। অর্থ্যাৎ পান্ডুলিপি সংক্রান্ত সকল ধাপ পার করেই তবে আমরা প্রকাশ করি।


কামরুল হাসান শায়ক, প্রধান নির্ববাহী পাঞ্জেরী প্রকাশনী

উত্তর: জ্বী, গতবছর অমর একুশে বইমেলা প্যানডামিকের কারণে তার স্বাভাবিক গতিতে এগুতে পারেনি, ফলশ্রুতিতে সামগ্রিকভাবে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বইমেলা। মনে রাখতে হবে এই বইমেলা মূলত প্রকাশকদের উদ্যোগে শুরু হয়েছিল, তারপর গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলা একাডেমিসহ সংশ্লিষ্ট সবাই যুক্ত হয়েছিলেন এই মেলাকে এগিয়ে নেয়ার জন্য। সবার সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় চারদশকের অধিক সময়ে অমর একুশে বইমেলা আজ বাঙালির অন্যতম সাংস্কৃতিক উৎসবের মহীরুহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। আজ আমাদের সংশ্লিষ্ট সকলের দায়িত্ব এই মেলাকে তার ঐতিহ্য ঠিক রেখে সর্বাত্মকভাবে সফল করার জন্য সামগ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে এগুনো। সবার আন্তরিক অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতায় গত বছরের আহত মেলা এবছর পরিপূর্ণ সুস্থ সুন্দর হয়ে উঠুক – এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সেই প্রত্যাশায় আমরা পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে বইমেলায় যোগ দিচ্ছি।

উত্তর: পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লি.থেকে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২২ উপলক্ষে এবছর প্রকাশিত হচ্ছে প্রায় অর্ধ শতাধিক বই। উল্লেখযোগ্য বইগুলো হচ্ছে -১.কমিকস বেসিক আলী ১৪; বাবু ১২, শাহরিয়ার খান; আশ্চর্য কমিকস ডাইজেস্ট ৪, সম্পাদনা : শাহরিয়ার খান; অগ্নিযোদ্ধা ২, শান্তনা শান্তুমা। কিশোর উপন্যাস: ভূতের যত ভয়,রফিকুর রশীদ; সুখের রাজ্যে তুলতুল, সঙ্গীতা ইমাম; বিদ্যাসাগরে বুদ্ধির জয় : লজিক লাবু পলাশ মাহবুব। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক: অপারেশন জ্যাকপট, শাহজাহান কবির বীরপ্রতীক, মুক্তিযুদ্ধে পুলিশ : নোয়াখালী জেলা, মোঃ আলমগীর হোসেন বাংলাদেশের নারীযোদ্ধা ও বঙ্গবন্ধুর অবদান, ফাল্গুনী তানিয়া, Candlelit Bangabandhu Mozaffar Ahmed। প্রবন্ধ: ঠার : বেদে জনগোষ্ঠীর ভাষা,হাবিবুর রহমান; পৌরাণিক শব্দের উৎস ও ক্রমবিবর্তন,ড. মোহাম্মদ আমীন; বক্তৃতার গল্প, তওফিক মাহবুব চৌধুরী; হীরণ্ময় বানপ্রস্থ, সম্পাদনা: মাইনুল ইসলাম মানিক।
উপন্যাস:নোনা জল, অনিন্দিতা গোস্বামী; অগ্নি সারসেরা, মিল্টন রহমান; আবছায়া, সিরাজুল ইসলাম; রাংতামোড়া অভিশাপ, দীপান্বিতা রায়; সাইকোপ্যাথ, অরুণ কুমার বিশ্বাস।
ছোটোগল্প: জীবন ও প্রকৃতির গল্প, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়; খৈয়া গোখরার ফণা, হাবিবুল্লাহ ফাহাদ। রম্যগল্প: কী একটা অবস্থা, আহমেদ খান হীরক;অনূদিত গল্প: বাতিঘরের পাহারাদার, হায়াৎ মামুদ; আধুনিক ফিলিস্তিনি ছোটোগল্প, ফজল হাসান।
কবিতা: Choice of Verse,Mohammad Nurul Huda; স্বনির্বাচিত কবিতা, আসাদ মান্নান; আত্মকেন্দ্রিক মশকরা, এনামুল করিম নির্ঝর; Mystic Mint, Tanie & Laanika; বিচিত্র কয়েদখানা, মো. জাহাঙ্গীর কবির।
স্মৃতিকথা: স্মৃতিতে রবীন্দ্রনাথ,সম্পাদনা: মুহাম্মদ ফরিদ হাসান।
নাটক: একজন প্রতিবাদীর প্রয়াণ,ড. ইনামুল হক। স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা: হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও কিডনি সমস্যা কী করবেন?, ডা. তপতী মণ্ডল। এছাড়াও সচিত্র নীতিগল্প, শিশুতোষ ক্লাসিক এবং কিশোর ক্লাসিক সিরিজের অত্যন্ত মনোলোভা ও আকর্ষনীয় পঁচিশটির মতো বই।

উত্তর: অমর একুশের বইমেলা কমিটিতে প্রকাশকদের প্রতিনিধিত্বকারী দুটো সমিতির অংশগ্রহণ রয়েছে। কমিটির সভায় দুই সমিতি প্রতি বছরই বিভিন্ন বাস্তবতার আলোকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবনা দিয়ে থাকে। প্রস্তবনাগুলো অনেক ক্ষেত্রেই বিবেচনায় নিয়ে বইমেলা কমিটি প্রতিবছর প্রচেষ্টা চালায় মেলাকে আরও সফল, সুন্দর ও সমৃদ্ধ করতে। প্রতিবছর মেলার পরিবর্তন, পরিবর্ধন, নতুন পরিকল্পনা সেই সবকিছুর প্রতিফলন।

উত্তর: পান্ডুলিপির মান এবং সম্পাদনার ব্যাপারে আমরা সর্বাধিক অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি। পান্ডুলিপি নির্বাচনে লেখক আমাদের কাছে মুখ্য নন, পান্ডুলিপিই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। পান্ডুলিপি নির্বাচনে আমরা চার স্তরে কর্ম সম্পাদন করি। ১. পান্ডুলিপি বিষয় বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠিয়ে অভিমত নেই।
২. বিষয় বিশেষজ্ঞের অভিমতের উপর আমাদের ইন হাউস সম্পাদক মন্ডলির পর্যালোচনা ও পর্যবেক্ষণ।
৩. সামগ্রিক রিপোর্টের আলোকে প্রধান সম্পাদক তাঁর প্রস্তাবনা সকল সংযুক্তিসহ পরিচালকমন্ডলির সভায় অনুমোদনের জন্য পাঠান।
৪. পরিচালক মন্ডলীর সভায় অনুমোদন সাপেক্ষে পান্ডুলিপি প্রকাশের জন্য চুড়ান্ত হয়।

সম্পাদনা মূলত তিনস্তরে আমরা করে থাকি।
১. টেকনিক্যাল সম্পাদনা
২. মেনাস্ক্রিপ্ট সম্পাদনা
৩. প্রুফ রিডিং।
এরপর বলার অপেক্ষা রাখে না, আমাদের সম্পাদনা পরিষদ আছে কি না। বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পের সৃজনশীল বিকাশে নিবেদিতভাবে পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছে পাঞ্জেরী। একদিন বাংলাদেশের প্রকাশনা বিশ্বমানে পৌঁছবে – সেই স্বপ্ন এবং কাজে বিভোর পাঞ্জেরী।


মিলন কান্তি নাথ, প্রকাশক, অনুপম প্রকাশনী

উত্তর: বইমেলার ইতিহাসে এরকম একটা বইমেলার জন্য আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। অনেকের অস্তিত্বই ঝুঁকির মুখে পড়ে যায় গেলবারের বইমেলার কারণে। এবারের বইমেলা নিয়ে নানা রকম কথা উড়ছে। ওমিক্রনের কারণে বইমেলা স্থগিত হলো, এ পরিস্থিতি মেনে নিতেই হবে। আমরা চাই মেলাটা হোক, স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোক।

উত্তর: শিশুসাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ, বিজ্ঞান সব শাখারই কিছু না কিছু বই আমাদের থাকে। এবারও ব্যতিক্রম নেই। উল্লেখ করতে হয় যতিন সরকারের রচনা সমগ্রর সপ্তম খণ্ড, আবদুল্লাহ আল মুতি রচনাবলী সমগ্র, আনিসুজ্জামান এর আত্মজীবনী ইত্যাদি।

উত্তর: জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতি'র পক্ষ থেকে 'বইমেলা ২০২২' শীর্ষক একটা সভা করেছিলাম। সেখানে প্রথিতযশা লেখক ড. জাফর ইকবাল, রামেন্দু মজুমদার এবং ডিজি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আমরা আমাদের কিছু কথা তুলে ধরেছিলাম এবং মাননীয় মহাপরিচালকও খুব পজিটিভ কথা বলেছিলেন। সেই সভার পরে আমাদের আর কিছু বলার নেই। আজ ৪৩ বছরে পড়লাম আমরা, আমাদের মেধা, মনন এবং লেখকদের প্রধান পৃষ্টপোষক কিন্তু পাঠক। সেই পাঠকদের কথা সব্বোর্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকি। তাদের কথা ভেবে বইমেলাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

উত্তর: পান্ডুলিপির মান নিয়ে কোনও আপোষ নাই, আমাদের মতো করে। আমাদের সম্পাদনা পর্ষদের কথাই চূড়ান্ত। তাদের দিকনির্দেশনা মেনে আমাদের পাণ্ডুলিপি চূড়ান্ত হয়।


দীপঙ্কর দাশ, প্রতিষ্ঠাতা, বাতিঘর

উত্তর: গেলবারের মেলাটা ভালোমতো ফাংশন করলো না। এবারের বইমেলা নিয়ে অপেক্ষা করছি, সরকার কি সিদ্ধান্ত দেয়। আমরা আশা করছি বইমেলা হবে। সে অনুযায়ী আমাদের প্রস্তুতিও আছে।

উত্তর: রায়হান রাইন অনুদিত আচার্য শান্তরক্ষিত এর 'মধ্যমকালঙ্কার', হাসান মোরশেদ অনূদিত অরুন্ধতী রায় এর সাক্ষাৎকার 'দানবের রূপরেখা', সারওয়ার চৌধুরী অনূদিত লিও তলস্তোয় এর 'কনফেশন', আনোয়ার হোসাইন মঞ্জু অনূদিত ওরহান পামুক এর 'ইস্তাম্বুল', হিজল জোবায়ের এর 'জলপাই পাতার নিশান', আনিসুজ্জামান চিঠিপত্র নিয়ে 'শিকাগোর চিঠি' ইত্যাদি।

উত্তর: এবারের মেলা নিয়ে আগেই বলে দেওয়া আছে, কোনও চেইঞ্জ হবে না। শুধু কিছু নতুন প্রকাশকদের জায়গা করে দেওয়া হবে। এ বছর কোন পরামর্শও নেওয়া হয়নি।

উত্তর: আমাদের এডিটর বোর্ড আছে। তবে সবসময় ইনহাউজ সব কাজ করে উঠতে পারি না। অনেক সময় বাইরের বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নিতে হয়। সেটা আমাদের বোর্ড বলে দেয়, তার প্রয়োজন আছে কিনা। লেখকদের সঙ্গেও আলাপ চলে। এ জন্য আমাদের একটা বই বের করতে ৬ মাস থেকে ১ বছর সময় লেগে যায়।


সাঈদ বারী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সূচীপত্র প্রকাশনী

উত্তর: গতবছরের বইমেলা সার্বিকভাবে খারাপ ছিল। সব প্রকাশকই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। আগেও দেখা গেছে ফেব্রুয়ারির পরে মেলা গেলে মানুষ গ্রহণ করে না। প্রচারমধ্যমও ফেব্রুয়ারির পরে ওইভাবে প্রচার করে না। যেমন— সব পত্রিকাগুলো ব্যাকপেইজে একটা বক্স দেয়, সেগুলো কিন্তু মার্চের ১ তারিখ থেকে আর থাকে না। তখন যেটা হয় কি যে, মানুষকে জানানো বা প্রচার করার ব্যাপারে আলসেমি দেখা যায়। আমি, আপনি বা একজন লেখক তো আর বই কিনি না। বই একদম সাধারণ মানুষ কেনেন। ফেব্রুয়ারির পর বইমেলা গড়ালে, সাধারণ মানুষ কিন্তু জানতে পারে না যে বইমেলা এখনও আছে। ওরা জানে যে ২৮ তারিখ মেলা শেষ হয়ে গেছে। ফলে বইমেলা মার্চে গড়ালে সেইভাবে আর জমে ওঠেনা।
এবারও একইরকম হবে আশা করছি। ফেব্রুয়ারির যে কটা দিন আছে তা নিয়ে আশাবাদী কিন্তু পরের দিনগুলো আশঙ্কার দিন।

উত্তর: মোহম্মদ আবদুল হাই রচিত 'বাঙ্গালির ধর্ম চিন্তা', রাজনৈতিক মতবাদ সম্পর্কিত কোষগ্রন্থ, সৈয়দ আবুল মকসুদের ভ্রমণ সমগ্র ইত্যাদি।

উত্তর: আমি ব্যাক্তিগতভাবে বলছি, মেলা প্রকাশকদের হাতে ছেড়ে দেওয়া হোক। যেমন— কোলকাতা বইমেলা পাবলিশার গিল্ড করে। তাতে হয় কি, পাবলিশাররা পাবলিশারদের সমস্যাটা বোঝে। একটা উদাহরণ দিই, বইমেলার নিয়ম আছে তিনটার পরে আর বই নিয়ে ঢোকা যায় না। আমাদের একটা নতুন বইয়ের কাজ শেষ করে ৫টার দিকে মেলায় ঢোকানো যাচ্ছে না, বইটা হতে পারে চাহিদাসম্পন্ন। পাঠকরাও চাচ্ছে, মিডিয়াও চাচ্ছে। কিন্তু বইমেলায় ঢোকানো যাচ্ছে না বহন সুবিধা না থাকার কারণে। কিংবা ধরেন, আমার একটা বই শেষ হয়ে গেল। বাংলাবাজার থেকে ৫০টা বই নিয়ে আসতে পারছি না। বইমেলার গেট থাকে দোয়েল চত্বরে সেই পর্যন্ত গাড়ি বা রিকসা-ভ্যান আসে। এরপর আর নেওয়ার ব্যাবস্থা নেই। ভেবে দেখুন, আমাদের মেলায় আমরাই সমস্যায় পরছি। কিন্তু পাবলিশারদের জন্য একটা গেইট রাখা কোন ব্যাপার না। যে গেইট দিয়ে পাবলিশাররা যেকোন সময় যাতায়াত করবে। তাই আমরা পাবলিশাররা যদি মেলাটার আয়োজন করতে পারতাম সরকারি সহযোগিতা নিয়ে।

বইমেলার দুইটা ঢোকার মুখ হলো, দোয়েল চত্বর আর টিএসসি। একজন বয়স্কলোক বই কিনে কিভাবে এতোটা পথ পারি দিবে। এদের কথা চিন্তা করে কোনও স্পন্সর ধরে কতকগুলো ট্রলির ব্যাবস্থা করা যায়। ঢোকার মুখগুলোতে ৫০০ ট্রলি থাকবে। যাদের প্রয়োজন হবে নেবে, আবার বইমেলা ঘুরে বের হওয়ার সময় রেখে যাবে। এসব কিন্তু বড় বড় কোম্পানি স্পন্সর করবে, তাদের নাম প্রচার করার স্বার্থে। এসব কিন্তু কেউ ভাবে না।

স্টল বিন্যাসে প্যাভিলয়নগুলো এমনভাবে দিয়ে রাখে যে, পেছনে অনেক স্টল থেকে যায় যাদের দেখা যায় না। প্যাভিলিয়গুলো অনেক বড় বড় হয়, সেগুলো দূর থেকে দেখা যায়। তাদেরকে একটু পেছনে দিলেও ক্ষতি নেই।
প্যাভিলিয়নগুলো চারদিক থেকে খোলা রাখে, এটা একদম অনৈতিক কাজ। প্যাভিলিয়ন মানে হলো ঘেরা দেয়া বা আবদ্ধ শোরুম, যেখানে আপনাকে ঢুকতে দেয়া হবে ঘুরে ঘুরে বই দেখার মজা দেওয়ার জন্য। কিন্তু এর মানে এই না যে, চারদিক খোলা রেখে বই বিক্রি করবেন। তাহলে তো স্টল নিতে পারতেন। একসঙ্গে দশটা স্টল নিতেন। পৃথিবীর কোথাও এমন সিস্টেম নাই। আমাদের আর্দশ স্টল করে, পাঠক সমাবেশ ও ইউপিএলসহ আর দুয়েকজন। এদের কাছ থেকে আমরা শিক্ষা নিতে পারি।
গেইটগুলোকে যদি চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়া যেতো ভালো হতো। মানে চর্তুদিক থেকে ঢোকার ব্যাবস্থা করতে পারলে ভালো হতো। এতে কেউ বলতে পারবে না, আমরা পিছনে পরে থাকলাম।
মিনিমাম একটা টিকেটে ব্যাবস্থা করতে পারা উচিত। এতে একটা নিয়মকানুন থাকে এবং দর্শনার্থীর পরিসংখ্যান জানা যায়।
এরকম ছোট ছোট পরিবর্তন করা যায় বইমেলায়। এর আগে যেমন আমার প্রস্তাবে শিশু কর্ণার হয়েছে। তেমনিভাবে এই পরিবর্তনগুলোও করা যায়।

উত্তর: আমাদের সার্বক্ষণিক সম্পাদক নাই। প্রয়োজনবোধ করলে নির্ভরযোগ্যদের দিয়ে দেখিয়ে নিই। আমাদের দেশের অবস্থা এমন নয় যে, সার্বক্ষণিক সম্পাদক রাখতে পারে একজন পাবলিশার। আবার আপনি দেশে ৫০ জন ভালো সম্পাদক বা প্রুফ রিডার খুঁজে পাবেন না। অবস্থা এমন যে, ফুটবলে আমরা তলানির দিকে থাকা দেশ। সেটা ক্রিকেটে ৯ বা ১০ হলেও কিছু আসে যায় না। কারণ ক্রিকেট খেলেই ১১ কি ১২ দেশ। তাই অন্যান্য মানচিত্রেও আমরা তলানির দেশ।


রাজীব চৌধুরী, প্রকাশক, চৈতন্য প্রকাশনী

উত্তর: গতবারের মেলা খুবই হতাশজনক ছিল। আমরা স্টল ভাড়াই তুলতে পারিনি। এবারের বইমেলা— এখন পযর্ন্ত যেহেতু লকডাউন নাই, আমাদের সবার টিকা নেওয়া হয়ে গেছে। মেলাটা ১ ফেব্রুয়ারি শুরু না করার কোন কারণ ছিল না। অন্যদিকে বাণিজ্য মেলা চলছে। অন্যান্য মেলা চলছে। শুধু বইমেলাটা বন্ধ করে দিল। ১ তারিখে হলে যে রেসপন্স পেতাম সেটা ১৫ তারিখে হলে যে পাবো তা নিয়ে আমি সন্দিহান। তারপরও আশা করছি, শেষের দিকে মেলাটা জমবে।

উত্তর: এবারের বইমেলায় ২৫টির মতো নতুন বই আনছে। এরমধ্যে অনুবাদ, কবিতা সংগ্রহ, ফোকলোর, গল্প, উপন্যাস ইত্যাদি আছে। উল্লেখ্যযোগ্য হচ্ছে শাহনাজ মুন্নির নির্বাচিত গল্প, জাকির জাফরানের কবিতা সংগ্রহ। প্রতি বছর আমরা নতুন লেখকদের বই প্রকাশ করি, ধারাবাহিকতায় এবার চার তরুণের বই থাকছে।

উত্তর: মেলার পরিসর নিয়ে কোন কথা নেই। গতবার বেশ জায়গা খালি রেখে একেকটা স্টলের জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছিল। যাতে ভিড় সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ না থাকে। আমি যদ্দুর জানি, এবারও একই রকম হচ্ছে। আর মেলার সময় যেন, যেমন থাকা দরকার তেমনি পর্যাপ্ত থাকে। যাতে দূর থেকে আসা দর্শণার্থীরা মেলাকে উপভোগ করতে পারে, দুটি বই কিনতে পারে।

উত্তর
: আমরা সারা বছর কাজ করি, বইমেলার প্রস্তুতি কিন্তু মেলার একমাস আগে শুরু হয় না। এক মেলা শেষ হলে আমরা পরবর্তী মেলার কাজ শুরু করে দেই। আমাদের কোনও কোনও বইয়ের পান্ডুলিপি দুই বছর ধরে সম্পাদনার টেবিলে থাকে। বই আসে সেটা আমরা পড়তে দেই, এরপর সম্পাদক দেখে, এরপর প্রুফ রিডারের কাছে যায়। পরে আবার সম্পাদক দেখে লেখককে পড়তে দেই। সবশেষে আমাদের সম্পাদনা পর্ষদ আছে, তাদের হাত ঘুরেই আমরা বই প্রকাশ করি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক