আনহেলেস মাস্ত্রেত্তা’র জীবন আমার উপড়ে নাও – চতুর্থ পর্ব

আনিসুজ জামান
Published : 18 June 2022, 03:24 AM
Updated : 18 June 2022, 03:24 AM


লেখিকার ছবি: পাস্কুয়াল বোসেইয়্যি ইগলেসিয়াস
আনহেলেস মাস্ত্রেত্তা (জ. ১৯৫৯) সমকালিন বিশ্বসাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ কথাসাহিত্যিক। তাঁকে লাতিন আমেরিকার বুম-পরবর্তী সাহিত্যের অন্যতম প্রধান লেখক হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি একইসঙ্গে সাংবাদিক, অভিনেত্রী ও প্রযোজক। নারীচরিত্রপ্রধান রাজনৈতিক উপন্যাস রচনার জন্য বিখ্যাত। তাঁর সাহিত্যে নারী চরিত্ররা ভীষণ সাহসী, পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তারা আত্মপরিচয় নির্মাণে যথেষ্ট সচেতন।

আনহেলেস মাস্ত্রেত্তার সবচেয়ে সাড়া জাগানো উপন্যাসের নাম Arráncame la vida, যেটি Tear This Heart Out শিরোনামে ইংরেজিতে অনূদিত হয়ে প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে উপন্যাসটি অবলম্বনে সিনেমা নির্মিত হয়। মেক্সিকান রেভ্যুলেশনের সময় এবং পরবর্তী প্রেক্ষাপট নিয়ে রোম্যান্টির-রাজনৈতিক ধারার এই উপন্যাসটি প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। সে বছর বইটি মেক্সিকোতে "বেস্ট বুক অব দ্য ইয়ার" পুরস্কার জেতে। এই উপন্যাসে মাস্ত্রেত্তা খোলাখুলিভাবে যৌনতার অনুষঙ্গ তুলে ধরেছেন। উপন্যাসটি প্রধান নারীচরিত্র কাতালিনার বয়ানে রচিত। মেক্সিকান জেনারেল মাক্সিমিলিয়ানো আবিলা কামাচোর জীবনীর ছায়া অবলম্বনে লেখা। দুর্নীতিবাজ, হিংস্র ও নারীভোগী রাজনীতিবিদ তিনি। তার অসম-বয়সী স্ত্রী হয়ে কাতালিনা দৃঢ়তার সঙ্গে ন্যারেটরের ভূমিকা পালন করেছেন। উপন্যাসটি পাঠ করে প্রকৃত মেক্সিকো, মেক্সিকোর রাজনীতি ও সমাজবাস্তবতা সম্পর্কে পাঠক ধারণা পাবেন।

উপন্যাসটি অনুবাদের স্বত্ত্ব নিয়ে স্প্যানিশ থেকে অনুবাদ করেছেন অনুবাদক আনিসুজ জামান। তিনি এরই মধ্যে গাব্রিয়েল গারসিয়া মার্কেসের পৃথিবীখ্যাত উপন্যাস নিঃসঙ্গতার একশ বছর এবং ওনেত্তির উপন্যাস কুয়া অনুবাদ করেছেন। সম্প্রতি তাঁর অনুবাদে আরো প্রকাশিত হয়েছে সমকালিন কলোম্বিয় ছোটোগল্পের সংকলন গাবোর দেশে গাবোর পরে
আজ প্রকাশিত হলো উপন্যাসটি চতুর্থ পর্ব।

মূল থেকে অনুবাদ: আনিসুজ জামান

বেরানিয়ার জন্মের সময় আমার বয়স ছিল সতের। নয় মাস ওকে দুঃস্বপ্নের মতো বহন করেছি। পেটের ভিতরে একটা কুজ বেড়ে উঠছিল কিন্তু মাতৃত্ববোধ আমার কখনোই জাগেনি। প্রথম দুর্ভাগ্য হচ্ছে ঘোড়াগুলিকে ত্যাগ করতে হয়েছে; দ্বিতীয়, পোশাকগুলোকে বদলাতে হয়েছে; তৃতীয়ত, এমন এক একটা ঢেকুর উঠত যেটা নাক পযন্ত চলে আসত। আক্ষেপ করাটা আমার একদম অপছন্দের। আবার এটাও ঠিক, আমার উপর কিছু ভর করেছে সারাক্ষণ এইরকম অনুভূতি প্রচণ্ডরকম বিরক্তিকর। জঠরের ভিতরে যখন ও মাছের মতো নড়ত, মনে হতো যখন তখন বের হয়ে যাবে রক্তের স্রোত নিয়ে। এমনকি বের হয়ে আমাকে মেরে ফেলবে। আমার এই অবস্থার জন্য আন্দ্রেস দায়ি, অথচ এ নিয়ে সে আমার কোনো কথায় শুনতে চাইত না।
মেয়েরা মাতৃত্বকে মহিমান্বিত করতে কি-না ভালোবাসে! বলত।
ভাবছিলাম তুমি অন্য সবার থেকে আলাদা হবে। কারণ তুমি জন্তুজানোয়ারদের গর্ভাবস্থা এবং ওদের কোনোরূপ অভিযোগ ছাড়া দেখতে দেখতে বেড়ে উঠেছ। তোমার বয়সও কম। বেশি চিন্তা করো না, দেখবে তোমার ব্যথা ভুলে যাবে। আন্দ্রেস বলত।

****
যেহেতু সে গভর্নর পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে তাই অলস সময় কাটাত। এ সময় ভ্রমণ করার ইচ্ছা জাগে আর আমাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। রাস্তায় সব সময় আমি ঘুমাতাম, চোখে রোদ্র নিয়ে, এমনকি এবড়োথেবরো রাস্তায় গাড়ির লাফালাফিতেও ঘুম ভাঙত না।
জানি না তোমাকে কেন এনেছি, কাতিন। অন্য কোনো মেয়েকে আনলেই পারতাম। আশেপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখছ না। কোনো গানও শোনাওনি। হাসিও দাওনি। আমার সঙ্গে প্রতারণা করছ। আন্দ্রেস বলে।
গর্ভাবস্থার পুরো সময়টা আমি প্রতারক ছিলাম।
বাচ্চার ক্ষতি হবে এই অযুহাতে আমাকে আন্দ্রেস স্পর্শ করত না। এতে আমি আরো ঘাবড়ে যাই। সাজিয়ে গুছিয়ে কোনো চিন্তা করতে পারতাম না। অমনোযোগী হয়ে যেতাম। একটা কথা শুরু করলে অন্য কথায় চলে যেতাম। আমাকে যা বলা হতো, তার অর্ধেক শুনতাম। প্রসবের বিষয়ে খুব আতঙ্ক কাজ করত। মনে হতো, বাচ্চা হওয়ার সময় আমি সারা জীবনের জন্য বোকা হয়ে যাব। সে আগের চেয়ে ঘনঘন বের হয়ে যেত। মেক্সিকো সিটিতে ষাড়ের লড়াই দেখতে আর আমাকে নিয়ে যেত না। একাই বেরিয়ে যেত। কিন্তু আমি নিশ্চিত ছিলাম, মোড় ঘুরলেই আরেকটা মেয়ের দেখা পেয়ে যেত—এমন এক জন যাকে সঙ্গে করে নিয়ে বেড়ানো যায়, যার পেটের মধ্যে কোনো ফোঁড়া নেই, চোখের নিচ থেকে মুখ পযন্ত কালি জমে নি। মনে করি ব্যাপারটা ঠিকই আছে, তাই-ই করা উচিত ছিল তার। আমি নিজেই আমাকে নিয়ে কোথাও যেতে পারতাম না। ষাড়ের লড়াইয়ের ওখানে তো প্রশ্নই আসে না। কারণ ওখানে যায় সুরু কোমরের সুন্দর সুন্দর মেয়েরা। আমি পেটে হাত বুলিয়ে নিজে নিজে কথা বলে সময় কাটাতাম। শুধুমাত্র বাবার বাড়ি যেতাম খাবার জন্য। এক দুপুরে আমি তিয়ার জন্য সকালো থেকে তালপাতার বাঁশি কিনে ফুঁ দিতে দিতে বাপের বাড়ি যাচ্ছিলাম। বিশাল পেট নিয়ে আমার কলেজবন্ধু পাবলোর সাথে ধাক্কা খাই। পাবল ছিল চিপিলেন্ঞবাসী। ওর দাদা-দাদি আসছিল ইতালির পিয়ামন্তে থেকে। তাই গভীর চোখ ও ভীষণ সাদা ছিল ওর গায়ের রঙ।
কী ভালোই না তোকে দেখাচ্ছে! ও বলে।
তুই কি মজা করছিল!
সত্যি। আমি সবসময় জানতাম, তুই গর্ভবতী হলে তোকে সুন্দর দেখাবে।
তখন আর বাপের বাড়ি যাই না। খচ্চরটানা গাড়ি করে বাড়ি বাড়ি দুধ পৌঁছে দিত পাবল। খুব ভোরে সে চিপিলেন্ঞ গ্রাম থেকে বের হতো। আমাকে গাড়িতে উঠতে বলে। আমরা মাঠের দিকে যাই। ওর আচরণে নিজেকে রানী বলে মনে হয়। ওর মতো কেউই আমার অনাগত সন্তানকে এত আদর করেনি, এমনকি আমিও না। যদিও আমি মাতৃত্বের ভালো কোনো উদাহরণ নই। ওই বিকালটাতে আমরা মাঠের ঘাষের উপর শৈশবের মতো খেলেছি। আমার পেটের কথাও তখন ভুলে যাই। ভাবি, জীবনে এই রকম সহজ আনন্দের চেয়ে আর কি-বা পাওয়ার আছে। ওর সস্তা প্যান্টের কাপড়, ওর এলোমেলো চুল, ওর হাত, সবই উপভোগ করেছি। পাবলো গর্ভাবস্থার শেষ তিন মাসের দুশ্চিন্তা দূর করার দায়িত্ব নেয়। আমি ভার নিই ওর কুমারিত্ব হরণ করার যেটা তখন পযন্ত কোনো বেশ্যাবাড়ি হরণ করতে পারেনি।
ভেরানিয়ার গর্ভাবস্থায় এটাই ছিল একমাত্র ভালো সময়। এমনকি প্রসবের আগের রোববারও আমরা খড়ের গাদায় খেলতে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ও আমাকে বাপের বাড়ি নিয়ে যায়, কারণ মেয়ের বের হওয়াটা টের পাচ্ছিলাম। বিশটি গোলাপের তোড়া আর চকলেট নিয়ে আমার জেনারেল দুই দিন পর উপস্থিত হয়।

******
মেয়েটার বয়স তখন এক মাস, আমার দুধ ছিল ভরাট। আন্দ্রেস ওর প্রথম বিয়ের দুই সন্তানকে নিয়ে ঘরে ঢোকে।
ভিরহিনিয়া বয়সে আমার চেয়ে এক মাসের বড়ো। অক্তাবিও জন্ম নিয়েছে ১৯১৫-এর অক্টবরে। আমার কয়েক মাসের ছোটো। যে ঘরে ছিলাম সে ঘরের দরজায় বাবার সাথে এসে দাঁড়ায়। ওদের বাবা আমার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। আমরা তিনজন কথা না বলে একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকি। আন্দ্রেসের আগের জীবন সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। আমার বয়সী এই সন্তানদের কথা জানার তো প্রশ্নই আসে না।
এরা আমার সন্তানদের মধ্যে বড়ো। আন্দ্রেস বলে। এতদিন সাকাতলানে বসবাস করেছে। কিন্তু আমি চাই এখন থেকে পুয়েব্লাতে থাকবে। আমাদের সঙ্গে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাবে।
মাথা উপর নিচ করে আমি সাই দিয়ে মেয়েকে দেখিয়ে ওদের উদ্দেশ্যে বলি, তোমাদের বোন। ওর নাম বেরানিয়া।
ওক্তাবিও কাছে আসে। জিজ্ঞাসা করে, এরকম বিরল নাম কেন?
আমার দাদির নামে নাম। আমি ওকে বলি।
তোমার দাদি? বলে বেরানিয়ার থুতনি ধরে আদর করে ওক্তাবিও। ও ছিল কালো চোখের আত্মবিশ্বাসী যুবক। অমায়িক হতে চাইলে আন্দ্রেসের মতো করে হাসত। মনে হচ্ছিল সে আমার বন্ধু হতে প্রস্তুত। কিন্তু মেয়েটির বেলায় অন্যরকম মনে হলো। সে চুপচাপ বাপের পাশে দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে। আমার প্রতি সুদৃষ্টিও দেয়নি। ওর চোখগুলো বিষণ্ন, ঠোঁটগুলো পাতলা। শরীরটা ভারি কিন্তু বুকদুটো ছোটছোটো। চারকোণা কোমর, পাছাটা সমান, পেট উঁচু। দেখে আমার লজ্জাই লাগে।
ওক্তাবিও আর মেয়েটা আমাদের সাথেই থাকতে শুরু করে। হঠাৎ করেই আমরা একটা পরিবার হয়ে যায়। তখন ভাবতাম, ভালোই হলো একদিক থেকে, আন্দ্রেস যখন থাকে না, তখন আমার সঙ্গী পেলাম। ওই রাতে ওকে প্রশ্ন করে ব্যতিব্যস্ত করে তুলি।
কোত্থেকে তোমার ছেলে মেয়েগুলি আসছে? আরো আছে?
এখনকার মতো এই দুজনই।
যখন সে জেনারেল মাসিয়াসের সাথে ১৯১৪ সালের প্রথম দিকে মেক্সিকো সিটিতে যায় তখন ওর মার সাথে পরিচয় ঘটে। মাদেরোকে ভিক্তোরিয়ানো উয়ের্তা হত্যা করার পর সাংবিধানিক সরকার পদত্যাগ করলে এক বৃদ্ধ পুয়েব্লার গভর্নর হয়। আমি সে সমন্ধে কিছুই জানতাম না। যেদিন ওর ছেলেমেয়েদের নিয়ে আসে সেদিন আন্দ্রেস আমাকে সব বলে। মাসিয়াসের বাড়ি ছিল সাকাতলানে। আসেনসিওদের মতোই মাসিয়াসরা ছিল চাষী। ওরা ফরাসিদের বিপক্ষে পোরফিরিও দিয়াস সৈন্যদের সঙ্গে মিলে লড়াই করেছে। তাতে করেই সে খুব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পৌঁছে যায় এবং বিরাট ধনী হয়ে যায়। বিপ্লবের সময় পুয়েব্লাতে ফিরে আসে আর ওখানেই নিরাপদ মনে করে। আন্দ্রেস ওর সাথে কাজে ঢোকে। সে সমস্ত কামলাদের বস ছিল। যেহেতু সে ছিল মাসিয়াসের পরিচিতের ছেলে আর খুব বুদ্ধিমান সে কারণে আস্তে আস্তে সে মাসিয়াসের বিশ্বাসী হয়ে ওঠে। যখন প্রেসিডেন্ট পুয়েরতা বৃদ্ধকে গর্ভনরের পদটা প্রস্তাব করে খুব আনন্দের সাথে সে গ্রহণ করে। আর সহকারি আন্দ্রেসকে তার সাথে পুয়েব্লাতে নিয়ে আসে। ছয় মাস গভর্নরের কাজ করে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। মেহিকোতে যায় চিকিৎসার জন্য। ওর সাথে আন্দ্রেসকে নেয় কারণ ও ছিল খুবই গোছানো এবং বিশ্বস্ত কুকুরের মতো ওর দেখাশুনা করত। চশমা হারিয়ে ফেললে কোথায় রেখেছে আন্দ্রেস জানত, জামাকাপড় কখন কি পরবে আন্দ্রেস শিখে নিয়েছিল, এমনকি টাকা পয়সার হিসেবও রাখত। জেনারেল তিন সপ্তাহ অসুস্থ থেকে ১৯১৪ সালের শুরুর দিকে মারা যায়। আন্দ্রেস মেক্সিকো সিটিতে বুরো মাসিয়াসের দেওয়া দুইে রৌপ্য মুদ্রা পকেটে নিয়ে কি বাল হচ্ছে চারপাশে না বুঝে মেক্সিকো সিটিকে একা হয়ে পড়ে।
শহরটি ওর ভালো লেগে যায়। মিসকোয়াকের দিকে এক খামারে কাজ পায়। নিজেকে অদৃষ্টের হাতে ছেড়ে দিয়ে ওখানেই থেকে যায়। ওর তখন আঠার বছর বয়স। পুয়েব্লাতে ফেরার কোনো ইচ্ছাই ছিল না। ওখানেই মিসকোয়াতে ইউলালিয়ার সাথে দেখা হয়। মাদেরোর সৈন্যদের সাথে সে এই শহরে এসেছিল। ওর বাবা রিফুহিয়ো নুনয়েস ছিল খুব সাধারণ সৈনিক। কিন্তু ভীষণ উচ্ছাকাঙ্ক্ষী। ইউলালিয়ার মনে আছে যে দুপুরে তারা মেক্সিকো সিটিতে পৌঁছায় সেদিন ট্রেনস্টেশন থেকে বড়ো প্লাজার দিকে হাঁটার সময় লোকজন হাততালি দেয়। ও আর ওর বাবা সাধারণ লোকের সাথে হাতহালি দিতে দিতে দাঁড়িয়ে পড়ে আর সেনর মাদেরো প্রাসাদের ভিতরে প্রবেশ করে।

ইউলালিয়ার বাবাও একই খামারে কাজ করত। সে একইসঙ্গে আশাবাদী এবং ত্যক্তবিরক্ত ছিল। সে নিশ্চিত ছিল যে বিপ্লব তাদের গবীর দশা থেকে টেনে তুলবে। পরাজিতের হাসিটা মেয়েটা বাবার কাছ থেকেই পেয়েছে। ওদের গরীব অবস্থা মোচন হওয়ার আগ পযন্ত ওরা গরুর দুধ দোয়াত আর আন্দ্রেস ঘোড়ায় টানা এক গাড়িতে করে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিত। যদিও ইউলালিয়ার দায়িত্ব দুধ দোয়ালেই শেষ হয়ে যেত, তারপরও ওর ভালো লাগত আন্দ্রেসের সঙ্গী হয়ে কলোনিয়ার হুয়ারেসে গিয়ে বড়ো বড়ো বাড়ির গেইটে টোকা দিতে। সেখানে কাজের লোকেরা কালো রঙের পোশাক পরে অথবা মাঝে মধ্যে ভীষণ সাদা রঙের মেয়েরা সিল্কের কাপড় পরে বেরিয়ে আসত। যে সৈন্যরা মাদেরোকে হটিয়ে দিয়েছে সেই সৈন্যদের কামান দিয়ে ধ্বংস করা বাড়িগুলো ইউলালিয়া আন্দ্রেসকে দেখায়। আন্দ্রেস তখনো খুব কমই বুঝত এসবের, তারপরও সে নিজেকে মাদেরর দলের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেয়। ওক্তাবিওর চোখের মতো চোখওয়ালা ছোটোখাটো শিক্তশালী মেয়েটা এক সকালে দুধ বিতরণ থেকে ফিরে এসে তার কুমারীত্ব আন্দ্রেসকে উপহার দেয়। আমি আরো বিস্তারিত জানতে চাই। আমাকে আশ্চয করে দিয়ে সব খুলে বলে। খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে দুধ দহন করে ওগুলো বিকাল পযন্ত বাড়ি বাড়ি পৌঁছে রাতে কফি খেতে খেতে বাবার মুখ থেকে বিস্তারিত শোনা পযন্ত দুজনে একই সঙ্গে থাকত। বাবা বলত, এমিলিয়ানো সাপাতা চিলপানচিঙ্গ দখল করেছে, উত্তরের বিপ্লবিরা তররেওনের কাছাকাছি চলে এসেছে। বিশ্বাসঘাতক উয়েরতা দন পরফিরিয়োকে যুদ্ধের জেনারেল বানিয়ে সমন জারি করে ওকে প্যারিসে পাঠিয়ে দিয়েছে।
ইউলালিয়ার বাবা এত সব কিভাবে জানত কেই-বা জানে! সে ভবিষ্যতবাণী করেছিল সমুদ্রপথে ইতুরবিদ বন্দরে ভেরাক্রুসে গ্রিঙ্গোরা এসে নামবে। আর দুয়েকদিনের মধ্যেই ইতুরবিদে ব্রিজের কাছে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফিরা করছিল বলে গ্রিঙ্গো মেরিনদের বন্দী করা হয়। এমনকি সে আগে থেকেই বলে দেয়, রক্তাক্ষয়ী যুদ্ধে চার হাজারেরও বেশি প্রাণনাশের মধ্য দিয়ে ভিয়া সাকাতিকাস দখল করবে। আর ঘটেও তা।
যেহেতু সে সবই দেখতে পেত, সে জানতে পারে ইউলালিয়া আন্দ্রেসের সন্তান বহন করছে। অনিবায বেদনার মধ্য দিয়ে সে যুদ্ধ এবং তার নাতির ভবিষ্যদ্বাণীকে এক করে ফেলে। ইউলালিয়া মেনে নেয় ওর শরীরে আস্তে আস্তে পরিবর্তন আসবে, পেট ফুলে উঠবে। কিন্তু তারপরও সে খুব ভোরে উঠে দুধ দোয়ানো ও আন্দ্রেসের সঙ্গে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিতরণের কাজ থেকে বিরত হয় না।

জুলাইয়ের এক সকালে দন রিফুগিও নুনেস এক বিশ্বাসঘাতকের পরাজয় কল্পনা করতে করতে ঘুম থেকে জেগে ওঠে। সিনেট ভিক্তোরিয়ানো উয়ের্তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে। ওখানেই শুরু হয় পুয়েব্লা, কেরেতারো, সালতিয়্যো, তামপিকো, পাচুকা মানসানিয়েলো, কর্দবা, হালাপা, চিয়াপাস, তাবাসকো, ক্যাম্পেচে এবং ইয়ুকাতানের পতনের পূর্বাভাস।
আজ জেনারেল অব্রেগন আসবে। পনেরোই আগস্ট সে বলে। ওকে সংবর্ধনা জানানোর জন্য তিনজন সকালো যায়।
যুবক আসেনসিওর ভালো লেগে যায় আলবারো অব্রেগনকে। সে ভাবে যদি কোনোদিন হাঙ্গামায় অংশগ্রহণ করে তাহলে ওর সাথেই করবে। কারণ ওকে দেখতে বিজিতের মতো লাগে।
কারণ তুমি সাপাতাকে দেখো নি। ইউলালিয়া ওকে বলে।
না, তবে আমি ঔ জায়গার উপজাতিদের চিনি। আন্দ্রেস উত্তর দেয়।
ওরা তর্ক করে না। সে তাকে নিয়ে কথা বলে নিজের সমপযায়ে। কিন্তু অন্য কোনো নারীকে তাকে এতটা গুরুত্ব দিয়ে কথা বলতে শোনা যায়নি। যখন বেনিস্তিয়ানো কারানসা মেক্সিকো সিটিতে আসে জেনারেলদের নিয়ে সম্মেলন করে দন রিফুগো ভবিষ্যৎবাণী করে যে বিলা এবং সাপাতা বৃদ্ধ কারানসাকে সমর্থন করবে না। আবারও সেটা ফলে যায়। আগুয়াস কালিয়েন্তেসে সম্মেলন সরিয়ে নেওয়া হলে বিলা আর সাপাটা ওখানে যায়। অক্টোবরের শেষের দিকে আয়ালার পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। দন রিফুগিও এই ঘটনা ঘটতে পারে বুঝতে পেরে মদ্যপান শুরু করে। আর যখন খবরটা ওর কাছে আসে তখন সে পুরো মাতাল। শুধু বারে বারে বলে, তোদের বলেছি, মাঠ আর মুক্তির জয় হয়েছে।
আপনি যা ইচ্ছা তাই বলতে পারেন, কিন্তু জেনারেল কাররানসার সাথে ওদের ঝামেলা পাকানো উচিত না। ইউলালিয়া ওর পেটে হাত বোলায় আর কফি তৈরি করে। ওর প্রিয় মানুষটার সাথে বাবার আলোচনা শুনতে পছন্দ করে।
নভেম্বরের প্রথম দিকে মেক্সিকো সিটি থেকে বের হয়ে সম্মেলনে সিদ্ধান্ত গৃহীত সমস্ত সিদ্ধান্ত কারানসা মেনে নিতে অস্বীকার করে। কিন্তু আগুয়াসকালিয়েন্তেসে তার কথার পাত্তা না দিয়ে সম্মেলন চলতে থাকে আর সমস্ত রিপাবলিকের জন্য অস্থায়ী ভিত্তিতে এক প্রেসিডেন্টের নাম উল্লেখ করা হয়। অন্যদিকে কারানসার সমর্থকদের সাথে যুদ্ধ চলতে থাকে।
২৩ তারিখে গ্রিঙ্গোরা ভেরাক্রুসকে জেনারেল কারানসার হাতে তুলে দেয়। কিন্তু ২৪ তারিখ রাতে উত্তরের সৈন্যবাহিনী মেক্সিকো সিটিতে ঢুকে পড়ে।

৬ই ডিসেম্বর ইউলালিয়া প্রসববেদনা নিয়ে ঘুম থেকে জাগে। তারপও ওর বাবা রিফর্মা আভেনিদায় বিয়া আর সাপাটার নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী সৈন্যদের কুচকাওয়াজ দেখতে যেতে মরিয়া হয়ে ওঠে।
পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি সৈন্যের এক বিশাল বাহিনী কুচকাওয়াজ করে। সেটি আরম্ভ হয় সকাল দশটায়, শেষ হয় বিকাল সাড়ে চারটায়। ইউলালিয়া রাস্তার মাঝখানে কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। ওর বাবা প্রসবে সাহাজ্য করে। ওকে পরিস্কার করে একটা চাদর দিয়ে জড়িয়ে দেয়। আন্দ্রেস সব পুরো ঘটনায় ইউলালিয়ার দিকে বোকার মতো তাকিয়ে ছিল। প্রত্যেকবার কোৎ দেয়ার সময় সে শুধুমাত্র বলতে পারে হে বিরহিন (কুমারি মাতা), হে বিরহিন। এতবার বলে যে যখন দন রিফুগিয়ও বাচ্চাটিকে গোসল করাচ্ছিল আন্দ্রেস ওর নাম বিরহিন রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু ব্যাপটাইজ করার সময় পাদ্রি জানায় এই নাম রাখা যাবে না। পরামর্শ দেয় কাছাকাছি নাম হিসেবে বিরহেনিয়া রাখতে, আর সেটা ওরা গ্রহণ করে।
প্রসবের আট দিনের মাথায় ইউলালিয়া বাচ্চাকে বুকে ঝুলিয়ে খামারে যায়। তখন তার মুখে এক বছর আগে যে হাসি ছিল তার চেয়ে উজ্জ্বল হাসি লেপটে ছিল। কারণ এমেলিয়ানো সাফাতাকে মার্চ করে যেতে দেখেছে এবং সাথে সাথে তার একটা পুরুষ আছে—আর চাইবার আর কিইবা থাকতে পারে!

অন্যদিকে আন্দ্রেস প্রতিদিন একই কাজ করে ও দারিদ্রতার মধ্যে হাঁপিয়ে উঠেছিল। ও ধনী হতে চেয়েছিল, সবার নেতা হতে চেয়েছিল, মিছিল দেখতে নয়, মিছিলের নেতৃত্ব দিতে চেয়েছিল। ও প্রতিদিন দুধ বিলি করে এসে দন রিফুগিয়োর ভবিষ্যৎবাণী শুনে মেজাজটা তিতো করে ফেলেছিল। যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয়তাবাদীরা দেশজুড়ে সংঘাতে লিপ্ত হয়। একদিন একদল এক প্লাসা দখল করত, পরের দিন অন্যদল এসে সেটা মুক্ত করত, একদিন এক আইন চলত, অন্যদিন অন্য জায়গায় সেটা চলত না। কারো কাছে মেক্সিকো সিটি ছিল রাজধানী, আরেকজনের কাছে ছিল বেরাক্রুস। কিন্তু আন্দ্রেস ভাবত জাতীয়তাবাদীদের একজনই নেতা ছিল, অন্যদিকে যুক্তফ্রন্টের এত বেশি নেতা যে এরা কখনো একমত হতে পারবে না। ব্যাপার হচ্ছে তুমি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করো না, ওর শশুর বলত।
আমার পযবেক্ষণশক্তি সবসময় খুব ভালো, উত্তর দিয়েছিল আন্দ্রেস।
যখন আমাকে ঘটনাটা বলছিল, তখন এভাবেই আন্দ্রেস বলে। আমি গণতন্ত্রে কিভাবে আস্থা রাখব? লেপটেনেন্ট সেগোবিয়া বলেছিল, যে গণতন্ত্রে দিক-নির্দেশনা নেই, সেটা কোনো গণতন্ত্র না।
জানুয়িারতে জাতীয়তাবাদীরা মেক্সিকো সিটিতে সরকার গঠন করে, কিন্তু মাসের শেষ দিকে আলবারো অবরেগন আবার শহর দখল করে নেয়। এবং ওদের সময় একটা বড়ো ঝড় এসে শহরের বিদ্যুতের খুঁটিতে আঘাত হেনে শহরটাকে অন্ধকারে ফেলে দেয়। অনেক গাছ শিকড়সহ উড়ে যায়। আন্দ্রেস, ইউলালিয়া, দন রিফুগিয়ো যে ঝুপড়ির মধ্যে থাকত, মাঝরাতে তার চাল উড়ে গিয়ে ওদের খোলা জায়গাতে ঠান্ডার মধ্যে ফেলে রেখে যায়। চালহীন থাকায় প্রথম দিকে ইউলালিয়ার খুব হাসি পায়। আর দন রিফুগিয়ো বক্তৃতা শুরু করে দেয় যে বিপ্লব ঠিক মতো হলে এই বেহাল দশা ঘটত না। যুবক আসানসিও সমস্ত রাত গালাগালি করে কাটায় আর প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়, মানুষের দয়ায় এভাবে শোচনীয় ভাবে আর কাটাবে না। স্প্যানিশ পাদ্রির সহকারি হিসেবে সে বিকালের শিফটে আরেকটা কাজ নেয়। কিন্তু এই কাজটা বেশিদিন টেকেনি, কারণ অব্রেগন সমস্ত রাজধানীর জাজকদের কাছ থেকে পাচ লাখ পেসোর একটা অনুদান ধায করে। আর যেহেতু তারা ওটা পরিশোধ করতে পারে না, সমস্ত জাজকদের গণকারাগারে নিয়ে যায়। আন্দ্রেস তখন খুব ধনী পাদ্রি হোসের সাথে ছিল, যে নাকি কবাদঙ্গা কুমারী মাতার শপথ করে বলছিলেন দেওয়ার মতো একটা পেসোও ওর হাতে নেই। অবরেগন মেক্সিকোর সকল পাদ্রিকে তাদের কারাগারে রাখে এবং বিদেশি পাদ্রিদের দেশত্যাগের শর্তে মুক্তি দেয়। পাদ্রি হোসে সোনাভর্তি সুটকেস নিয়ে তার উপসনার্থীদের ছেড়ে বেরাকুসের দিকে রওনা দিতে একদিনও দেরি করে না। অনন্ত পক্ষে ট্রেনে সুটকেস তুলে দেওয়ার সময় আন্দ্রেস সেরকমই মনে করেছিল।

অবস্থা খারাপ থেকে আরো খারাপ হতে শুরু করে। এমনকি গাভীরাও দুধ দেওয়া কমিয়ে দিলো। খাবার না পেয়ে তারা ক্রমশই আরো দুর্বল হয়ে পড়ে। ইউলালিয়া ও আন্দ্রেস সমস্ত শহর ঘুরে বেড়াত এক টুকরো রুটি ও কয়লার জন্য। মাঝে মাঝে তাও কপালে জুটত না। অনেকের এগুলো কেনার পয়সাও ছিল না।
মার্চে দন রিফুগিয়ো আর তার মেয়ের খাবার জোগাড় করতে রাতারাতি অবরেগনের সৈন্যদের তাড়িয়ে দিয়ে দক্ষিণের সৈন্যরা শহরে ফিরে আসে। ওদের পিছনে পিছনে আসে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট আর অধিকাংশ প্রতিনিধি।
ইউলালিয়া ও তার বাবা যতই আশার কথা বলত ওগুলোতে আন্দ্রেসের মনের অবস্থার কোনো পরিবর্তন ঘটত না। মরার উপর খাড়ার ঘায়ের মতো ইউলালিয়া আবার গর্ভধারণ করল। খামারে ওদের ঠিকমতো মাইনে দিত না, অনুপুস্থিত থাকলে বেতন কেটে রাখত। আন্দ্রেস ওর সঙ্গীনীর দিবাস্বপ্নকে ঘৃণা করতে শুরু করে। ওদের ত্যাগ করে চলে যেতে চেয়েছিল, বিশ বছর পরে সে বুঝে উঠতে পারে না, কেন সে যায়নি।
ইউলালিয়া নিশ্চিত ছিল যে যুক্তফ্রন্ট জানতে পারেনি সাধারণ জনগণ কি পরিমাণ ভোগান্তির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তাই সে যখন জানতে পারল লোকজন জড়ো হয়ে ভুট্টার দাবি নিয়ে খালি ঝুড়ি হাতে রাস্তায় নামছে, তখন সে এক মিনিটও দ্বিধা করেননি। আন্দ্রেস তার সাথে যেতে চাচ্ছিল না, কিন্তু যখন সে তাকে দরজায় দেখল তার চাদরে বাচ্চাটাকে জড়িয়ে নিয়ে মুখে উৎসবের হাসি নিয়ে বের হতে যাচ্ছে, সে তখন সঙ্গী হলো।
"ভুট্টা! রুটি!" খালি ঝুড়ি এবং ক্ষুধার্ত বাচ্চাদের ধরে জনতা চিৎকার করছিল। যখন তার স্ত্রী অন্যদের সাথে চিৎকার করে আন্দ্রেস বিড়বিড় করে নিজেকে ভুদাই বলে অভিশাপ দেয়, নিশ্চিত যে এভাবে তাদের কোনোই লাভ হবে না।
যুক্তফ্রন্টের এক প্রতিনিধি জনতার উদ্দেশ্যে ঘোষণা দেয় যে পাঁচ মিলিয়ন পেসো পর্যন্ত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিশ্চিত করা হবে।

"আমি তোমাকে বলেছিলাম, আমাদের খাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত হবে,"' ইউলালিয়া বলে পরের দিন যখন সে তার ঝুড়ি নিয়ে রাষ্ট্রপতি ঘোষীত রেশন থেকে ভুট্টা কেনার জন্য স্কুল অফ মাইনিং-এর দিয়ে রওনা হলো। এবার আন্দ্রেস তার সাথে যায় নি। সে তাকে যেতে দেখল বাচ্চাটিকে কোলে নিয়ে ও ফেটে পড়বে এমন পেট নিয়ে। নিজে রোগা, চোখের কোণে কালি কিন্তু, উজ্জ্বল সেই হাসি যা তার সব সময় মুখে লেগে থাকত। সে ভাবল ইউলালিয়া নিশ্চিত পাগল হয়ে যাচ্ছে, এবং সে মাটিতে বসে সিগারেটের গোড়া টানতে লাগল।
রাত হয়ে গেলেও ইউলালিয়া ফেরে না। আন্দ্রেস খুঁজতে বের হয়। স্কুল অফ মাইনিং-এ সে দেখল সৈন্যরা জুতা এবং ঝুড়ি কুড়াচ্ছে, পুরো প্রাঙ্গনে ভুট্টার একটি দানাও পড়ে নেই। দশ হাজারের বেশি মানুষ রেশন আনতে এসেছিল। মুষ্টিমেয় ভুট্টার জন্য ভয়ানক সংঘর্ষ বাঁধে; মানুষ পদদলিত হয়ে পিষ্ট হয়ে যায়, কমপক্ষে দুই শতাধিক অজ্ঞান হয়ে পড়ে: কেউ প্রায় শ্বাসরোধে, কেউবা রোদে পুড়ে। রেড ক্রসের অ্যাম্বুলেন্স তাদের নিয়ে গেছে।

চলবে…

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক