তিনটি জার্মান কবিতা: হাইনে, গ্যোয়েতে, শিলার

সুলতানা আজীম
Published : 8 July 2022, 08:49 AM
Updated : 8 July 2022, 08:49 AM


জার্মান ভাষার এই তিনজনই লেখকই এতটাই জগদ্বিখ্যাত যে কাব্যরসিকদের কাছে আলাদা করে এদের আর পরিচয় দরকার হয় না। মূল ভাষা থেকে কবিতাগুলো অনুবাদ করেছেন সুলতানা আজীম

হাইনরিশ হাইনে : মৃুত্য

রাতের শিতলতায় যদি মৃত্যু হয় আমাদের,
দিনের জলাধারে হয় জীবন।

হারিয়ে যাচ্ছি আমি উজ্বল আঁধারে,
দিন তার আলো দিয়ে,পরিশ্রান্ত করেছে খুব।

আমার মাথার ওপরে জন্মানো ঝোঁপের ভেতরে,
গেয়ে যাচ্ছে গান,এক তরুণ নাইটিংগেল।

সেতো গায় শুধু প্রেমের গান,
যে গান শুনি আমি ঘুমের ভেতর।

ভল্ফগাঙ য়োহান ফন গ্যোযেতে: আমিও পাখীর মতো

'আমি গান করি,যেভাবে গান করে পাখী।
যে, বাসা বেঁধে বাস করে গাছের ডালে।
সে গান, যা তার গলার ভেতর থেকে আসে,
তা তাকে সম্পদশালী করে।'

ফ্রিডরিশ শিলার: গাছটি

জন্মানোর সাথে সাথে,বেড়ে উঠতে থাকে একটি গাছ।
গাছটিও জন্ম নিয়েছে একই সাথে,জন্ম হচ্ছিল যখন আমার।
মা জানতো,জানতো সবাই জন্মাবে গাছটিও।
উপড়ে ফেলেনি কেউ এটিকে,গুরত্বহীন মনে করে।
জন্মাতে দিয়েছে,দিয়েছে বাড়তে।
আলো জল সার যত্ন কী দেয়া হয়নি একে।

বেড়ে উঠতে থাকি আমি।
বেড়ে উঠতে থাকে সেও,সমান্তরালে।
নিশ্বাস নিই আমি।
সেও নেয়।
এগিয়ে দেয় আমাকে সে,জীবনের দিকে প্রতিদিন। প্রতিক্ষণে।
দেখায় জীবনের সোনালী লক্ষ্যগুলো।
আর যতো লোভনীয় স্বপ্ন,সব। সবই

খ্যাতি,অমরতা,সন্তানদের ভেতরেও বেঁচে থাকা।
সমাধীটিকেও যেন পরিচর্যা করে তারা।
আর তাতে,অর্থহীন জীবনও যেনো,হয়ে ওঠে অর্থময়।
এটি দেখায় অনন্ত জীবনের লোভ।
মৃত্যু, কে পারে মেনে নিতে,স্বর্গ না থাকলে।

গাছটি ছাড়া বেঁচে থাকতে পারি না আমি। আমরা।
জীবনের দরজা তো খুলেছে সে।
খুলবে মৃত্যুর দরজাও।

একে ছাড়া, প্রবেশ করবো কী করে,গভীর অন্ধকারে।
একে তো নিতেই হবে সাথে।
সবই তো অমর আর অবিনশ্বর।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক