নদী ও মাটি । শিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীরের একক চিত্র প্রদর্শনী

admin
Published : 8 Nov 2007, 05:10 AM
Updated : 8 Nov 2007, 05:10 AM

ধানমণ্ডির ‌'বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্‌'-এ ২ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সৈয়দ জাহাঙ্গীর-এর একক চিত্রপ্রদর্শনী। 'নদী ও মাটি' (Of River and Earth) নামের এ প্রদর্শনী চলবে নভেম্বরের ১৫ তারিখ পর্যন্ত।

১৯৩৫ সালে জন্ম শিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীরের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৫৫ সালে বিএফএ করেন তিনি। এটি তাঁর ৩৫ তম একক প্রদর্শনী। জাহাঙ্গীর ১৯৭৭ থেকে ১৯৯১ পযর্ন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর চারুকলা বিভাগের পরিচালক ছিলেন। ১৯৮৫ সালে 'একুশে পদক' পান তিনি। এবারকার প্রদর্শনীতে শিল্পীর ৬০টি পেইন্টিং প্রদর্শিত হচ্ছে। বেঙ্গল শিল্পালয়-এর সৌজন্যে আর্টস-এর ওয়েব গ্যালারিতে সমুদয় চিত্র উপস্থাপন করা হলো। প্রদর্শনীর পরেও আর্টস-এর আর্কাইভে ছবিগুলি দেখা যাবে।

নিচে প্রদর্শনী বিষয়ে বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্‌-এর ভাষ্য তুলে দেয়া হলো। প্রদর্শিত চিত্রকর্মের ছবি তুলেছেন সিউতি সবুর।

বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্‌-এর ভাষ্য
পঞ্চাশের দশকে যেসব শিল্পীর আবির্ভাব বাংলাদেশের চিত্রকলার ধারাকে সমৃদ্ধ করেছিল, সৈয়দ জাহাঙ্গীর তাঁদের অন্যতম। ১৯৫৫ সালে তিনি ঢাকার চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। এর পরপরই লক্ষ করা যায় তাঁর কাজে সমকালীন মার্কিন চিত্রকলার প্রভাব Ñ আমাদের শিল্পক্ষেত্রে তা তৃপ্তিকর বৈচিত্র্যের সৃষ্টি করে। তিনি বহু মাধ্যমে কাজ করেছেন, তবে তেলরঙের প্রতি যেন তাঁর পক্ষপাত। দেশের রাজনৈতিক-সামাজিক পরিস্তিতি সম্পর্কে সচেতনতা প্রকাশ করা সত্ত্বেও তাঁর ঝোঁক বিমূর্ত রীতির ছবির দিকে। রং ও আকার, জমিন ও আলোর নানারকম ঘাত-প্রতিঘাত-অবস্থান নিয়ে জাহাঙ্গীর নির্মাণ করেন তাঁর ছবি। তাতে যদি বক্তব্য থাকে শিল্পীর, তবে তা বুঝে নিতে হয় যত্ন করে। বক্তব্যকে তিনি প্রাধান্য দেননি, প্রাধান্য দিয়েছেন সৃষ্টির আনন্দকে।
সৈয়দ জাহাঙ্গীর পৃথিবীর বহু দেশে একক প্রদর্শনী করেছেন এবং অংশ নিয়েছেন বহু যৌথ প্রদর্শনীতে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী-আয়োজিত জাতীয় চিত্রকলা প্রদর্শনীতে পুরস্কারলাভ করেছেন, পেয়েছেন রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদক। অনেককাল শিল্পকলা একাডেমীর চিত্রকলা বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন, অবসরজীবনে ছবি এঁকে চলেছেন। সাম্প্রতিক প্রদর্শনীর আধা বিমূর্ত কাজ যেমন আছে, তেমনি আছে বাস্তবধারার কাজ। এই কাজের বৃহৎ অংশ জুড়ে আছে নদী, নৌকা, বীজবপন ও নিসর্গ। রং, রেখা ও অবয়ব গঠনের সূক্ষ্ম সৃজনী উৎকর্ষ করে তুলেছে তাঁকে বিশিষ্ট। এই প্রদর্শনীতে তাঁর সিদ্ধির ছাপ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আমরা তাঁর সাফল্য কামনা করি। ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড প্রদর্শনী আয়োজনে সহায়তা দেওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ।
– বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক