সড়ক কি নিরাপদ হয়েছে?

২০১৮ সালের কথা। খালাত বোনের বিয়ে শেষে পাঁচ দিন পর উত্তরা থেকে খিলগাঁওয়ে আমাদের বাসায় ফিরছিলাম।

আবু হাসান নাহিয়ান (১৭), ঢাকাহ্যালো ডেস্ক
Published : 19 March 2022, 03:49 PM
Updated : 19 March 2022, 03:49 PM

সেদিনই এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীকে হারাই আমরা। এর প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক রাজপথে নামে তাদের সহপাঠী, বন্ধু এবং শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ মাধ্যম থেকে জানতে পারি সড়কে দুইটি বাসের প্রতিযোগিতায় প্রাণ দিতে হয়েছে তাদের। এই সংবাদের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে! পরের দিন থেকে ঢাকার বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে বন্ধু হত্যার প্রতিবাদে। স্কুল, কলেজ পেরিয়ে আন্দোলন পৌঁছে যায় বিশ্ববিদ্যালয়ে। শুরু হয় নিরাপদ সড়ক আন্দোলন।

সে সময় আমি অষ্টম শ্রেণিতে পড়তাম। ছোট ছিলাম কিন্তু বসে থাকিনি! আমি কেন বিবেকবান কোনো শিক্ষার্থীই বসে থাকেনি। আমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এবং আশেপাশের বড় ভাই ও বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করে জানতে পারলাম পহেলা অগাস্ট খিলগাঁও পুলিশ ফাঁড়িতে মানববন্ধন করা হবে।

এই কর্মসূচি সফল করতে পরিচিত সকলের সাথেই যোগাযোগ করি! কিন্তু হতাশ হই। যোগাযোগ করার পর দুই-তৃতীয়াংশ মানুষই বলে কী হবে আন্দোলন করে? দেশের সড়ককে তুমি বা তোমরা শুধরাতে পারবে? এভাবে মানসিক ভাবে একজনকে যদি কোনো বিষয়ে নিরুৎসাহ করা হয় তখন সেটা একটা আন্দোলনকারীর মনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

অনেক বন্ধুকেই বলেছিলাম আসতে কিন্তু আসেনি। কিন্তু যারা এসেছিল আমার ডাকে তারা সত্যিই বিবেকবান! সেদিন এত বেশি শিক্ষার্থী উপস্থিত হয় যে মানববন্ধন দিয়ে গোটা সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। সেদিন একজন পুলিশ কর্মকর্তা এসে বলেছিলেন, “কী করছ? তাড়াতাড়ি শেষ করে দাও।”

আমি তাকে শুধু একটাই কথা বলেছিলাম, আপনার ছেলে বা মেয়ে যদি সড়কে গাড়ির অসুস্থ প্রতিযোগিতার শিকার হয়ে প্রাণ হারাত, তাহলে কি এমন ব্যবহার করতে পারতেন?

সে সময় টানা তিন-চার দিন আমি আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম। সে সময় আমার বন্ধু ও পরিবার আমাকে খুব সাহায্য করেছে।

এই আন্দোলনে কোনো ভাংচুর বা কারো ক্ষতি করার কর্মসূচি ছিল না। শিক্ষার্থীরা সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে নানা ব্যতিক্রমী ভালো কাজের মধ্য দিয়ে। এই দাবির প্রতি আমার পরিবারের তাই সমর্থন ছিল। তাই তাদের তরফ থেকে বাধা ছিল না। 

আজও এই দাবি রয়েছে। পুরোপুরি থামেনি সড়কের নৈরাজ্য। সরকারের দায়িত্বশীল বিভাগ আমাদের চাওয়াকে আরও বেশি করে মূল্যায়ন করবে বলেই বিশ্বাস করি। আমাদের সাধারণ মানুষের মধ্যেও পরিবর্তন আসেনি। যত্র তত্র সড়ক পার হওয়া, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করাসহ  আইন ভঙ্গ করতে প্রায়ই দেখা যায়। সবার চেষ্টায় হয়ত একদিন পরিবর্তন আসবেই।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক