bdnews24.com - Home https://bangla.bdnews24.com/ The RSS feed of bdnews24.com en Bangladesh News 24 Hours Ltd. 2017-09-13 09:34:43.0 2017-09-13 09:34:43.0 Home customGroupedContent 1 2 Home politics_bn রাজনীতি news-bn 198 1509878 গাজীপুর প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম গাজীপুর প্রতিনিধি, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম 2018-06-23 19:07:41.0 2018-06-23 19:09:51.0 এমন কর্ম করব সারা বিশ্ব মনে রাখবে: হাসান সরকার হয়রানি বন্ধ না হলে এমন কর্ম করব সারা বিশ্ব মনে রাখবে: হাসান সরকার কী সেই কর্ম তা স্পষ্ট করেননি গাজীপুরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী। পুলিশ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নেতাকর্মীদের ‘নির্বিচারে গ্রেপ্তার’ এবং বাড়িতে গিয়ে অভিযানের নামে হয়রানি করছে অভিযোগ করে পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার। false https://bangla.bdnews24.com/politics/article1509878.bdnews false https://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2018/06/23/masum-23-06-2018.jpg/ALTERNATES/w300/masum-23-06-2018.jpg
তিনি বলেছেন, “আমি এখনও আবেদন করব, আমি এখনও নিবেদন করব, আপনারা সেই শান্তির পরিবেশ রক্ষা করুন। আর তা যদি নয় হয় আমি পূর্বে একটা ঘোষণা দিয়েছি, আমি এমন একটা কর্ম করব যে তাতে সমাজের ক্ষতি হবে না, কিন্তু চিরদিন যেন এ বিশ্ব স্মরণ করে নির্বাচনের জন্য হাসান উদ্দিন সরকার ওই কর্ম করেছে।”

শনিবার নগরীর পূবাইল এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে তিনি বলেন, “আমাকে প্রশাসনিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। মামলা নেই তারপরও আমার লোকজনকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, হয়রানি করা হচ্ছে।”

এদিন সকালে ‘পুলিশি হয়রানি, গণগ্রেফতার ও ভয়ভীতি প্রদর্শন প্রসঙ্গে’ নির্বাচন কমিশনে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী।

হাসান সরকার বলেন, “আমার নেতা-কর্মীদের বাড়িতে গিয়ে অভিযানের নামে পুলিশ হয়রানি করছে। গেল রাতে গাছা এলাকা থেকে কাউছার নামের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা নগরীর পোড়াবাড়ি এলাকা থেকে আমার প্রচারণার দুটি মাইক ছিনিয়ে গেছে।”

নতুন মেয়র ও কাউন্সিলর পেতে আগামী ২৬ জুন ভোট দিতে যাচ্ছে গাজীপুরবাসী। নির্বাচন ঘিরে এখন প্রচার-প্রচারণায় সরগরম ঢাকার পাশের এই নগরী।

মেয়র পদে লড়ছেন সাতজন। ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন ২৫৬ জন, আর ১৯টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হয়েছেন ৮৪ জন। এই সিটিতে মোট ভোটার ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন।

মেয়র পদে দলীয় প্রতীকের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকারের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা প্রতীকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান হাসান সরকার।

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলব, আমরা যেন কলহ না করি, বিরোধ না করি, আমার যেন কারও সর্বনাশ করি। আমরা যেন শান্তির পথে চলি।

“২৬ তারিখ নির্বাচন হয়ে গেলে আমরা কিন্তু এখানেই একসাথে থাকব। রাজনীতি মানুষের কল্যাণের জন্য। রাজনীতির কারণে যদি মানুষের মধ্যে সমাজের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হয়, মুরুব্বিদের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হয়-সেটা রাজনীতি নয়।”

]]>
1509877 https://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2018/06/23/masum-23-06-2018.jpg/ALTERNATES/w300/masum-23-06-2018.jpg
2 2 Home politics_bn রাজনীতি news-bn 198 1509918 নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম 2018-06-23 19:47:06.0 2018-06-23 19:47:06.0 মুরুব্বি মানুষ, মিথ্যাচার করবেন না: জাহাঙ্গীর মুরুব্বি মানুষ, মিথ্যাচার করবেন না: হাসান সরকারকে জাহাঙ্গীর নির্বাচন ‘প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য’ গাজীপুর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ‘নানা রকম মিথ্যাচার’ করছে অভিযোগ করে তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। নির্বাচন ‘প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য’ গাজীপুর সিটি করপোরেশনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ‘নানা রকম মিথ্যাচার’ করছে অভিযোগ করে তা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। false https://bangla.bdnews24.com/politics/article1509918.bdnews false https://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2018/06/23/jahangir-23-06-2018-02.jpg/ALTERNATES/w300/jahangir-23-06-2018-02.jpg https://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2018/06/23/jahangir-23-06-2018-01.jpg/ALTERNATES/w300/jahangir-23-06-2018-01.jpg
প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে নিয়ে শনিবার তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “তিনি (হাসান সরকার) নির্বাচনের প্রথম দিন থেকে নির্বাচন কমিশন, সরকার ও সাধারণ মানুষকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।

“আমি বলব, উনি একজন মুরুব্বি মানুষ, মিথ্যাচার না করে মানুষের প্রতি সম্মান থাকা উচিত। মাঠে এসে মানুষের কাছে ভোট চাওয়া উচিত। ওনারা ৪০ বছরে কী করেছে, বাকী দিন কী করবে, সেটা মানুষের কাছে উত্তর দেওয়া উচিত।”

মেয়রের মতো বড় কোনো পদে প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে আসা ৩৯ বছর বয়সী জাহাঙ্গীরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের হাসান উদ্দিন সরকার।

৭০ বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার এরশাদের সামরিক শাসনামলে দুই দফায় জাতীয় সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি টঙ্গী পৌরসভা চেয়ারম্যান হিসাবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাসান এক মেয়াদে গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন।

আগামী ২৬ জুন নতুন মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচনের জন্য ভোট দিতে যাচ্ছে গাজীপুরবাসী। নির্বাচন ঘিরে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা শেষের আগের দিন শনিবার বৃষ্টির মধ্যেও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে গেছেন প্রার্থীরা।

মেয়র পদে সাত প্রার্থীর পাশাপাশি ২৫৬ জন সাধারণ কাউন্সিলর এবং ৮৪ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৫৭টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৯টি সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন।

শনিবার বৃষ্টিস্নাত দুপুরে নগরীর টঙ্গীর বড় দেওড়া এলাকায় গণসংযোগে গিয়ে পথসভার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম।

বৃষ্টির মধ্যে প্রচারে এসে জলাবদ্ধতার জন্য দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় স্থানীয় পরিষদে দায়িত্ব পালন করা বিএনপি নেতাদের দায়ীকে করেন তিনি।

গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর বলেন, “আমার সাথে যিনি বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন, উনি টঙ্গীর পৌরসভার দুইবারের মেয়র ছিলেন। জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন, দুইবারের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০১৩ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপির মেয়রই আছে। কোথাও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নাই, কোথাও চলার রাস্তার সুযোগ নাই, মানুষ খুব কষ্ট করছে।”

নির্বাচিত হলে গাজীপুরকে একটি বাসযোগ্য শহর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ প্রার্থী বলেন, “রাস্তাঘাট ক্লিন করতে চাই, ফুটপাত করতে চাই, ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে চাই, মানুষ যাতে নিরাপদে চলতে পারে। কিন্তু মানুষ এখানে হতাশায় ভুগছে। মানুষ এখানে যতবার ভোট দিয়েছে, ততবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”

বিএনপি কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ‘জনগণের কাছে আর ভিড়তে না পারায়’ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচনে নানা রকম অভিযোগ হাজির করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “তাদের প্রার্থী ঘরে বসে বসে বিভিন্ন সময় বিবৃতি দিচ্ছে। এখানে নাগরিকরা অবশ্যই সচেতন আছে।

“এখানে আবার ২৮৪ জন কাউন্সিলরও কিন্তু প্রার্থী রয়েছে। সবারই অধিকার আছে ভোট দেওয়ার। সুতরাং হুমকি দিয়ে লাভ হবে না, প্রেসনোট দিয়ে জনগণের কাছে যাওয়া যাবে না। কাজ হচ্ছে, সরাসরি কাছে গিয়ে তাদের প্রশ্নের উত্তর এবং ভবিষ্যতে তাদের জন্য কী করা হবে, সেটা জানানো।”

নির্বাচন ‘শতভাগ সুষ্ঠু’ হবে মন্তব্য করে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “হাজার হাজার মানুষ নির্বাচন পাহারা দেবে, সেখানে সুষ্ঠু না হওয়ার কোনো পথ নাই। পরিবেশ পরিস্থিতি মানুষের অনুকূলে আছে শতভাগ। যারা ভোট দিবেন তারা বৃষ্টি, রৌদ্র যেখানে যে অবস্থায় আছে, ঈদের মধ্যে যারা বাহিরে ছিল তারাও আজকে গাজীপুরে চলে আসছে।

“তারা আওয়ামী লীগ ও নৌকাকে ভোট দিতে চায়, তেমনি এলাকার উন্নয়নও চায়। আমি তাদের জন্য নিরাপদ, ক্লিন ও গ্রিন একটি শহর উপহার দিতে চাই।”

ভোট সুষ্ঠু হওয়ার জন্য ‘যা করার দরকার তা করতে’ দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া আছে বলে জানান তিনি।

এর আগে পথসভায় ভোটারদের উদ্দেশ্যে জাহাঙ্গীর বলেন, “আমি বলেছি, এমন একটি শহর গড়ে তুলতে চাই, যেখানে নারী-পুরুষ সমান মর্যাদা পাবে, সবার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

“আধুনিক শহর গড়ার জন্য আপনারা আমাকে নৌকায় ভোট দিন। আমি আপনাদের কর্মচারী হিসাবে কাজ করে আপনাদের অত্যাধুনিক শহর উপহার দিব।”

মেয়র পদে থেকে কোনো আত্মীয়করণ বা দলীয়করণ না করে ‘সবার জন্য বাসযোগ্য’ সিটি করপোরেশন গড়ে তোলারও অঙ্গীকার করেন তিনি।

]]>
1509917 https://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2018/06/23/jahangir-23-06-2018-02.jpg/ALTERNATES/w300/jahangir-23-06-2018-02.jpg
3 2 Home bangladesh_bn বাংলাদেশ news-bn 199 1509828 জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম 2018-06-23 17:38:54.0 2018-06-23 19:19:00.0 জনগণের কাছে যেতে হবে, নেতাকর্মীদের প্রতি হাসিনা জনগণের কাছে যেতে হবে, নেতাকর্মীদের প্রতি শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বর্ণনা করে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পথে মানুষের রায়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বর্ণনা করে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পথে মানুষের রায়কে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। false https://bangla.bdnews24.com/bangladesh/article1509828.bdnews false https://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2018/06/23/pm-4600.jpg/ALTERNATES/w300/PM-4600.jpg গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় বক্তব্য দেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে তাই দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ও ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

গণভবনে শনিবার আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন শেখ হাসিনা।

সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও জাতীয় কমিটির সদস্য, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, দেশের বিভিন্ন মহানগরের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সারা দেশের জেলা ও উপজেলা, পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে। এরপর বিএনপির বর্জনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শনিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে নবনির্মিত দলীয় কর্যালয় ভবনের উদ্বোধন করেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শনিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে নবনির্মিত দলীয় কর্যালয় ভবনের উদ্বোধন করেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

সংবিধান অনুযায়ী, দশম জাতীয় সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ সংসদ নির্বাচন হতে হবে। সেই হিসাবে, আগামী নির্বাচন হতে হবে ৩০ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে। সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

গণভবনের বর্ধিত সভায় শেখ হাসিনা একাদশ জাতীয় নির্বাচনেও জয়ী হওয়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “আগামী নির্বাচন আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে, যেনে এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার জয়লাভ করে সরকার গঠন করতে পারে।”

নির্বাচনে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি পরিহার করার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বদনাম নিতে চাই না, জনগণের মন জয় করেই কিন্তু ক্ষমতায় আসতে হবে।”

নেতাকর্মীদের দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগের দায়িত্ব অনেক বেশি। যাকে আমরা নৌকা মার্কা দেবে, যাকে আমরা নির্বাচনে প্রার্থী করবে তার পক্ষে সকলকে কাজ করতে হবে। আপনাদের এখন থেকে জনগণের কাছে যেতে হবে; নৌকা মার্কায় ভোট চাওয়ার জন্য। কে প্রার্থী, কে প্রার্থী না সেটা বড় কথা না। নৌকা মার্কায় ভোট চাওয়ার জন্য জনগণের কাছে যেতে হবে।

“সামনে নির্বাচন। এই কথাটা সব সময় মনে রাখতে হবে; নির্বাচন মানেই এটা চ্যালেঞ্জিং হবে। এটা কিন্তু আমাদের একটানা তৃতীয়বার…এই তৃতীয়বারের নির্বাচনে সকলকে কিন্তু এক হয়ে কাজ করতে হবে।”

সরকারের করা উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে শেখ হাসিনা তৃণমূলের উদ্দেশ্য বলেন, “এত কাজ আমরা করেছি, যে উন্নয়ন আমরা করেছি, এত উন্নয়ন করার ফলে মানুষ যে নৌকায় ভোট দেবে না, তা কিন্তু নয়। যদি না দেয়; তার জন্য দায়ী থাকবেন আপনারা তৃণমূল; এটাই আমার কথা। আপনারা সঠিকভাবে মানুষের কাছে যেতে পারেননি, বলতে পারেননি, বুঝাতে পারেননি, সেবা করতে পারেননি; সেইজন্যই.. নইলে এখানে হারার তো কোনো কথা না।”

বর্ধিত সভায় সভাপিতর বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, “এত উন্নয়ন কবে হয়েছে, কোন সরকার করতে পেরেছ? তবে কেন অন্য দল ভোট পাবে? যারা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত; সেই দল কেন ভোট পাবে, এই প্রশ্নের উত্তর আমি পাই না।”

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শনিবার সকালে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শনিবার সকালে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসলে দেশকে ধ্বংস করে দেবে বলে মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “দলের মধ্যে ঐক্য রাখতে হবে, ত্যাগের মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।”

‘দলের বদনাম করলে মনোনয়ন নয়’

আগামী নির্বাচনেও মহাজোট থাকার ঈঙ্গিত দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা মহাজোট করেছি, নির্বাচনের স্বার্থে করেছি…আগামীতেও করব, আমরা বন্ধু হারাব না।”

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যারা প্রার্থী হওয়ার জন্য কাজ শুরু করে দিয়েছেন তাদের সচেতন করে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি একটা জিনিস লক্ষ্য করছি; অনেক স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রার্থী হয়ে গেছেন। তারা প্রার্থী হয়ে, বিএনপি কী সন্ত্রাস করল, দুর্নীতি করল, লুটপাট করল; সেটা বলে না। তার বক্তব্য এসে যায়, আমার আওয়ামী লীগের এমপির বিরুদ্ধে, সংগঠনের বিরুদ্ধে।

“আমি এখানে একটা ঘোষণা দিতে চাই; কেউ যদি আমার দলের.. প্রার্থী হওয়ার অধিকার সকলেরই আছে। কিন্তু, সে প্রার্থী হতে যেয়ে আমার দলকে বদনামে ফেলবে; কোনো মতেই এটা আমি মেনে নেব না। এটা সবাইকে মাথায় রাখতে হবে। যে উন্নয়নের কাজগুলো করছি সেগুলো না বলে, সেগুলো ভুলিয়ে দিয়ে.. কার বিরুদ্ধে কী দোষ আছে; সেইটা খুঁজে জনগণের কাছে যারা বলবেন, তারা কখনো আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাবেন না, পরিষ্কার কথা। তারা কখনো আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাবেন না।”

নিজের কর্মব্যস্ত জীবনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা বলেন, আমার কী আছে? কোনো বিয়ে-শাদিতে যাই না, কোনো উত্সবে যাই না। আমি সারা দিনরাত দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

দলীয় প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতির জন্ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।ছবি: পিআইডি

দলীয় প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতির জন্ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।ছবি: পিআইডি

“আমি রেকর্ড করছি.. আজ ডিজটাল বাংলাদেশ। যে যখন বক্তৃতা দেন মোবাইল ধরলেই কিন্তু আমি শুনি। ম্যাসেজ আমি পড়ি। কোনো ম্যাসেজ বাদ যায় না। এখনো আমার মোবাইল ফোনে মনে হয় দিনে চারশ-পাঁচশ ম্যাসেজ আসে। আমি যখনই সময় পাই বসে বসে পড়ি আর সমস্যা সমাধানের চেষ্টা আমি করি।”

একই প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা আরও বলেন, “আমি এটাই বলব, যারা আমার দলের বিরুদ্ধ কথা বলবে, দলের বদনাম করবে; সে কী এটা বোঝে না যে, তার ভোটও নষ্ট হবে। সে তাহলে কোন মুখে ভোট চাইতে যাবে। পাঁচ বছর দশ বছর ক্ষমতায় থাকার পর সে যদি দলের বদনাম করে, জনগণ তো তাকেও ভোট দেবে না।”

সতর্কবার্তা সাংসদদের জন্যও

বর্তমান সংসদ সদস্যদেরও তাদের কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে সাবধান করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের যারা সংসদ সদস্য, তাদেরকে আমি বলব, একটা কথা মনে রাখবেন জনগণ কিন্তু খুব হিসাবী। কে দুর্নীতি করল, জনগণ কিন্তু সেটা মাথায় রাখে। কাজ করতে গেলে টাকা নিলে, এরপর ভোট চাইতে গেলে বলবে, ‘টাকা দিয়ে কাজ নিসি, ভোট দেব কেন?’ ”

নাগরিকদের বোকা না ভাবার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “জনগণের এখন কিন্তু চক্ষু খুলে গেছে। এখন ডিজিটাল যুগ। তারা এখন বিশ্বকে জানতে পারে। যারা সংসদ সদস্য…হাতে এখন খুব বেশি সময় নাই।”

‘প্রার্থী মনোনয়নে গুরুত্ব তৃণমূলের মূল্যায়ন’

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়নের ওপরও আগামীতে মনোনয়ন নির্ভর করবে বলেও স্মরণ করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

“আপনারা নমিনেশন পাবেন কী, পাবেন না; তা নির্ভর করে আপনার এলাকায় আপনারা কতটুকু জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছেন আর কতটুকু তৃণমূল পর্যায়ে আমাদের নেতাকর্মীদের কতটুকু মূল্যায়ন করেছেন; সেটাও কিন্তু আমি বিবেচনা করে দেখব।”

নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি ছোট বেলা থেকেই তো দেখেছি; আমার বাবা জেলের বাইরে থাকলে কী চেহারা আর ভেতরে থাকলে কী চেহারা। দুঃসময়ে আমার যারা নেতাকর্মী, দুঃসময়ে দলের হাল যারা ধরে রাখে, ওই দুঃসময়ের কর্মীরা তারা যেন অবহেলিত না হয়।”

নিজের পক্ষে জনসমর্থন বৃদ্ধিতে অন্য দলের নেতাকর্মীদের না ভেড়ানোর নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “এখন তো অনেকেই আসবে। আমি আরেকটা সার্ভে করে বের করছি; যেহেতু আমরা ক্ষমতায় বিভিন্ন দল থেকে অনেকেই ছুটে আসে, দলে আসতে। আর, গ্রুপ করার জন্য কোনো বাছ-বিচার নাই, যাকে পাচ্ছে তাকে নিয়ে নিজের শক্তি দেখাতে চায়।

“এরা আসে মধু খেতে, এরা আপনার সাথে থাকতে আসে না। এরা আপনার সাথে থাকতে আসে নাই, আপনার জন্য কাজ করতে আসে নাই। আর যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে; ভাবে যে এখানে আসলে মামলা থেকে বাঁচতে পারবে। আর, আসে কারা? যারা মনে করে ক্ষমতার সাথে থাকতে পারলেই তো পয়সা বানাতে পারব।”

মামলা থেকে রেহাই পেতেও অনেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিচ্ছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

“একটা সার্ভে আমরা পুরো বাংলাদেশে করেছি; কাদের কাদের বিরুদ্ধে মামলা আছে আর কারা আমার দলে আছে। সেই তালিকা কিন্তু আমার কাছে আছে। আমি বলব, কেউ যদি তাদের প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন, তাদের এখনই বিদায় করেন। কারণ তারা দুঃসময়ে থাকবে না। অনেকই আসবে আপনাদের মধ্যে কোন্দল করে খুন করবে.. নাম হবে দল দলকে খুন করেছে; এই দূরভীসন্ধি নিয়েও কিন্তু অনেকে আসে।

“এটা মনে করবেন; আপনার দলের লোক আপন না, বাইরের লোক আপন হয়ে গেছে, সে কিন্তু আপন হবে না। নিজের যারা তাদের চিনতে হবে। আওয়ামী লীগ সম্পদ গড়ার জন্য না, আওয়ামী লীগ জনগণের ভাগ্য গড়ার জন্য।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা আরো বলেন, “আমরা যে কাজ করেছি; তা তো বলতে হবে। ভোটের রাজনীতি করলে তো মানুষকে বলতে হবে, আপনার জন্য এই কাজ আমি করেছি, এই কাজ অব্যাহত রাখতে হবে।”

২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতাসীন হওয়ার পর কমিউনিটি ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “ওরা ক্ষমতায় আসা মানেই জনগণের জন্য দুর্ভোগ; এই কথাগুলো জনগণের কাছে বলতে হবে।”

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।

“আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি; এই বাংলাদেশে কোনো জঙ্গিবাদের স্থান হবে না, সাথে সাথে এই মাদকেরও কোনো স্থান হবে না। এই মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

শেখ হাসিনা তার বক্তব্যের শুরুতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবদুল হামিদ খান ভাসানী, প্রথম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, জাতীয় চার নেতা, গণতান্ত্রিক সংগ্রামে যারা জীবন দিয়েছেন এবং জাতির জনককে শ্রদ্ধা জানান।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এর আগে সূর্যোদয়ের ক্ষণে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও সারা দেশের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কর্মসূচি শুরু হয়।

শেখ হাসিনা সকালে ৯টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

]]>
1509825 https://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2018/06/23/pm-4600.jpg/ALTERNATES/w300/PM-4600.jpg গণভবনে আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় বক্তব্য দেন সভানেত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি 1509832 https://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2018/06/23/pm-4377.jpg/ALTERNATES/w300/PM-4377.jpg আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শনিবার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে নবনির্মিত দলীয় কার্যালয় ভবনের উদ্বোধন করেন দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি 1509831 https://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2018/06/23/pm-4265.jpg/ALTERNATES/w300/PM-4265.jpg আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শনিবার সকালে জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি 1509830 https://d30fl32nd2baj9.cloudfront.net/media/2018/06/23/pm-4307.jpg/ALTERNATES/w300/PM-4307.jpg দলীয় প্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতির জন্ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান।ছবি: পিআইডি