bdnews24.com - Home http://bangla.bdnews24.com/ The RSS feed of bdnews24.com en Bangladesh News 24 Hours Ltd. 2017-07-06 19:43:16.0 2017-07-06 19:43:16.0 Home customGroupedContent 1 2 Home bangladesh_bn বাংলাদেশ news-bn 199 1367819 জয়ন্ত সাহা, নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জয়ন্ত সাহা, নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম 2017-07-21 23:27:31.0 2017-07-21 23:27:31.0 কপিরাইট: ‘আগে চাই’ অংশীজনের সচেতনতা কপিরাইট: ‘আগে চাই’ অংশীজনের সচেতনতা এক যুগ পর কপিরাইট আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও গীতিকার-সুরকার-শিল্পী, সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও লেখকরা উদ্যোগী না হলে তা কতোটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দিহান সরকারের কর্তাব্যক্তিরাই। এক যুগ পর কপিরাইট আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও গীতিকার-সুরকার-শিল্পী, সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও লেখকরা উদ্যোগী না হলে তা কতোটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দিহান সরকারের কর্তাব্যক্তিরাই। false http://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1367819.bdnews false http://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2017/07/21/copyright-office.jpg/ALTERNATES/w300/Copyright-Office.jpg
অংশীজনের পরামর্শ নিয়ে এরই মধ্যে সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে জানিয়ে কপিরাইট বোর্ড সভাপতি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মসিউর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ওই খসড়া আগামী ৩১ জুলাই আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন তারা।

তবে অংশীজনরা কপিরাইট নিয়ে সচেতন না হলে এ আইন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

মসিউর রহমান বলেন, “১২ বছর পর আইন সংশোধন হতে যাচ্ছে। কিন্তু যাদের জন্য এ আইন, তারা যদি না মানেন, তাহলে এটা কতটা কার্যকর করা যাবে?”

তিনি জানান, আইন অনুযায়ী কপিরাইট নিবন্ধন করা ঐচ্ছিক। লেখক, সুরকার, গীতিকার, সফটওয়্যার প্রকৌশলীরা যদি নিজেরা সচেতন হয়ে নিজেদের কাজের কপিরাইট নিবন্ধন না করান, তাহলে তাদের জোর করার সুযোগ নেই।

“তারা যদি সচেতন না হন, তাহলে সরকার রাজস্ব হারাতেই থাকবে। আর পাইরেসি রোধে আমাদের চেষ্টাও কাজে আসবে না।” 

এ পর্যন্ত কপিরাইট অফিসে মেধাসম্পদ নিবন্ধনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে কপিরাইট বোর্ড সভাপতি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তুলনায় এই হার নগণ্য।

“কপিরাইটযোগ্য মেধাসম্পদের হিসাব করা হলে শুধু এক বছরেই বাংলাদেশে মেধাসম্পদ রেজিস্ট্রেশন হওয়ার কথা ১৫ হাজারের বেশি। কিন্তু আমাদের দেশে এই হার গড়ে পাঁচশর কম। এটা ক্রমশই কমছে।এ কারণে সরকার বড় ধরনের রাজস্ব হারাচ্ছে।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মতো অনেক উন্নত দেশে জাতীয় আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মেধাস্বত্ত্ব বিক্রি বা রয়্যালিটি থেকে আসে জানিয়ে তিনি বলেন, “ঈদ মৌসুমে গানের বাজার, একুশে বইমেলার মৌসুমে প্রকাশক এবং সফটওয়্যার প্রকৌশলীররা মেধাস্বত্ব নিবন্ধন করলে সরকার বড় অঙ্কের রাজস্ব পেত। আর বিটিআরসির কোনো নীতিমালা না থাকায় মোবাইল অপারেটরদের থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।”

কপিরাইট নিবন্ধন করা হলে সৃজন কর্মের নৈতিক ও আর্থিক অধিকার অর্থাৎ মালিকানা সংরক্ষণ সহজ হয়। আইন অনুযায়ী কপিরাইট নিবন্ধন বাধ্যতামূলক না হলেও সৃজন কর্মের মালিকানা নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে ‘কপিরাইট নিবন্ধন সনদ’ প্রমাণপত্র হিসেবে আদালতে ব্যবহৃত হতে পারে।

মাত্র এক হাজার ৬০০ টাকার বিনিময়ে এই সনদপত্র নেওয়ার সুযোগ থাকলেও লেখক-শিল্পীরা তা করছেন না। বয়োজ্যেষ্ঠ ও হালের জনপ্রিয় অনেক শিল্পীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, নিজেদের স্বার্থরক্ষার এই সুবিধা সম্পর্কে জানেন না তারা।

শিল্পী-সুরকাররা বলছেন, মিউজিক কনটেন্ট প্রোভাইডারদের সঙ্গে লিখিত চুক্তির পর তারা একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পান। তারপর সেই গান নিয়ে কীভাবে ব্যবসা হচ্ছে সেই খবর রাখেন না।

কিছু দিন আগে ফরিদা পারভীনের অনুমতি ছাড়াই তার গাওয়া তিনটি গান বাজারে বিক্রি হওয়ার পর মেধাস্বত্ব নিবন্ধন করেন তিনি।

পরে তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেরিতে হলেও আমি আমার মেধাস্বত্ব সম্পর্কে সচেতন হয়েছি। আমার সহশিল্পীরাও আসবেন। আইনের সুবিধাটুকু নিতে সব শিল্পী সচেতন হয়ে উঠলে পাইরেসি বন্ধ হবে একদিন। আমাদের ঠকিয়ে অনেক ব্যবসা হয়েছে। আর না।”

আরেক জনপ্রিয় শিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনও সম্প্রতি দুটি গানের কপিরাইট রেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন।

তিনি বলেন, “এতদিন ধরে আমরা কপিরাইট নিয়ে সচেতন ছিলাম না। কনটেন্ট প্রোভাইডারদের সঙ্গে চুক্তি করতাম। আমরা জানতাম না কপিরাইট নিয়ে, আগ্রহী ছিলাম না।তবে কপিরাইট নিয়ে বিএলসিপিএসও সক্রিয় হচ্ছে। এবার কপিরাইট ইস্যুতে সংগীত শিল্পীরা কোনো ছাড় দেবে না।”

সংগীতশিল্পীদের অধিকার সুরক্ষায় ২০১৪ সালে গঠিত হওয়া বাংলাদেশ লিরিসিস্টস, কম্পোজার্স অ্যান্ড পারফর্মারস সোসাইটি (বিএলসিপিএস) অনেক দিন ধরেই অকার্যকর।

এ বিষয়ে বিএলসিপিএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত মোস্তফা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সম্প্রতি তারা এই সংগঠনটিকে কার্যকর করতে সক্রিয় হয়েছেন। এতে মুখ্য ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক।

সুজিত মোস্তফা বলেন, “শিল্পী-সুরকার, গীতিকারদের সচেতনতার অভাবে একদল মধ্যস্বত্বভোগী বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কপিরাইট আইনেও সমস্যা রয়েছে। কনটেন্টের ট্যারিফ স্টেক হোল্ডাররা কীভাবে কত অংশ পাবে, তা নিয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই। রয়্যালিটি নিয়ে হাজারো সমস্যা রয়েছে।”

তবে এই অভিযোগ মানতে নারাজ কনটেন্ট প্রোভাইডার মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশের (এমআইবির) সভাপতি নাজমুল হক ভুঁইয়া।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “নিশ্চয়ই কোনো লিখিত চুক্তি ছাড়া আমরা কারও গান রেকর্ড করি না। কপিরাইট আইন মেনেই সব চুক্তি করেই আমরা ব্যবসা করছি। হ্যাঁ, ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টির ক্ষেত্রে শিল্পী ও গীতিকাররা রয়্যালিটি মানি পাবেন। কিন্তু যখন তারা আমাদের সঙ্গে চুক্তি করছেন, তার ব্যবসায়িক দিকটি কিন্তু আমাদেরই হয়ে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে তাদের অভিযোগ তো টিকছে না। কপিরাইট করব কি না সেটা তখন আমাদের সিদ্ধান্ত।”

এ বিষয়ে কপিরাইট অফিসের রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, “লেখক-প্রকাশকদের কপিরাইট নিবন্ধন একান্ত ঐচ্ছিক। কপিরাইট নিবন্ধনের বিষয়ে তারা সচেতন না হলে সরকারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিল্পী-লেখকরা সচেতন হলে আমরা পাইরেসি রোধে অনেক এগিয়ে যাব।কপিরাইট অফিসকেও আরও বেশি কার্যকর করতে পারব।”

সম্প্রতি কপিরাইট বিষয়ক এক সভায় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মেধাস্বত্ব ইস্যুতে শিল্পীদের তেমন আগ্রহ না থাকায় পাল্লা দিয়ে বাড়ছে  পাইরেসি। পাইরেসি রোধে সরকারের নানা অভিযানও তাই সফলতার মুখ দেখছে না। 

হায়াৎ মামুদ, যতীন সরকারের মতো লেখকরাও বলছেন, কপিরাইট নিবন্ধন না হওয়ায় তাদের অনেক বই একাধিকবার পাইরেসি হচ্ছে। এ বিষয় নিয়ে প্রকাশকদের সঙ্গে বারবার কথা বলেও কোনো লাভ হচ্ছে না।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি ওসমান গণি বলেন, “কপিরাইটের বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে লেখকের উপর, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গ্রন্থস্বত্ব তাদের। তারা যদি সচেতন হয়ে ওঠেন তবে আমাদের বইয়ের পাইরেসি কমে যাবে। প্রায় অকার্যকর হয়ে থাকা কপিরাইট অফিসটি সক্রিয় হলে পাইরেসি কমবে অনেকটাই। আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের আরও কঠোর হওয়া উচিৎ।”

সফটওয়্যারের পাইরেসি নিয়ে সোচ্চার হলেও বিদ্যমান আইনে সফটওয়্যারকে সাহিত্যকর্ম হিসেবে দেখানোয় অসন্তোষ জানান বাংলাদেশ সফটওয়্যার সমিতির সভাপতি মোস্তাফা জব্বার। আইন সংশোধন করে ‘ডিজিটাল রাইটস’ নিশ্চিত হলে নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে একটি সংগঠন করবেন বলে জানান তিনি।

মোবাইল কনটেন্ট প্রোভাইডারদের সঙ্গে ক্রিয়েটরদের নানা দ্বন্দ্ব নিয়ে মোস্তফা জব্বার বলেন, ভ্যালু অ্যাডেড সার্ভিস গাইডলাইন চূড়ান্ত হলে রয়্যালিটি মানি ইস্যুর সুরাহা হবে।

মশিউর রহমান জানান, ১৯৬২ সাল থেকে ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত গত ৫৫ বছরে কপিরাইট অফিসে মেধাসম্পদ রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ১৫ হাজার ৮১টি।

২০১৫ সাল থেকে মাত্র দুটি শিল্পকর্ম, ১১টি সাহিত্যকর্ম, তিনটি সংগীত ও আটটি সফটওয়্যার নিবন্ধিত হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল প্রপার্টি রাইটস ইনডেক্স-২০১৬ অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী কপিরাইট সংরক্ষণে ১২৮টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৬তম। এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৯তম।

কপিরাইটকৃত কর্মের অর্থনৈতিক মূল্যমান সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত দেশে কোনো পরিসংখ্যান না হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন কপিরাইট বোর্ড সভাপতি।

তিনি বলেন, মেধাসম্পদের জগতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা করা গেলে তা দেশের জাতীয় আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

সে কারণেই আইন সংশোধনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সংশোধিত আইনে কপিরাইট আইন ভঙ্গের শাস্তি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এতে কপিরাইট অফিসের প্রশাসনিক ক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান রেজিস্ট্রার জাফর রাজা চৌধুরী।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, কপিরাইট অফিস এতদিন দেওয়ানি আদালতের আদলে কাজ করলেও এবার তারা ফৌজদারি অপরাধের বিচারের ক্ষমতা চাইছে।

বিদ্যমান আইনে কোনো লেখক বা প্রণেতার বই বা কোনো সৃষ্টিকর্ম কেউ নকল করলে তিনি দেওয়ানি ও ফৌজদারি উভয় প্রতিকার চাইতে পারেন। শাস্তি হিসেবে কপিরাইট ভঙ্গকারীর সর্বোচ্চ চার বছর এবং সর্বনিম্ন ছয় মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ দুই লাখ এবং সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এ শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ বছর ও সর্বনিম্ন এক বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ লাখ ও সর্বনিম্ন ১ লাখ টাকা জরিমানা। ফৌজদারি বিচার হয় দায়রা জজ আদালতে। এছাড়া জেলা জজ আদালতেও ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার চাওয়া যায়।

সংশোধনীতে কপিরাইট আইন লঙ্ঘনে শাস্তির বিধান বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে জানালেও এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেননি জাফর।

প্রচলিত আইনে কোনো প্রকাশক বই প্রকাশের ৬০ দিনের মধ্যে এক কপি জাতীয় গ্রন্থাগারে জমা না দিলে এক হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। খসড়া আইনে এই জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

]]>
1367818 http://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2017/07/21/copyright-office.jpg/ALTERNATES/w300/Copyright-Office.jpg
2 2 Home politics_bn রাজনীতি news-bn 198 1367694 জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম 2017-07-21 19:49:54.0 2017-07-22 00:35:16.0 ইউএনও নাজেহাল: সেই আ.লীগ নেতা বহিষ্কার ইউএনও নাজেহাল: ‘অতি উৎসাহী’ সেই আ. লীগ নেতা বহিষ্কার বঙ্গবন্ধুর ছবি কার্ডে ছাপানো নিয়ে ‘অতি উৎসাহী হয়ে’ ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা করা বরিশালের সেই নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।  বঙ্গবন্ধুর ছবি কার্ডে ছাপানো নিয়ে ‘অতি উৎসাহী হয়ে’ ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা করা বরিশালের সেই নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। false http://bangla.bdnews24.com/politics/article1367694.bdnews false http://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2017/07/21/saju-al.jpg/ALTERNATES/w300/saju-AL.jpg বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজু
বরিশাল  জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে কেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না তা জানতে চেয়ে নোটিস দেওয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় গণভবনে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভার পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “অহেতুক, অতি উৎসাহী হয়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলা করেছে ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র  অনুযায়ী তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।”

সাজুর করা মামলায় বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারিক সালমানের কয়েক ঘণ্টা হাজতবাস ও হেনস্তা নিয়ে সমালোচনার মধ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের এই সিদ্ধান্ত এল। 

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সংগঠনের শৃঙ্খলাবিরোধী ও গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ড সম্পাদন করায়’ অ্যাডভোকেট ওবায়েদ উল্লাহ সাজুকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত দলের কার্যনির্বাহী সংসদে গৃহীত হয়।

আওয়ামী লীগের উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িক বহিষ্কারাদেশ ও কারণ দর্শাও নোটিস শিগগিরই বরিশালে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ১৫ দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে।”

তারিক সালমান বরিশালের আগৈলঝাড়ার ইউএনও থাকাকালে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে ‘বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করে ছাপিয়েছিলেন’ অভিযোগ করে গত ৭ জুন মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ওবায়েদ উল্লাহ সাজু।

ওই মামলায় সমন জারির প্রেক্ষাপটে নির্ধারিত দিন বুধবার আদালতে হাজির হন তারিক সালমান। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বরিশালের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মো. আলী হোসাইন। একই বিচারক দুই ঘণ্টা পর ইউএনও তারিকের জামিন মঞ্জুর করেন।

এ বিষয়ে তারিক সালমানের ভাষ্য, “স্বাধীনতা দিবসে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এক  শিশুর আঁকা জাতির জনকের ছবি ব্যবহার করে স্বাধীনতা দিবসের  অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র ছাপা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুর প্রতি শিশুদের ভালবাসা সৃষ্টি এবং ছবি আঁকার প্রতি তাদের আগ্রহী করে তোলা।”

এই সেই আমন্ত্রণপত্র

এই সেই আমন্ত্রণপত্র

আওয়ামী লীগ নেতার অভিযোগ এবং তাতে ইউএনওর গ্রেপ্তার হওয়ার খবর গণমাধ্যমে এলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা শুরু হয়। 

সরকারি কর্মকর্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে সেখানে বলা হয়, “নজিরবিহীন ও মানহানিকর আদেশ প্রদান, আইনবহির্ভূত পুলিশি কার্যক্রম এবং তথাকথিত নামধারী স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে কঠোর আইনআনুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।”

তারিক সালমানকে গ্রেপ্তারের ওই ঘটনায় ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পর্যন্ত বিস্মিত হয়েছেন’ বলে তার উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বৃহস্পতিবার বিবিসি বাংলাকে জানান।

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বললেন, ক্লাস ফাইভের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে প্রতিযোগিতার আয়োজন করে এই অফিসার সুন্দর একটি কাজ করেছেন। এবং সেখানে যে ছবিটি আঁকা হয়েছে, সেটি আমার সামনেই আছে, আপনারা দেখতে পারেন। এবং এই ছবিটিতে বিকৃত করার মতো কিছু করা হয়নি। এটি রীতিমত পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। এই অফিসারটি রীতিমত পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য। আর সেখানে উল্টো আমরা তার সঙ্গে এই করেছি, এই বলে প্রধানমন্ত্রী তিরস্কার করলেন। বললেন, এটি রীতিমত নিন্দনীয়।”

]]>
1367693 http://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2017/07/21/saju-al.jpg/ALTERNATES/w300/saju-AL.jpg বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ওবায়েদ উল্লাহ সাজু 1367727 http://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2017/07/21/barisal-bangabandhu-card.jpg/ALTERNATES/w300/Barisal-Bangabandhu-card.jpg এই সেই আমন্ত্রণপত্র
3 2 Home politics_bn রাজনীতি news-bn 198 1367826 নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিজস্ব প্রতিবেদক, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম 2017-07-22 00:27:35.0 2017-07-22 01:44:53.0 খসরু সভাপতিমণ্ডলীতে, রেজাউল আইন সম্পাদক আ. লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে খসরু, আইন সম্পাদক রেজাউল আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু। তার জায়গায় দলের আইন সম্পাদকের পদে এসেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম। আওয়ামী লীগের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হয়েছেন সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু। তার জায়গায় দলের আইন সম্পাদকের পদে এসেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম। false http://bangla.bdnews24.com/politics/article1367826.bdnews false http://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2017/07/22/khasrurejaul_karim.jpg/ALTERNATES/w300/Khasru%2BRejaul_Karim.jpg আবদুল মতিন খসরু ও শ ম রেজাউল করিম
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ শুক্রবার রাতে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত অক্টোবর ২০তম জাতীয় সম্মেলনে কাউন্সিলরদের দেওয়া প্রদত্ত ক্ষমতাবলে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা তাদের মনোনীত করেছেন।”

আব্দুল মতিন খসরু গত ছয় বছর ধরে আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে আইনমন্ত্রী করা হয়েছিল তাকে। কুমিল্লা-৫ আসন থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন খসরু।

বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা ও জেলহত্যা মামলার আইনজীবী ছিলেন।

বর্তমানে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচিত সদস্য রেজাউল। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ছিলেন তিনি।

আওয়ামী লীগের ৮১ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটিতে এখনও সভাপতিমণ্ডলীর দুটি এবং কার্যনির্বাহী সদস্যের একটি পদ ফাঁকা রয়েছে।

]]>
1367825 http://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2017/07/22/khasrurejaul_karim.jpg/ALTERNATES/w300/Khasru%2BRejaul_Karim.jpg আবদুল মতিন খসরু ও শ ম রেজাউল করিম