কাল্পনিক বিতর্ক: বিজ্ঞান-দর্শন-সাহিত্যের একটি ব্যতিক্রমধর্মী গ্রন্থ

মোজাম্মেল হক নিয়োগী
Published : 9 April 2022, 01:20 PM
Updated : 9 April 2022, 01:20 PM


বিজ্ঞান-দর্শন-সাহিত্যের সংশ্লেষণে একটি ব্যতিক্রমধর্মী নান্দনিক উপস্থাপনায় নিরেট গদ্যের প্রাঞ্জল ভাষার সুখপাঠ্য গ্রন্থটি পাঠের সুযোগ হয়েছে। এটি ব্যতিক্রমধর্মী এজন্যই বলা যে, এতে বিজ্ঞানের অনেক বিষয়ের বা ঘটনার মূল তথ্যকে লেখক সাহিত্যের ভাষায় বর্ণনা করেছেন যেখানে স্বয়ং বিজ্ঞানীকে তিনি কথকের ভূমিকায় রেখেছেন এবং কোনো কোনো স্থানে লেখক নিজেও কথকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। একশ আষট্টি পৃষ্ঠার বইটিতে মোট চুয়াত্তর জন পৃথিবী বিখ্যাত বিজ্ঞানী, কবি, দার্শনিকের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা, উদ্ধৃতি এবং ধর্মান্ধতার কারণে বাধাবিপত্তির ঘটনাবলির সারবস্তু উপস্থাপন করে সুগভীর প্রজ্ঞার পরিচয় দিয়েছেন। এই বইয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠায় লেখকের জ্ঞানের গভীরতা খুব সহজেই টের পাওয়া যায়। নানা বিষয়ে রয়েছে তার জ্ঞান। শিক্ষক-গবেষক-লেখক রেজাউল করিমের ১৯৭৫ সালে কর্মজীবন শুরু হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা দিয়ে এবং ১৯৭৮ সালে উচ্চ শিক্ষার উদ্দেশ্যে আমেরিকায় গিয়ে ১৯৮৩ সালে ইউনিভার্সিট অব অরিগন থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সেখানেই থিতু হয়ে ত্রিশ বছর যাবৎ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষতার পেশায় নিয়োজিত থেকে বর্তমানে ইলিয়ন স্টেট ইউনির্ভাসিটির এমিরেটাস প্রফেসর হিসেবে সম্মান অর্জন করেন। তিনি নাসা, মার্কিন জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থা, মার্কিন এনার্জি সংস্থা, ন্যাটো, টোকোমাক, ফিউশন টেস্ট রিয়্যাক্টরসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞান প্রকল্পে কাজ করেছেন। তাঁর গবেষণা প্রবন্ধ মোট আশিটি এবং কোয়ান্টাম নার্সারি রাইমসকোয়ান্টাম রাজ্যে ডালিম কুমার নামে দুটি গ্রন্থেরও রচয়িতা তিনি। লেখকের কর্মজীবনের ছিঁটেফোঁটা থেকে কিছুটা আঁচ করা যাচ্ছে তাঁর জানাশুনার পরিধি সম্পর্কে এবং আলোচ্য গ্রন্থটিতে তিনি জ্ঞানের গভীর হ্রদ থেকে কিঞ্চিৎ সিঞ্চন করেছেন তাতে সন্দেহ নেই।

জ্ঞান, দর্শন ও সত্য অন্বেষণের শুরু থেকেই বিজ্ঞানী ও দার্শনিকগণ ধর্মান্ধদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছেন এবং অদ্যাবধি এই চর্চা সারা পৃথিবীতেই চলছে বলে অনেক মুক্তমনা সত্যানুসন্ধিৎসু নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ নানারূপ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ধর্মান্ধতার কারণে সক্রেটিসের হ্যামলক বিষপানে মৃত্যুদন্ড থেকে শুরু করে হালে এই উপমহাদেশে অনেক হত্যাকান্ড ও নির্যাতনের মাধ্যমে সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা আমাদের এই আধুনিক যুগেও প্রত্যক্ষ করতে হচ্ছে। লেখক ড. রেজাউল করিম ভূমিকায় লিখেছেন, "সত্যকে আবিষ্কার এবং প্রচার করতে গিয়ে অনেক বিজ্ঞানী প্রাণ হারিয়েছেন। গ্যালিলিওকে জীবনের শেষ দশ বছর গৃহবন্দি হয়ে কাটাতে হয়েছে, ব্রুনোকে উল্টো করে ঝুলিয়ে আগুনে পোড়ানো হয়েছে, হাইপেসিয়াকে বিবস্ত্র করে পাথর ছুঁড়ে খুন করা হয়েছে, কেপলারের মাকে ডাইনি অপবাদ দিয়ে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে।" লেখকের এই ভাষ্য থেকে সহজেই অনুমেয় যে এই নির্যাতন কেবল ধর্মান্ধদের দ্বারা অন্ধকার যুগেই সাধিত হয়নি বরং বর্তমান আধুনিক বিজ্ঞানের যুগেও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে চলমান রয়েছে। কখন এই নির্যাতন শেষ হবে তা বলা মুশকিল।

লেখক ছত্রিশটি ছোটো ছোটো অধ্যায়ে দর্শন পদার্থ ও রসায়ন বিজ্ঞানের উল্লেখযোগ্য ঘটনবালির নির্মোহ দৃষ্টিকোণ থেকে বর্ণনা করে দর্শন ও সাহিত্যের সঙ্গে মেলবন্ধন স্থাপন করেছেন। তিনি প্রতিটি অধ্যায়ে দার্শনিক, বিজ্ঞানী কবি-সাহিত্যিকদের এমনভাবে উপস্থাপন করেছেন যাতে মনে হয় তাঁদেরই সংলাপ বা তাঁরাই ঘটনার কথক। কোনো কোনো অধ্যায়ে ঘটনা বা সূত্রগুলোর সহজতর ব্যাখ্যার জন্য নৈর্ব্যক্তিক কথক হিসেবে সহজ করে ব্যাখ্যা করেছেন লেখক নিজেও। এদিক থেকে 'কাল্পনিক বিতর্ক' নামকরণের সার্থকতা রয়েছে বলে দাবি করা যায়।

প্রথম অধ্যায়টি শুরু হয়েছে 'পরমাণুর কথা' শিরোনামে এবং লেখা সূচিত হয়েছে প্লেটোর সংলাপধর্মী ন্যারেশনের মাধ্যমে। এই গ্রন্থের ন্যারেশনটি আমাদের কাছে নতুন ধরন (genre) হিসেবে মনে হচ্ছে। একবার চোখ বুলিয়ে এর নতুন ধরনটি পরখ করে দেখা যাক, "প্লেটো: এই মহাবিশ্বের সবকিছু কী দিয়ে তৈরি? আগুন, পানি, বায়ু এবং মাটি দিয়ে। পদার্থকে বারেবারে যতবার ইচ্ছে ভাঙা যায়। মহাপন্ডিত সক্রেটিস থেকে শুরু করে আমার ছাত্র অ্যারিস্টটলের একই ধারণা। কিন্তু এই ব্যাটা বুড়ো ডেমোক্রিটাস এবং ওর গুরু লুসিপ্পাস (Leucippus) যত সব ফালতু ধারণা প্রচার করে বেড়াচ্ছে। ওদের কথা শুনলে হাসি পায়। সাধে কি সবাই ডেমোক্রিটাসকে হাসি-দার্শনিক (laughing philosopher) ডাকে! হা হা! পদার্থ নাকি পরমাণু এবং শূন্যতা দিয়ে তৈরি। পদার্থকে ভাঙতে ভাঙতে সবশেষে নাকি পাওয়া যাবে পরমাণু, যাকে আর ভাঙা যায় না! কেন? এমন বেকুব, বুড়ো বয়সে চোখের মাথা খেয়ে বসে আছে। এক টুকরো লোহার কথা ধরা যাক। ওর মাঝে ফাঁকা জায়গা কোথায়?"

এর পরের সংলাপে ডেমোক্রিটাস পরমাণুর আরো ব্যাখ্যা দিয়েছেন, প্লেটো আবার প্রশ্ন করেছেন, ডেমোক্রিটাস আবার উত্তর দিয়েছেন এবং এভাবেই পরমাণুর ধারণাটি পাঠকের সামনে পরিষ্কার করেছেন।

উপরিউক্ত বর্ণনা থেকে সহজেই অনুমান করা যায় যে, এই বইয়ের বিষয়গুলো গতানুতিক ধারায় বর্ণিত না হয়ে বরঞ্চ লেখক বিতর্কের মতো বা সংলাপের মতো কৌশলে উপস্থাপন করে অধিকতর পাঠোপযোগী ও হৃদয়গ্রাহী করে তুলেছেন।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে 'সূর্য-কেন্দ্রিক সৌরজগৎ' আলোচনায় ওমর খৈয়াম, মালেক শাহ, এরিসটারকাস, ব্রহ্মগুপ্ত ও লেখকের বিতর্কের মধ্য দিয়ে সৌর-পঞ্জী আবিষ্কারের ইতিহাস তুলে ধরেছেন। লেখকের বক্তব্যের কিছু অংশ এখানে প্রণিধানযোগ্য, "ব্রহ্মগুপ্ত, তোমার সাধের 'পাই' একটি অযৌক্তিক সংখ্যা (irrational number) যাকে দুটি পূর্ণ সংখ্যার (integer) ভাগফল হিসেবে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। গণিতজ্ঞ পিথাগোরাস এমন সংখ্যাকে ঘৃণা করতেন। খৈয়াম, মুসলমানদের স্বর্ণযুগ শেষ হয়ে গেছে, ওরা এখন 'বিবি তালাকের ফতোয়া খোঁজে কোরান কেতাব পড়ি।' তোমাদের সময় ছিল খ্রিস্টানদের অন্ধকার যুগ, এখন চলছে মুসলমানদের অন্ধকার যুগ। অন্ধকার যুগের খ্রিস্টানরা জ্ঞানী লোকদের খুন করত, স্বাধীনচেতা মেয়েদের ডাইনি বলে পুড়িয়ে মারত, এখন মুসলমানরা ওইসব কাজের ভার নিয়েছে। খৈয়াম, তোমার সংখ্যাটিকে আমরা কাল্পনিক সংখ্যা বলি। ওদের ছাড়া এখন পদার্থবিদদের একদন্ড চলে না, কোয়ান্টামতত্ত্ব দাঁড়িয়ে আছে কাল্পনিক সংখ্যার ওপরে।"


এই অধ্যায়ে লেখক ওমর খৈয়ামের একটি রুবাই দিয়ে আলোচনাটি আরও সমৃদ্ধ করেছেন। পরের অধ্যায়ে কেপলারের ডাইনি মায়ের উল্লেখ করেছেন যাঁকে খ্রিস্টান ধর্মের যাজকরা ডাইনি আখ্যায়িত করে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। এই অধ্যায়ে গ্যালিলিও, কেপলার, কোপার্নিকাস, টাইকো ব্রাহে, ক্যাথেরিনা ও লেখকের বিতর্ক অর্থাৎ ন্যারেশনে প্রকৃত ঘটনাটি বিধৃত হয়েছে। কেপলারের মাকে পুড়িয়ে মারার বিষয়টি পড়ে পাঠকের হৃদয় বিগলিত হয় বটে কিন্তু এই বর্ণনায় লেখকের আবেগ নিয়ন্ত্রিত ও নির্মোহ। পাঠককে কোনোভাবে আবেগকাতর করে তোলার প্রয়াস তিনি নেননি।

নিউটনের গতিসূত্রের অধ্যায়ের কথক হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছেন অ্যারিস্টটল, গ্যালিলিও, নিউটন ও গরু। গরু কথক হিসেবে উপস্থাপিত হওয়াতে খুব সহজেই হাস্যরসের বাতাবরণে নিউটনের গতির সূত্রটি বিধৃত হয়েছে তা হয়তো বলার অপেক্ষা রাখে না। বিষয়টি অবশ্যই মজাদার। তিনি লিখেছেন, "আমি গরু। পন্ডিতদের বিবাদে আমার কথা বলা শোভা পায় না। তবে গরুর মতো বুদ্ধি নিয়ে কত লোক তো সারাক্ষণ কথা বলে যায়! গ্যালিলিও বলেছিলেন যে, তিনি জীবনে এমন কোনো মূর্খ লোক খুঁজে পাননি যার কাছ থেকে কিছু শিখতে পারেননি।"
মূলত লেখক গরুর গাড়ি দিয়েই নিউটনের গতির তিনটি সূত্র চমৎকার ও সহজভাবে উপস্থাপন করেছেন যা বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের জন্য সুখকর পাঠ হতে পারে বলে বিশ্বাস।

ক্যালকুলাসের বিষয়টি বর্ণনা করতে গিয়ে কার্ল মার্কসকেও এনেছেন এবং প্রকৃতিতে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদকে জুড়ে দিয়ে প্রকৃতির পরস্পরবিরোধী বস্তুর অবস্থান সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন। তবে দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদের শুধু ধারণাই এখানে স্থান পেয়েছে কিন্তু এই বিষয়টি শিক্ষার্থীরা সহজে বুঝতে পারবে কিনা কিছুটা সংশয় থেকে যায়।

টি এস এলিয়টের একটি কবিতাংশে ছায়ার বর্ণনা করতে গিয়ে লেখক বলেছেন, শুধু কবিদের নয়, 'ছায়া' বিজ্ঞানীদেরও ঘোল খাওয়াচ্ছে। আমার ভেতরে বাস করে এক ছায়া-আমি, ওকে নিয়ে আমি ভীষণ বিব্রত। মহাবিশ্বের মাঝে বাস করে এক ছায়া-বিশ্ব, যাকে নিয়ে বিজ্ঞানীদের ঝামেলার শেষ নেই।"
ছায়া-কণিকা, ঈশ্বর, মানুষ, ছায়া-কণিকা এবং প্রতিসমতা বিষয়টি উপস্থাপনের ক্ষেত্রে শরৎচন্দ্র, লালন ও রবীন্দ্রনাথের কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছেন। আরেকটি মজার ব্যাপার হলো বানরের কাব্যচর্চা। খুব হাস্যকর শিরোনামের মধ্য দিয়ে কণার বিষয়টি তিনি বুঝিয়েছেন। এই বিষয়টি অবশ্যই পাঠককে চিন্তাচ্ছন্ন করে। বলতে হয় যে, বিজ্ঞানের রহস্যের শেষ নেই। নেই কোনো কূলকিনারা।

এভাবে প্রতিটি অধ্যায়ের শিরোনামও দেওয়া হয়েছে চমৎকারভাবে যাতে মনে হবে কবিতার বা গল্পের শিরোনাম। হ্যাঁ, গল্পই তো। তিনি সমস্ত বিষয়গুলোকে গল্পের মতোই উপস্থাপন করেছেন। পাঠক গল্প পড়ছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বিজ্ঞান, দর্শন ও সাহিত্যের নিগূঢ় সত্যের গভীরে চলে যাচ্ছেন। জানা যাচ্ছে অন্ধকার যুগের নানা ইতিবৃত্ত। পাঠক কখনো বিষাদগ্রস্ত হবেন, কখনো হাস্যরসে ডুবে যাবেন আবার কখনো চিন্তাচ্ছন্ন হয়ে পড়বেন। আইনস্টাইন, নিউটন থেকে শুরু করে বর্তমান সময়ে খ্যাতিমান সব রসায়ন ও পদার্থবিদদের আবিষ্কারের ঘটনা এই গ্রন্থ পাঠে জানা সম্ভব হয় খুব সহজে। পরমাণু ও কোয়ান্টামের আলোচনা রয়েছে বেশ কয়েকটি অধ্যায়ে। পৃথিবী ও কোয়ান্টাম দুটি বিষয়ই পৃথিবী নামক গ্রহের মানুষের কাছে আজও রহম্যময়। এখনো হয়তো রহস্যের জাল খুলে শেষ করা যাচ্ছে না। বিজ্ঞান ও দর্শনের সত্য, তথ্য ও তত্ত্বের সঙ্গে সাহিত্যের মিশেল বেশ চমৎকার। শিল্প-সাহিত্যের বলয়ে রয়েছেন শেক্সপিয়ার, রবীন্দ্রনাথ, লালন, ফ্রস্ট, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, অস্কার ওয়াইলড, টিএস এলিয়ট, জীবনানন্দ দাশ, এমি পহয়েলার এবং চিত্রশিল্পী ভ্যান গখ। বিজ্ঞানের অবদানের গল্পগুলোর মধ্যে ভারতবর্ষের গণিতবিদ আরিয়াভাটা, গণিতবিদ ও জ্যোর্তিবিজ্ঞানী ব্রহ্মগুপ্ত ও সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নামও উল্লেখ রয়েছে। বাংলাভাষাভাষী হিসেবে আরও ভালো লেগেছে যে, এককালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কলকাতার মানুষ সত্যেন্দ্রনাথ বসুর বিজ্ঞানের ধারণাও পশ্চিমাদের চিন্তার দুয়ার খুলে দিয়েছে। এছাড়া দুজন মহাকাশচারীর নাম এবং বিজ্ঞানে তাদের দুতিনটি পরীক্ষা ও এর ফলাফল সম্পর্কে এই গ্রন্থে আলোচনা রয়েছে।

দর্শন ও বিজ্ঞানের যুগের সূচনাতে সত্যানুসন্ধানে ব্যাপৃত হয়ে বিজ্ঞানীরা যেমন ধর্মান্ধ গোষ্ঠী দ্বারা নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ঠিক তেমনি মজার ঘটনাও এই বইতে রয়েছে যা পাঠকের হাসির খোরাক জোগায়। যেমন- বরফ, আগুন এবং ক্ষুধা অধ্যায়ে ইংল্যান্ডের রাজা জেমসের হিম বাতাসের ঘটনাটি যেন হবুচন্দ্র রাজার কথাই মনে করিয়ে দেয়। সেই হিম বাতাসের ঘটনা থেকে লেখক হাস্যরসের মধ্য দিয়ে বর্তমানের ফ্রিজের প্রযুক্তিটি খুব সহজেই বুঝিয়ে দিলেন। এই অধ্যায়টি রবার্ট ফ্রস্টের কবিতা দিয়ে শুরু হওয়াতে সহজেই কাব্যরসের মধ্য দিয়ে বিষয়ের গভীর যাওয়া সম্ভব হয়।
"Some say the world will end in fire,/Some say in ice./From what love tasted of desire/I hold with those who favor fire./But if it had to perish twice,/I think I know enough of hate/To say that for destruction ice/Is also great/And would suffice."

প্রতিটি পৃষ্ঠাতে অতিরঞ্জিত বর্ণনার পরিবর্তে মোদ্দা কথার নিটোল সরস-সরল ও প্রাঞ্জল বর্ণনায় বিজ্ঞানের দুর্বোধ্য বিষয়গুলো সহজবোধ্য হয়ে উঠেছে। লেখকের এই কৌশল ও দক্ষতা স্কুল-কলেজের পড়ূয়াদের আকৃষ্ট করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
বইটি প্রকাশ করেছে সৃজন। প্রচ্ছদ শিল্পী দেওয়ান আতিকুর রহমান। মূল্য ৩৩০ টাকা। প্রকাশকাল ডিসেম্বর ২০২১।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক