অর্থ আত্মসাৎ মামলায় উপ সচিব কারাগারে

মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্পের অর্থ-আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের এক মামলায় একজন উপ সচিবকে কারাগারে পাঠিয়েছে কক্সবাজারের একটি আদালত।

কক্সবাজার প্রতিনিধিবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 May 2017, 12:00 PM
Updated : 22 May 2017, 12:00 PM

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপ-সচিব মো. রুহুল আমিন এক সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ছিলেন। অদক্ষতা ও অসদাচরণের কারণে গতবছর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে সংবাদমাধ্যমে খবর এসেছিল।

হাই কোর্ট থেকে পাওয়া জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার কক্সবাজারের মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন বাড়ানোর আবেদন করলে বিচারক মো. তৌফিক আজিজ তা নাকচ করে এই কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

রুহুল আমিন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসকের দায়িত্বে ছিলেন ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

ওই সময় মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য মহেশখালী উপজেলায় ১ হাজার ৪১৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয় ২৩৭ কোটি টাকা।

এ মামলায় দুদকের আইনজীবী মো. সিরাজ উল্লাহ জানান, ওই সময় ২৫টি ‘অস্থিত্বহীন’ চিংড়ি ঘেরের তথ্য দিয়ে প্রায় ৪৬ কোটি ২৪ লাখ ৩ হাজার ৩২০ টাকা ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়।

এর মধ্যে ১৯ কোটি ৮২ লাখ ৮ হাজার ৩১৫ টাকা ক্ষতিগ্রস্তদের নামে ভুয়া চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা হয়। বাকি ২৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৫ হাজার ৫ টাকা উত্তোলনের জন্য পাঁচটি চেকও ইস্যু করা হয়।

ওই ঘটনায় এ কে এম কায়সারুল ইসলাম চৌধুরী নামে মাতারবাড়ির এক ব্যবসায়ী ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর তখনকার জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) জাফর আলমসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে অভিযোগ করেন।

এরপর আদালতের আদেশে দুদক এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত ৩ এপ্রিল রুহুল আমিনসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।

দুদকের আইনজীবী সিরাজ জানান, অর্থ-আত্মসাতের এ মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের জামিন পেয়েছিলেন সাবেক জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন। ওই জামিনের মেয়াদ শেষে তাকে দুই সপ্তাহের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট।

কিন্তু রুহুল আমিন তিন সপ্তাহ পর সোমবার আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বলে জানান এই আইনজীবী।

এ মামলার আসামি কক্সবাজারের সাবেক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাফর আলম বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব। তাকে গত ৮ মে ঢাকায় গ্রেপ্তার করে দুদক।

তার আগে গত ৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখার সাবেক উচ্চমান সহকারী আবুল কাশেম মজুমদার ও সাবেক সার্ভেয়ার ফখরুল ইসলাম কক্সবাজারে গ্রেপ্তার হন।