বাংলাদেশ

সংবিধান সংশোধনী বিল ফেরত পাঠানোর আবেদন

Byনিজস্ব প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইউনুস আলী আকন্দ সোমবার রেজিস্ট্রি ডাকে রাষ্ট্রপতির কাছে এই আবেদন পাঠান।

বিচারপতিদের অপসারণ ক্ষমতা আইনসভার হাতে ফিরিয়ে দিতে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংসদে পাস হয়। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সই দিলেই বিলটি আইনে পরিণত হবে।

এই বিলের বিরোধিতা করে আসা বিএনপিও রাষ্ট্রপতির প্রতি একই আহ্বান জানিয়েছে।

ইউনুস আলীর মতে, সংবিধানের ৮০ (৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতি সই না করে বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন। সম্মতি বা ফেরত না পাঠালে ১৫ দিন পর বিলটি সম্মতি পেয়েছে বলে গণ্য হয়।

রাষ্ট্রপতি ফেরত পাঠালে ৮০ (৪) ধারা অনুসারে সংসদ তা পুনর্বিবেচনা করবে। এরপর সংশোধনসহ অথবা সংশোধন ছাড়াই সম্মতির জন্য আবার রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে। এরপর সাত দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি তাতে সই করবেন। ওই সময়ের মধ্যে তিনি সই না করলেও রাষ্ট্রপতি সম্মতি দিয়েছেন বলে ধরে নেয়া হবে।

ইউনুস আলী আকন্দ তার আবেদনে বলেন, সংবিধান সংশোধনের এই বিলে ‘নানা ধরনের অসঙ্গতি’ থাকায় তাতে সম্মতি দেয়া রাষ্ট্রপতির উচিৎ হবে না।

“বিলটি পুনর্বিবেচনার জন্য তিনি সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন। ফেরত পাঠালে এই বিলটির অনুমোদন আটকে যাবে। সংসদ বিষয়টা আবার যাচাই বাছাই করবে। সংসদ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে নাও পাঠাতে পারে।

“অবশ্য সংসদ একই বিষয় আবারো রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠালে তিনি আর ফেরত পাঠাতে পারবেন না।”

এই আইনজীবী বলেন, সংবিধানের ৭ (খ) অনুযায়ী সংবিধানের মৌল কাঠামো পরিবর্তন করা যাবে না। বিচার বিভাগের স্বাধীনতাও মৌল কাঠামোতে রয়েছে। ৯৬ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন হয়ে গেলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হয়।

“তাই ৭ (খ) না বদলে ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধন করা যাবে না। বাহাত্তরের সংবিধানে ৯৬ অনুচ্ছেদ এভাবে ছিল, কারণ তখন ৭ (খ) ছিল না। এটা পঞ্চদশ সংশোধনীতে যুক্ত করা হয়েছে।”

ইউনুস আলী বলেন, “সংবিধানের এই সংশোধনীতে জনগণের কোনো ম্যান্ডেট নেয়া হয়নি। ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের আগে ইশতেহারে এই সংশোধনীর কথা বলেনি। এখনও নতুন করে কোনো গণভোট বা অন্য কোনোভাবে জনগণের সম্মতি নেয়া হয়নি।”

SCROLL FOR NEXT