দিল্লির ধর্ষিতার নাম প্রকাশের পক্ষে তার বাবা

দিল্লিতে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাওয়া ছাত্রীর বাবা তার মেয়ের নাম প্রকাশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার নাম প্রকাশে যৌননির্যাতনের শিকার অন্যান্য নারীরা বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা পাবেন বলে তিনি মনে করেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 5 Jan 2013, 11:07 PM
Updated : 5 Jan 2013, 11:08 PM

দিল্লিতে ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাওয়া ছাত্রীর বাবা তার মেয়ের নাম প্রকাশের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তার নাম প্রকাশে যৌননির্যাতনের শিকার অন্যান্য নারীরা বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা পাবেন বলে তিনি মনে করেন।

রোববার যুক্তরাজ্যের সানডে পিপল সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলন্ত বাসের মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হন ফিজিওথেরাপির ওই ছাত্রী। তার সঙ্গে থাকা ছেলেবন্ধুকে পিটিয়ে আজ্ঞান করে ফেলে নিপীড়করা। পরে দুজনকেই পিটিয়ে চলন্ত বাস থেকে ছুড়ে ফেলে দেয়।

ঘটনার দুই সপ্তাহ পর সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান ওই নির্যাতিতা।

সানডে পিপলসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তার পিতা বলেন, “আমরা চাই বিশ্ব তার প্রকৃত নাম জানুক।”

“আমার মেয়ে কোনো অন্যায় করেনি, প্রতিরোধ করতে যেয়ে সে মারা গেছে।”

তিনি আরো বলেন, “আমি তাকে নিয়ে গর্বিত। তার নাম প্রকাশ করলে এই ধরণের নির্যাতন থেকে বেঁচে ফিরে আসা নারীরা সাহস পাবে। তারা আমার কন্যার কাছ থেকে শক্তি পাবে।”

সানডে পিপল নির্যাতিতার ও তার পিতার নাম প্রকাশ করে জানিয়েছে নির্যাতিতার পিতা তাদের নাম প্রকাশের অনুমতি দিয়েছেন। তবে নির্যাতিতার পরিবারের অনুরোধে নির্যাতিতার কোনো ছবি প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে সংবাদপত্রটি।

যৌনঅপরাধের জন্য নতুন আইন করে তা তার কন্যার নামে নামকরণের জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন এই পিতা।

১৬ ডিসেম্বরের ওই গণধর্ষণের রোমহর্ষকতায় পুরো ভারতজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা দেয়। বিক্ষোভে অচল হয়ে পড়ে ভারতীয় রাজধানী।

বিক্ষোভের মুখে জড়িতদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার ঘোষণা দেয় সরকার।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠণ করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষায়ও ঘটনার সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে।

সোমবার নয়াদিল্লির একটি আদালতে এ ঘটনার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। 

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক