শুক্রবার এক
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধ সংক্রান্ত খসড়া আইন থেকে মৃত্যুদণ্ড
প্রস্তাব প্রত্যাহারের কথা জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
বিজ্ঞপ্তিতে
বলা হয়, নোট জালকারিদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে একটি সংবাদের প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের
দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। অসাবধানতাবশত পূর্ণ পর্যালোচনা ছাড়াই প্রস্তাবটি সরকারের কাছে
পাঠানো হয়েছিলো, যা এখন প্রত্যাহার করা হলো।
এর আগে জাল নোট প্রচলন প্রতিরোধ সংক্রান্ত খসড়া আইনে
১০ হাজার বা তার বেশি জাল নোট অথবা ১০ হাজার জাল নোট তৈরি করা যায় এমন পরিমাণ কাগজ,
কালি ও অন্যান্য সামগ্রী কারো কাছে পাওয়া গেলে তার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি
মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব রেখে তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় বাংলাদেশ ব্যাংক।
আর সর্বনিম্ন ছয় মাসের কারাদণ্ডের প্রস্তাব করা হয় ওই
খসড়ায়। এটি বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে যাচাই বাছাইয়ে রয়েছে।
খসড়া আইনের বিষয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমসহ
গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ব্রিটিশ সাময়িকি ইকোমিস্টও এ বিষয়ে একটি নিবন্ধ
প্রকাশ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ডের প্রস্তাব দেয়ার
পর তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা হয়। বিভিন্ন মহল থেকে বলা হয়, গভর্নর আতিউর
রহমান বাংলাদেশ ব্যাংককে মানবিক ব্যাংক হিসেবে গড়ে তোলার দাবি করা হলেও এমন আইনের
খসড়ায় তার প্রতিফলন পাওয়া যায় না।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, জাল নোট
বিষয়ক আইনে মৃত্যুদণ্ড দেয়ার প্রস্তাব করায় জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্দেস
ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কাজ করতে অসম্মতি জানায়।
মুদ্রা
জালিয়াতি ঠেকাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ফেক নোট এ্যানালাইসিস সেন্টার’ স্থাপনে
সহযোগিতা করার কথা রয়েছে বুন্দেস ব্যাংকের।
৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক দাশগুপ্ত অসীম কুমার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর
ডটকমকে বলেন, ঢাকায় ‘ফেক নোট অ্যানালাইসিস সেন্টার’(জাল নোট বিশ্লেষণ কেন্দ্র) করতে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বুন্দেস ব্যাংক সহযোগিতা দেবে।
এই বিশ্লেষণ
কেন্দ্র হলে মুদ্রার নিরাপত্তা বাড়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের দক্ষতাও বাড়বে বলেও
তিনি উল্লেখ করেন।
জাল নোট
নিয়ে বর্তমানে পাঁচ হাজারেরও বেশি মামলা ঝুলে আছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান।