নরেন্দ্র মোদির সরকারে সুষমা পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রভাব বাড়িয়ে চলা ভারতের নতুন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি দিয়েছেন সুষমা স্বরাজকে।

নিউজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 May 2014, 01:03 PM
Updated : 26 May 2014, 01:36 PM

এর মধ্য দিয়ে প্রথম নারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেল ভারত। দেশটির বর্তমান পররাষ্ট্র সচিব সুজাতা সিংও একজন নারী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ডেস্কের প্রধান যুগ্মসচিব সুপ্রিয়া রঙ্গনাথনও একজন নারী।

সোমবার সন্ধ্যায় মোদির সঙ্গে তার নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিজেপির নেত্রী সুষমা,যিনি পঞ্চদশ লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব পালন করেন।

৬২ বছর বয়সী সুষমা এবারের অর্থাৎ ষোড়শ লোকসভা নির্বাচনে মধ্য প্রদেশের বিদিশা থেকে পদ্মফুল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়লাভ করেন তিনি।

সুষমা স্বরাজ যখন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন, তখন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছে।

তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই এবং স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন গত সরকারের সঙ্গে অনেকটা এগিয়েছিল। তবে বিজেপি এই দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দেবে বলে ইতোমধ্যে জানিয়েছে।  

মনমোহন সিংয়ের সরকারে প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন পি চিদাম্বরম, পরে পালাক্রমে এই দায়িত্বে ছিলেন এস এম কৃষ্ণা ও সালমান খুরশিদ।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে হরিয়ানার মন্ত্রিসভার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর জাতীয় রাজনীতিতে স্থান করে নিয়ে এর আগেও কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন সুষমা।

অটল বিহারি বাজপাইয়ের সরকারে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। হরিয়ানা সরকারের শিক্ষা এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও ছিলেন সাতবারের এই পার্লামেন্টারিয়ান।

বিজেপির হয়ে অনেক ‘প্রথমের’ অধিকারী সুষমা স্বরাজ। প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী, দলের প্রথম নারী সাধারণ সম্পাদক এবং পার্লামেন্টারি দলের নেতার নির্বাচিত হন তিনি।

ভারতের পার্লামেন্টের প্রথম এবং একমাত্র নারী হিসেবে সেরা পার্লামেন্টারিয়ানের পুরস্কারও রয়েছে সুষমার ঝুলিতে। চারটি রাজ্য থেকে সরাসরি ১০টি নির্বাচনে অংশ নেয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

১৯৭০ সালে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের মাধ্যমে রাজনীতিতে হাতেখড়ি সুষমা স্বরাজের। পরে নাম লেখান জনতা পার্টিতে।

১৯৭৭ সালে জনতা পার্টির নেতৃত্বে হরিয়ানা সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন। এর দুই বছর পরই জনতা পার্টির হরিয়ানা রাজ্যের সভাপতি নির্বাচিত হন।

১৯৯০ সালে প্রথমবারের মতো রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন সুষমা। ১৯৯৬ সালে একাদশ লোকসভার সদস্য হন।

ওই বছর তিনি বাজপাই নেতৃত্বাধীন ১৬ দিন বয়সী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে লোকসভার অধিবেশন সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচার শুরু হয়।

১৯৯৮ সালে আবার একই মন্ত্রলায়ের দায়িত্ব পান সুষমা। ওই বছরই দিল্লির প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ত্যাগ করেন সুষমা।

সুষমা স্বরাজ্যের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা হচ্ছে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বিপক্ষে নির্বাচন করা। ১৯৯৯ সালে কর্নাটকের বেলারি আসনে তাকে সোনিয়ার বিরুদ্ধে দাঁড় করায় বিজেপি।

মাত্র ১২ দিনের প্রচারে তিনি সাড়ে তিন লাখের বেশি ভোট টানতে পারলেও রাজীব গান্ধীর স্ত্রীর কাছে হারতে হয়েছিল সুষমাকে।

২০০০ সালে রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে ভারতের পার্লামেন্টে ফেরার পর ২০০৩ থেকে ২০০৪ সালের মে পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৬ সালে আবার মধ্যপ্রদেশ থেকে রাজ্যসভার সদস্য নির্বাচিত হন এবং  ২০০৯ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভায় বিজেপির উপনেতার দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৯ সালে লোকসভার সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর ওই বছরই বর্ষীয়ান নেতা লালকৃষ্ণ আদবানির উত্তরসূরি হিসেবে লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা হন সুষমা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক