লালন নিয়ে একটি মনোলগ

আনিসুর রহমান
Published : 17 Oct 2020, 08:41 AM
Updated : 17 Oct 2020, 08:41 AM


(১) লালন
(২) নো বা নোহ (Noh) থিয়েটারের আদলে আট সদস্যের কোরাসদল। প্রযোজনার প্রয়োজনে চারজনেও চলবে কোরাসদল। তাদের মধ্যে সমান সংখ্যক পুরুষ এবং নারী সদস্য থাকবে। কোরাসদলে কুশীলব:
(১) ললনের সাধনসঙ্গী/ স্ত্রী বিশাখা
(২) লালনের ধর্মমেয়ে পিয়ারী
(৩) লালনের শিষ্য শীতল
(৪) লালনের শিষ্য ভোলাই
(৫) দুইজন মেয়েশিষ্য
(৬) দুইজন ছেলেশিষ্য
[লালন হতাশ, বিক্ষুদ্ধ, দৃঢ়চেতা, স্থিরপদে তাঁর নিজ সম্প্রদায়, ঘর সমাজ আর লোকালয় থেকে নিগৃহীত হয়ে গায়ের মেঠোপথ ধরে হাঁটছে। পরনে লুঙ্গি, বাউল ঢঙের পাঞ্জাবি, উসখু খুসখু দাড়ি। ফ্লাশব্যাকে তার জীবনের কথা বলে যাবে, বলে যাবে বর্তমানের কথাও। তারএই পথচলা আর বলায় ঈঙ্গিত থাকবে ভবিষ্যতেরও।]

আমি লালন।
কোথায় যাব?
কোথা থেকে এলাম?
আমার কি জাত?
আমার কি ধর্ম?
পাড়াপড়শি কার কি জাত?
কার কি ধর্ম?
কে আত্মীয়?
কে অনাত্মীয়?
এসব নিয়ে তো ভাবিনি?
আলাদা করে দেখিনি কে নারী কে পুরুষ?

শৈশবে বাবাকে হারাইলাম।
আপন বলতে মা।
এরপর আমার বউ।
আপন বলতে মা আর বউ।
আত্মীয়দের বাড়াবাড়ি।
ভাল লাগেনি।
চলে এলাম
দাশপাড়া।
এরাই আমার আত্মীয়
এরাই আমার পড়শি।
আমার গান ভাল লাগে।
বাদ্যি ভাল লাগে।
ধর্মকর্মও ভাল লাগে।
তবে নিজের মত করে।

পাঠশালায় যেতে পারলাম না।
বাবা নাই।
আমদের তো অত অর্থকড়ি নাই।
বিদ্যাবুদ্ধির সুযোগ হল না।
জগৎ সংসারে আমি একা রয়ে যাই।
মা আর আমার বউ।
ওরা ছাড়া আমার তো তেমন কেউ নাই।
ওদেরও আমি ছাড়া কেউ নাই।
আমার যদি একটি ঘোড়া থাকত।
ঘোড়ায় চড়ে জগতের গ্রাম ঘুরে দেখতাম।
উহ্ ।
কী থেকে কী ভাবছি!
আমি কোথায় ছিলাম?
কোথায় থেকে কোথায় এলাম?
কেমন করে এলাম ।
[একটা গান হবে]

অপর ঘরের খবর নে না।
অনায়াসে দেখতে পাবি
কোন্খানে কার বারামখানা॥

কমল কোঠা কারে বলি
কোন মোকাম তার কোথায় গেলি
কোন্ সময় (তার উপর) পড়ে ফুলি
মধু খায় সে অলিজনা॥

সূক্ষèজ্ঞান যার সক্ষ মক্ষ
সূক্ষèজ্ঞান যার ঐক্য মুখ্য
সাধকের উপলক্ষ
অপরূপ তার বৃক্ষ
দেখলে জীবের জ্ঞান থাকে না॥

শুকèনদীর সুখ-সরোবর
তিলে তিলে হয় গো সাঁতার
লালন কয় কীর্তিকর্মার
কীর্তিকর্মার কি কারখানা॥

গাঁয়ের মোড়ল, সমাজের মানুষজন, পুরোহিত সকলে আমাকে তাড়িয়ে দিল।
আমি এই একই গ্রামের একই লালন, আমি একই মায়ের পুত।
এই একই আমার বউ।
আমার নিজ গায়ে;
আমার নিজ ঘরে;
আমার নিজ পাড়ায়;
আমার জায়গা হল না।
মোড়ল পুরোহিত আমাকে তাড়িয়ে দিল।
আমার অপরাধ?
[এবার লালন পথের ধারে ক্লান্ত হয়ে একটু বসে দম নিয়ে নেয়]
[একটা গান হবে]
আগে কে জানে গো এমন হবে
গৌর প্রেম করে আমার
কুলমান যাবে।
ছিলাম কুলের কুলবালা
প্রেম ফাঁদে বাঁধল গলা
টানলে তো আর না যায় খোলা
বললে কে বোঝে॥

যা হবার হল আমার তাই
এখন আমি এই বর চাই
যাতে মজেছি তাই যেন পাই
লালন বলে কুলবালাই গেল ভবে॥

আমার পাড়ার সঙ্গীদের সহ আরো সঙ্গীদের নিয়ে তীর্থে গিয়েছিলাম, গঙ্গাস্নানে।
তীর্থে মা যাবেন;
আমার বউ যাবেন।
কী খুশি ওরা!
আমিও খুশি!
কিন্তু বাধ সাধল মোড়ল পুরোহিত।
ওদের ছেড়ে আমি যাব না।
যে গঙ্গা তীর্থযাত্রায় মেয়েদের নিয়ে গেলে সমস্যা; এরকম তীর্থযাত্রায় লালন যাবে না।
স্থির করলাম, আমি যাব না।
সবার মন খারাপ!
আমার মন খারাপ!
মায়ের মন খারাপ!
বউয়ের মন খারাপ!
আমার সঙ্গী বাউল দাশের মন খারাপ, সঙ্গীদেরও মন খারাপ!
শেষে মা বলেন, লালন তুই যা বাপ।
বউ বলে, তুমি যাও।
সঙ্গীরাও পীড়াপীড়ি করে, লালন তুই চল।
তারপর ঠিক করি,
মায়ের জন্যে তীর্থ থেকে সদাই নিয়ে আসব।
বউয়ের জন্যে শাঁখা নিয়ে আসব।
বেশ তীর্থে গেলাম।
বসন্ত রোগ হল।
আমি অচেতন হয়ে রইলাম।
ওরা মৃত ভেবে ফেলে এলো।
আমি জলে ভাসতে ভাসতে বেঁচে রইলাম।
মুসলমান এক মায়ে পারে আমাায় দেখতে পেল।
দেখতে পেয়ে তুলে নিল।
আমি তো সব ভুলে গেছিলাম।
আমি তো মরে বেঁচে ফিরলাম।
আমি হয়ে গেলাম অপরাধী।
আমি হয়ে পড়লাম অচ্ছুৎ।
যারা আমারে জ্যন্ত মানুষকে মরা বলে ফেলে এল।
আমার বউকে বারদিনের মাথায় বিধবা করল।
তারা বার বছর অপেক্ষা করল না; তারা অপরাধী হল না।
অপরাধী হলাম আমি।
আমি মুসলমানের ঘরে অন্ন গ্রহণ করেছি বলে অপরাধী?
খেতে যখন ধান হয়?
তা কি হিন্দু বা মুসলমান আলাদা হয়?
যে আগুনে রান্না হয় তা কি হিন্দু না মুসলমান?
যে পাতিলে রান্না হয় তা কি আলাদা আগুন?
আলাদা পাতিল?
হিন্দু পাতিল?
মুসলমান পাতিল?
মুসলমানের ঘরে আমাকে তুলে না নিলে আমার মরা দেহ নদীর মাছে খেত।
পোকায় খেতÑ
পাখির পেটে যেতাম;
এই লালন মাছের পেটে যেত।
এই মাছ হিন্দুর পেটে কি যেত না?
লালন ভক্ষণ করা মাছ কি হিন্দুরা;
মুসলমানরা আলাদা করে খেত?
এরা পরে আছে জাত নিয়ে।
জাত গেল জাত গেল বলে,
আমায় গ্রাম ছাড়া করে 
ঘরের বাহির করে 
জাত গেল জাত গেল বলে;
একি আজব কারখানা;

সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবই দেখি তা না না না॥

আসবার কালে কি জাত ছিলে
এসে তুমি কি জাত নিলে।
কি জাত হবে যাবার কালে

সেই কথা ভেবে বলো না।।
ব্রাহ্মণ চ-াল চামার মূচি
এক জলে সব হয় গো শুচি।
দেখে শুনে হয় না রুচি
যমে তো কাউকে ছাড়বে না।।
গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায়
তাতে ধর্মের কি ক্ষতি হয়।
লালন বলে জাত কারে কয়
এই ভ্রম তো গেল না॥
[জঙ্গলের ভেতরে একটা আমগাছের নিচে হেলান দিয়ে ঘুম থেকে জেগে ওঠা লালন। একদিকে সূর্য ওঠে। লালন গান ধরে)
খাঁচার ভিতর অচিন পাখি
কেমনে আসে যায়।
ধরতে পারলে মনবেড়ি
দিতাম পাখির পায় ॥

আট কুঠুরী নয় দরজা আঁটা
মধ্যে মধ্যে চরকা কাঁটা।
তার উপরে সদর কোঠা
আয়নামহল তায় ॥

কপালের ফ্যার নয়লে কি আর
পাখিটির এমন ব্যবহার।
খাঁচা ভেঙ্গে পাখি আমার
কোন বলে পালায় ॥

মন তুই রইলি খাঁচার আশে
খাঁচা কি তোর কাঁচা বাঁশে
কোন দিন খাঁচা পড়বে খসে
ফকির লালন কেঁদে কয়
এই আমগাছ।
এই বন।
বনের পাখি।
এরাই ভাল।
এদের কি কোন জাতপাত আছে।
এই যে আকাশ!
এই যে সূর্য অন্ধকার সরিয়ে জগতে আলো ফেলতেছে
এখানে কি হিন্দু মুসলমান কোন ভেদাভেদ আছে।
পাখি জন্মে পাখি হয়ে,
মরেও পাখি হয়ে,
জগতের সব প্রাণী তাই।
জন্মেও যা।
মরণেও তা।
মানুষ জন্মে মানুষ হয়ে;
তারপরে হয়ে যায় হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান।
কত যে জাতপাত।
কত যে ভাগাভাগি;
ছুৎ অচ্ছুৎ ভেদবিধান;
কাস্ত ধরে ধরে;
কত জটিলতা, কুটিলতা;
মানুষের মত মনকানা সৃষ্টি;
কী জগতে আর একটা আছে?
মানুষে মানুষ চিনল না।
এই মানবজন্ম আর কি হবে;
এই ভবে?
আছে জাতের অহঙ্কার নিয়ে?
[লালন গান ধরবে]
এমন মানব জনম আর কি হবে।
মন যা করা ত্বরায় করে এই ভবে ॥

অনন্ত রূপ সৃষ্টি করলেন সাঁই
শুনি মানবরূপে উত্তম কিছু নাই।
দেব দেবতাগণ করে আরাধন
জন্ম নিতে মানবে।।

কত ভাগ্যের ফলে না জানি
পেয়েছ এই মানব তরণী।
বেয়ে যাও ত্বরায় তরী
সুধারায় যেন ভরা না ডোবে॥

এই মানুষ হবে মাধুর্য্য ভজন
তাইতে মানবরূপ গড়লেন নিরঞ্জন।
এবার ঠকলে আর না দেখি কিনার
অধীর লালন কয় কাতর ভাবে॥
[সিরাজ সাঁইয়ের সঙ্গে দেখা হবে। সিরাজ সাঁইয়ের শিষ্যত্ব গ্রহণ]
গ্রামের সমাজপতি আত্মীয়স্বজন সকলে ভাবে
মুসলমানের গৃহে অন্নজল গ্রহণ আমার নাকী অপরাধ?
বিধাতার চেয়েও এরা কী বড় বিধাতা!
জ্যান্তেও 'মরা' জেনে অনুষ্ঠান করে পাপ নয় ওদের কাছে?
জ্যান্তের জ্যান্ত থাকাই যেন পাপ?
ওরা এমনই ভাবে।
এই জাত।
এই সংসার।!
এই শাস্ত্র!
এই আচার!
এই ধর্ম দিয়া কী হবে?
লালন এই সংসারে নাই;
লালন এই ধর্মে নাই;
লালন এই জাতে নাই;
লালন এই আচারে নাই;
লালন এই সমাজে নাই;
লালন এই অনুষ্ঠানে নাই।
[একটা গান]
মানুষ তত্ত্ব সত্য হয় যার মনে।
সে কি অন্য তত্ত্ব মানে।।

মাটির টিবি কাঠের ছবি
ভূত ভবিষ্যৎ দেবদেবী।
ভোলে না সে এসব রূপী
মানুষ ভজে দিব্যজ্ঞানে।।

জোরোই সরোই লোলা ঝোলা
পেঁচাপেঁচী আলাভোলা।
তাতে নয় সে ভোলনেওয়ালা
যে জন মানুষ রতন চেনে।।

ফেয়োফেপি ফ্যাকসা যারা
ভাকা ভোকায় ভোলে তারা।
লালন তেমনি চটামারা
ঠিক দাঁড়ায় না একখানে॥

আমার বউ আমার পথে সঙ্গিনী হতে চাইল।
পারল না।
আমি কার সঙ্গে রই।
আমি কোথায় যাই।
আমার আপন থেকেও নাই।
আমার ঘর থেকেও নাই।
পথই লালনের ঠিকানা।
লালন পথে বের হয়;
লালন পথে চলে;
কিন্তু লালন লালনকে কেমনে চিনে?
লালন সমাজ বিচ্যুত;
লালন সংসার বিচ্যুত;
লালন জগতের জিজ্ঞাসার;
জবাব কোথায় পায়?
লালন জীবন জিজ্ঞাসার জবাব কোথায় পায়?

কে পারে লালনকে লালন চিনিয়ে দিতে?
মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি
মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি ॥

এই মানুষ মানুষে গাথা
গাছ যেমন আলকলতা।
জেনে শুনে মুড়াও মাথা
জাতে তুরাবি ॥

দ্বিদলে মৃণালে
সোনার মানুষ জিলে।
মানুষ গুরুর কৃপা হলে
জানতে পাবি ॥

এই মানুষ ছাড়া মন আমার
পড়বি রে তুই শূন্যকার।
লালন বলে মানুষ আকার
ভজলে তারে পাবি ॥

[লালন একতারা হাতে, কাধে ঝোল্লা নিয়ে পথে বের হয়, পথ চলতে চলতে]
গুরু সিরাজ সাঁই;
লালনের চোখ খুলে দিল;
গুরু সাঁইজি লালনকে লালনের খোঁজ দিল।
পথহারা লালনকে পথ দেখাল।
ঘরহারা লালনকে ঘরের খবর দিল।
সব মানুষের মধ্যেই বাস করে এক 'মনের মানুষ'।
এই মনের মানুষের সন্ধান পাওয়া যায় আত্মসাধনার মাধ্যমে।
এই মনের মানুষ তো বড় অচেনা অচিন মানুষ, অচিন পাখি;
[লালন গান ধরবে]
আমার ঘরের চাবি পরেরই হাতে।
কেমনে খুলিয়া সে ধন দেখব চক্ষেতে ॥

আপন ঘরে বোঝাই সোনা
পরে করে লেনা দেনা
আমি হলাম জন্ম-কানা
না পাই দেখিতে ॥

রাজি হলে দারওয়ানি
দ্বার ছাড়িয়ে দেবেন তিনি
তারে বা কই চিনি শুনি
বেড়াই কুপথে ॥

এই মানুষে আছে রে মন
যারে বলে মানুষ রতন
লালন বলে পেয়ে সে ধন
পারলাম না চিনিতে ॥

এই গ্রাম,
এই সমাজ,
এই গ্রামের মানুষ,
এই সমাজের মানুষ,
নিজ দেহের খবর জানে না,
নিজের মনের খবর লয় না,
মনের মানুষের খবর জানো?
তর্কে মেতে থাকে,
কে হিন্দু?
কে মুসলিম?
কে ধার্মিক?
শাস্ত্রে কানা হয়ে আছে;
বোবা বধিরÑ
নিজের মন চিনে না;
মনের খবর না নিয়ে দুনিয়ার খবর নিতে চায়।
কে কালো?
কে সাদা?
কে ধনী?
কে গরীব?
কে দাশ?
কে রাম?
কে রহিম?
কে কৃষ্ণ?
কে কলিম?
কে সলিম?
তাতে কার কি আসে যায়?
সবারই তো রক্তের রং লাল?
সকলের ক্ষুধার কষ্ট এক;
সকলের আকাশের রং নীল;
সকলের আকাশের মেঘ কালো;
মিষ্টি মুখে দিলে সকলের মুখে মিঠা লাগে।
মিষ্ঠি মুখে মুখে বললেই মুখ মিষ্টি হয়ে যায় না।
আরে নিজের কাছে;
নিজের শরীর নিজের মনে যার খোঁজ পাওয়া যায়্
তাই তো জগতে আছে।
নিজের খবর জেনে;
নিজের ভা-ের খবর না লয়ে;
ব্রহ্মা-ের খবর লইতে;
কে করে লাহোর দিল্লীর খবর;
ঢাকা দিল্লীর খবর।
গুরু সিরাজ সাঁই আমার পথ দেখালেন;
গুরু সিরাজ সাঁই আমারে মুর্শিদ করলেন।
[সিরাজ সাঁই বিষয়ক এই গানটি ধরবে]
ভবে মানব-গুরু নিষ্ঠা যার
সর্ব সাধন সিদ্ধ হয় তার ॥
নদী কিংবা বিল বাঁওড় খাল
সর্বস্তরে একই সে জল
একা মোর সাঁই
আছে সর্ব ঠাঁই
মানুষ মিশে সে হয় রূপান্তর ॥ ১
নিরাকারে জ্যোর্তিময় যে
আকারে সাকার হয় সে।

যে জন জানতে পারে
কলিযুগে হয় মানব-অবতার ॥
বহু তর্কে দিন বয়ে যায়
বিশ্বাসের ধন নিকটে রয়।
ডেকে সিরাজ সাঁই লালনকে কয়
কুতর্কের দোকান খুলিসনে আর ॥ ২
[গুরু সিরাজ সাঁই বিষয়ক আরো একটি গান ধরে লালন]
গুরু বস্তু চিনে নে না।
অপারের কাণ্ডারি গুরু
তা বিনে কেউ কুল পাবে না ॥

কি কার্য করিব বলে
এ ভবে আসিয়া ছিলে।
কি ছার মায়ায় রইলি ভুলে
সে কথা মনে বা'ল না ॥

হেলায় হেলায় দিন গেল
মহাকালে ঘিরে এলো।
আর কখন কি করবি বল
রং মহলে পড়লে হানা ॥

ঘরে এখন বইছে পবন
হতে পারে কিছু সাধন।
সিরাজ সাঁই কয় অবোধ লালন
এবার গেলে আর হবে না ॥

[লালন সিরাজ সাঁইর কাছ থেকে দীক্ষা নিয়ে ছেঁউড়িয়া গ্রামে আখড়া গড়ে আখড়ায় বসে]
জগতের মায়ের কোন জাত-পাত হয় না;
জগতের মায়ের কোন ধর্ম হয় না।
জগতের সকল মা এক জাতি
মা জাতি।
লালন তো মরেই গেছিল;
সেই লালন জ্যান্ত ফিরেছে মায়ের কল্যাণে।
সেই লালন একটুকু ঠাঁই পেয়েছে মানুষের কল্যাণে।
সৃষ্টিকর্তা ভালবেসে,
মানুষ সৃষ্টি করেছে।
মানুষ ভালবেসে আমাকে
এখানে জায়গা দিয়েছে
ভালবাসার উপর তরিকা নাই।
আমার তরিকা– সেই তরিকা
যে তরিকা কাউরে কষ্ট দেয় না
কে খ্রিস্টান?
কে মুসলমান?
কে হিন্দু?
কে বৌদ্দ?
এসব ভেবে কি হবে?
মানুষকে ভালবাসলে এক ভালবাসায়
সব পাওয়া যায়।
ঘৃণায় ঘৃণা বাড়ে;
লালন এসবে নাই।
এই যে বৃক্ষ তার ফল সকলকে একই স্বাদে ভরিয়ে দেয়।
ফুল পাখি ফল জল বৃক্ষ মাছ প্রাণ ও প্রাণী মানুষকে জ্যান্তে যে রস ও জ্যান্ত থাকার রসদ দেয় মানুষ মানুষকে ভালবাসলে
জীবনের;
জগতের;
সব রস ও রসদ পায়।
তা থুয়ে শাস্ত্রের নামে ফন্দি ফিকিরের নামে বড় বেশি বক্কিচক্কি।
আরে আমি শুদ্ধ না হলে।
গুরু শুদ্ধ কোন কালে।
[লালন একটা গান ধরে]
সোনার মানুষ ভাসছে রসে
যে জেনেছে রসপন্থি সে
দেখিতে পায় অনায়াসে ॥

তিনশো ষাট রসের নদী
বেগে ধার ব্রহ্মা- ভেধী।
তার মাঝে রাত নিরবধি
ঝলক দিচ্ছে এই মানুষে ॥

মাতা পিতার নাই ঠিকানা
অচিন দেশে বসত খানা।
আজগুবি তার আসা যাওয়া
কারণবারির যোগ বিশেষে ॥

অমাবস্যায় চন্দ্র উদয়
দেখতে যার বাসনা হৃদয়।
লালন বলে তেকো সদাই
ত্রিবেনীর ঘাটে বসে ॥

খোদা খুঁজতে গিয়ে মানুষকে মারা;
এইটা কেমন ধর্ম?
মানুষ মেরে ধর্ম করে কোন পূণ্য হবে?
কোন খোদার দেখা পাবে?
যে মানুষে মানুষ খুঁজে;
সেই খোদার দেখা পায়;
সেই তো বাউল হয়;
লালনের গান ভাল লাগে;
লালন মনের খোঁজে মন খুঁজে পায়;
মনের মধ্যে মানুষের খোঁজ করে;
লালন গান ভালবাসে;
ভালোবেসে মনের কথা কয়;
তোমরা লালনরে গুরু বানাইয়া ছাড়লা;
বাউলরা, আমরা বাউলা নানাজন নানা জায়গা থেকে এক জায়গায় এসেছি।
এই মিলনই সারকথা;
এই মিলনে নারী পুরুষ ভেদ করিলে;
জাত পাত ভেদ করিলে ধনী গরীব ভেদ করিলে;
মানুষ ভজন হবে না;
লালন কয় মানুষ ভজলে;
মানুষের দেখা পাবে;
মানুষ ভজনের এই পথ চলা;
লালন চলেছে ¯্রােতের প্রতিকূলে;
স্রোতের অনুকূলে চলা নয়;
কাজটা করতে হবে সময় থাকতে;
ঋতু আর মৌসুম বুঝে জমিনের চাষ করিতে হবে;
সময় বুঝে জলে নেমে মাছ ধরিতে হবে;
সময় গেলে কোনটাই হবে না;
সময়ের কাজ সময়ে করতে হবে;
[লালন গান ধরবে]
দিন থাকতে দ্বীনের সাধন কেন জানলে না
তুমি কেন জানলে না
সময় গেলে সাধন হবে না

জানো না মন খালে বিলে
থাকে না মিন জল শুকালে ॥
কি হবে আর বাঁধা দিলে
মোহনা শুকনা থাকে, মোহনা শুকনা থাকে,
সময় গেলে সাধন হবে না
সময় গেলে সাধন হবে না

অসময়ে কৃষি কইড়ে মিছা মিছি খেইটে মরে
গাছ যদি হয় বীজের জোরে ফল ধরে না,
সময় গেলে সাধন হবে না ॥

অমাবস্যায় পূর্ণিমা হয়
মহাজোগ সে দিনের উপর ॥
লালন বলে তাহার সময়
দনডোমা রয় না, দনডোমা রয় না, দনডোমা রয় না
সময় গেলে সাধন হবে না

দিন থাকতে দ্বীনের সাধন কেন জানলে না
তুমি কেন জানলে না
সময় গেলে সাধন হবে না

মেয়ে মানুষে আছে মানব রতন;
জগতে সৃষ্টিকর্তার ভালবাসায়;
সৃষ্টি মানুষ।
এই মানুষের আর কোন জাত-পাত;
বর্ণ ধর্ম করে ভেদাভেদ খুঁজিয়া মুক্তি নাই।
মুক্তি আছে আত্মসাধনায়।
নিজেরে চিনলে জগত চিনা যায় মানবরতন চেনা যায়।
আমার হইছে সাধনার জীবন;
সেই জীবনে সাধন সঙ্গিনী বিশাখা।
আমি বলি;
লালনের এই সাধন জীবনে তুমি কি পারবে?
সে কয়;
তুমি পারলে আমি পারব না কেন?
[লালন একটা গান ধরে]
মিলন হবে কত দিনে
আমার মনের মানুষের সনে ॥

চাতক প্রায় অহর্নিশি
চেয়ে আছে কালো শশী।
হব বলে চরণদাসী
তা হয় না কপাল গুণে ॥

মেঘের বিদ্যুৎ মেঘে যেমন
লুকালে না পায় অন্বেষণ।
কালারে হারায়ে তেমন
ঐ রূপ হেরি এ দর্পণে ॥

ঐ রূপ যখন স্মরণ হয়
থাকে না লোকলজ্জার ভয়।
লালন ফকির ডেকে বলে সদাই
ও প্রেম যে করে সেই জানে ॥

আমি নিজের মাঝে নিজেকে খুঁজি।
গুরু সাঁইজির কাছ থেকে এই শিক্ষাই পাইছি।
সাধন সঙ্গিনী;
জীবনের প্রয়োজন;
জগতের সকল জিজ্ঞাসার;
সকল উত্তর মানুষে মানুষ;
চিনলে খুঁজে পাওয়া যায়;
আমি থাকি তাঁর খোঁজে জগতের বাহাদুরি;
বাড়াবাড়ি ধন দৌলত;
দালানকোঠা জমিদারি;
এসব কি সঙ্গে যায়?
যায় কেবল একটু করো কাপড়;
শরীর ঠিক থাকলে;
জগত ঠিক;
শরীরে মন চিনিলে আপনি ঠিক;
লালন সেই মনের খুঁজে;
সেই মনের মানুষের খুঁজে;
ঠিক বলিনিÑ
বিশাখা?
ধ্যান?
আত্মসাধনা;
কৃষি।
পানের বরই!
নির্জনে বসে,
আমি নির্জনে নিজেরে খুঁজিা 
নিজের মানুষেরে খুঁজি;
আপনি মজলে;
জগত মজবে;
মানুষ ভজলে, মনের মানুষ পাওয়া যায়।
মনের মানুষের দেখা পেলে,
জগতের দেখা পাওয়া যায়।
লালন আছে সেই সাধনায়।
লালনের কেউ ছিল না,
মা থেকেও থাকল না।
বউ থেকেও থাকল না;
ভেদ বিচারে লালন অচ্ছুৎ হয়ে গেল।
লালন বড় একা হয়ে গেল।
দিশাহারা হয়ে পড়ল।
সিরাজ সাঁই লালনরে দিশা দিল।
তার আগে তো এই ছেউড়িয়ায়।
এই জঙ্গলেÑ
গাছের সঙ্গে বসবাস করতে থাকলেন।
কঁচুই লালনের খাবার।
লালন তো অচ্ছুৎ!
সেই লালনকে এখন ফকির লালন।
সিরাজ সাঁইয়ের শিষ্য ফকির লালনÑ
আমার পুনা মাছের ঝাঁক আসে
মনে ভাবের উদয় হয়।
আমার অন্তরকরণে ভাবরাশি।
দুকুল প্লাবিনী নদীর ন্যায় উচ্ছ্বাসে উথলিয়া উঠে।
আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনেÑ "ওরে আমার পুনা মাছের ঝাঁক এসেছে"
[লালন একটা গান ধরে]
বাড়ির কাছে আরশী নগর
(এক ঘর) সেথা পড়শী বসত করেÑ
আমি একদিনও না দেখিলাম তারে ॥

গেরাম বেড়ে অগাধ পানি
নাই কিনারা নাই তরণী পারে।
বাঞ্চা করি দেখব তারে
(আমি) কেমনে সেথা যাইরে ॥

কি বলব পড়শীর কথা,
হস্ত পদ স্বন্ধ শাখা নাই- রে
ক্ষণেক থাকে শূন্যের উপর
(ও সে) ক্ষণেক ভাসে নীরে ॥

পড়শী যদি আমায় ছুঁতো,
যম যাতনা সকল যেতো দূরে।
সে আর লালন একখানে রয়Ñ
(তবু) লক্ষ যোজন ফাঁক রে ॥

সাঁইজি চলে গেলেন!
পার কর হে দয়ালচাঁদ আমারে;
ক্ষম হে অপরাধ আমার ভবকারাগারে;
আমার তরিকা সিরাজ সাঁইয়ের তরিকা;
যা কাউরে কষ্ট দেয় না।
ধর্ম নিয়ে দেখানোপনার আমার সায় নাই।
আমার ধর্ম মানুষের ধর্ম।
আমার সাধ মনের মানুষ।
সহজ মানুষে,
শুদ্ধ মানুষে,
অধর মানুষে,
জোচ্চুরি পীড়ন, শোষণ লালনের সয় না।
মানুষকে সম্মান না করলে খোদারে সম্মান করা যায় না।
মিথ্যা জোচ্চুরি করে মনের মানুষ, অধর মানুষের খোঁজ পাওয়া যায় না।
মানুষের খোঁজ না জেনে খোদার খোঁজ কেমনে হবে?
পতি মারা গেলে তার স্ত্রীকে পুড়ে কোন খোদার দেখা পাবে?
জ্যান্ত মানুষেই জ্যান্ত খোদার দেখা পাবে।
হিন্দু-মুসলমানে পীড়ন,
ফ্যাসাদে খোদার দর্শন হবে না।
লালনের পথ মানুষকে ভালবাসার পথ।
ভালবাসাই মুক্তি।
ভালবাসাই তীর্থযাত্রা।
নিজের কাজ কর লালন, সিদ্ধি পাবে।
কাজে সিদ্ধি,
জগৎ সিদ্ধি,
এখানে মানুষ শুদ্ধ,
সত্য কথায়
সত্য ব্যবহারে,
সদগুরু দর্শনে।
মিথ্যা জুয়াচুড়ি
লালন ভজে না।
[লালন একটি গান ধরে]
সব লোকে কয় লালন কি জাত সংসারে।
লালন বলে জাতের কি রূপ
দেখলাম না এই নজরে ॥

কেউ মালায় কেউ তসবি গলায়,
তাই তে জাত যে জাত ভিন্ন বলায়।
যাওয়া কিম্বা আসার বেলায়,
জাতের চিহ্ন রয় কার রে ॥

যদি ছুন্নত দিলে হয় মুসলমান,
নারীর তবে কি হয় বিধান?
বামন চিনি পৈতা প্রমাণ,
বামনী চিনি কিসে রে ॥

জগত্– বেড়ে জেতের কথা,
লোকে গৌরব করে যথা তথা।
লালন সে জেতের ফাতা
ঘুচিয়াছে সাধ বাজারে ॥

কাঙাল হরিনাথ আমার সজ্জন।
গ্রামবাংলার কৃষকের সজ্জন। 'গ্রামবার্তা প্রকাশিকা' পত্রিকার সম্পাদক।
কাঙাল হরিনাথের ওপর শিলাইদহের ঠাকুর-জমিদাররা রুষ্ট হয়েছেন।
কাঙাল হরিনাথের কি অপরাধ?
কাঙাল হরিনাথ প্রজা-পীড়নের সংবাদ প্রকাশ করেছে।
জমিদাররা প্রজা-পীড়ন করলে অপরাধ হবে না, আর প্রজা পীড়নের সংবাদ প্রকাশ করে কাঙ্গাল হরিনাথের অপরাধ হবে?
কেমন কথা?
হরিনাথকে শায়েস্তা করার জন্যে লাঠিয়াল আর পাঞ্জাবি সৈন্য পাঠিয়েছে ঠাকুর জমিদারেরা।
এই কে কোথায় আছ?
আমার শিষ্যগণ,
কাঙাল হরিনাথকে বাঁচাতে হবে।
জমিদারের লাঠিয়ালদের বিদেয় করতে হবে।
চল চল লাঠি হাতে নিয়ে চল।
কৃষক বন্ধু হরিনাথকে মারতে আসিয়ছে।
যা যে যার ঘরে ফিরে যা
আপন ঘরের খবর কর গিয়ে।
[লালন একটা গান ধরে]
আপনঘরের খবর নে না।
অনায়াসে দেখতে পাবি
কোনখানে সাঁইর বারামখানা ॥

কমলকোঠা কারে বলি
কোন মোকাম তার কোথায় গলি
কোন সময় (তার উপর) পড়ে ফুলি
মধু খায় সে অলিজনা॥
সূক্ষ্ম জ্ঞান যার সক্ষ সক্ষ্য (সুক্ষ জ্ঞান যার ঐক্য মুখ্য)
সাধকেরই উপলক্ষ
অপরূপ তার বৃক্ষ
দেখলে জীবের জ্ঞান থাকে না
(দেখলে চোখের পাপ থাকে না)॥
শুষ্ক নদীর সুখ-সরোবর
তিলে তিলে হয় ংেগা সাঁতার
লালন কয় কীর্তিকর্মার কী কারখানা ॥
লালন কি চায় জাতসংসারে?
একটা অখন্ড মানব-মণ্ডলী।
শাস্ত্রকানা ভেদবিচারি সমাজ আর আচারের বিরদ্ধে সহজ মানুষ, অধর মানুষ, আর মনের মানুষের সন্ধানে নিমগ্ন এক সমাজ?
সমাজিক অনাচার ভেদবিচার,
মানুষকে জ্যান্তে সুখ দেয় না,
মুক্তি দেয় না।
মানুষের সুখ হবি নে,
মানবজন্ম সিদ্ধ হবে না,
মানুষেই মানুষের মুক্তি,
ধর্ম ভেদে
জাত ভেদে
কূল ভেদে
বর্ণ ভেদে
লিঙ্গ ভেদে
মানুষের মুক্তি নাই।
আমার যা ছিল,
সব থাকল।
জমি কিছু
দুই হাজার টাকা
মেয়ে পিয়ারী আমার পিয়ারীনেসাকে
ভোলাইর সঙ্গে বিয়ে দিয়ে গেলাম।
টাকা আর সম্পত্তি আমার
সাধন সঙ্গিনী বিশাখা
শীতল আর পিয়ারীকে আর বাকি অংশ আমার অন্তিম কার্যের জন্যে।
আমি চলিয়া যাইবার পরে কিছুই লাগবে না।
লাগবে না গঙ্গাজল হরেনাম,
লাগবে না মোল্লা পুরোহিত,
আমার ইচ্ছে–
করো গান
হরিনাম কীর্ত্তন
আর এই ঘরের ভিতর আমার সমাধি কর।
[লালন একটি গান ধরে]
মিছে মায়ায় মজিয়া মন কি করো রে
তুমি বা কার কে বা তোমার এই সংসারে॥
মিছে মায়ায় মজিয়ে মন কি করে রে॥

এত পিরিতি দন্ত জিহ্বায়
কায়দা পেলে সেও সাজা দেয়।
সল্পেতে সব জানিতে হয় ভাব নগরে॥

সময়ে সকলেই সখ্য
অসময়ে কেউ দেয় না দেখা।
যার পাপে সে ভোগে একা
চার যুগে রে॥

আপনি যখন নয় আপনার
কারে বলো আমার আমার।
সিরাজ সাঁই কয় লালন তোমার জ্ঞান নাহি রে॥

তোমরা সুখে থেকো
জগৎ সুখে থাক
জগৎ স্বস্তিতে থাক
জগৎ ও জীবনে শান্তি আসুক
মানুষে মানুষ চিনুক
লালন শুয়ে লালনের অন্তিম সময়
"আমি চলিলাম"
[কোরাস গান ধরে]
খাঁচার ভিতর অচিন পাখী কেমনে আসে যায়।
ধরতে পারলে মন-বেড়ী দিতাম তাহার পায় ॥

আট কুঠুরী নয় দরজা আঁটা
মধ্যে মধ্যে চরকা কাটা
তার উপরে সদর কোঠা
আয়না-মহল তায়॥

কপালে মোর নইলে কি আর
পাখিটির এমন ব্যবহার
খাঁচা খুলে পাখী আমার
কোন বনে পালায়॥
মন, তুই রইলি খাঁচার আশে
খাঁচা যে তো তৈরী কাঁচা বাঁশে
কোনদিন খাঁচা পড়বে খসে
লালন কেদেঁ কয়॥

লালন কয় খাঁচা খুলে
সে পাখি কোন খানে পালায়॥

তথ্যসূত্র
১। লালন শাহ (১৭৭৪-১৮৯০), আবুল আহসান চৌধুরী, বাংলা একাডেমী, ঢাকা।
২। রবীন্দ্রনাথ-সংগৃহীত লালনের গানের পাণ্ডুলিপি, আবুল আহসান চৌধুরী, পাঠক সমাবেশ, ঢাকা।
৩। লালন সমগ্র, মোবারক হোসেন খান, গীতাঞ্জলি, ঢাকা, ২০০৭।
৪। লালন, রোববার, সংবাদ প্রতিদিন, কলকাতা, অক্টোবর ২০১০।
৫। লালনদর্শন, আবদেল মাননান, রোদেলা, ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২০০৯।
৬। লালন শাহ ফকির, মুহম্মদ আবদুল হাই, ইসলামী সাংস্কৃতি কেন্দ্র, সিলেট; ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, ঢাকা, মে ১৯৮০।
৭। মহাত্মা লালন ফকির, শ্রী বসন্ত কুমার পাল, পাঠক সমাবেশ, ঢাকা, ২০১১।
৮। মনের মানুষ, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, আনন্দ, কলকাতা, আগস্ট ২০১২।
৯। ফকির লালন সাঁই, শক্তিধর ওঝা, সংবাদ, কলকাতা, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৫।
১০। রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন-বঙ্গসমাজ, শ্রী শিবনাথ শাস্ত্রী, কলকাতা, ১৯০৯।
১১। তানভীর মোকাম্মেল, ঢাকা, ২০০৪।
১২। মনের মানুষ, ছায়াছবি, গৌতম ঘোষ, কলকাতা, ২০১৩।
১৩। বাউল ফকির কথা, সুধীর চক্রবর্তী, আনন্দ, কলকাতা, ২০১২।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক